October 10, 2026, 8:49 pm
মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক (এসভিবি)। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে এত বড় একটি ব্যাংকের পতন যা নিয়ে পৃথিবীজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কী ঘটেছিল যে একটি ব্যাংক বন্ধ করে দিতে হলো? বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে এমন ঘটনা ঘটবে কি-না এ নিয়ে চলছে নানা অলোচনা-সমালোচনা।
কি ঘটেছিল এসভিবিতে?
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকটি কারণে এসভিবি এ অবস্থায় পড়েছে। তার মধ্যে অন্যতম যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলা নীতি সুদহার এবং গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি।
ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার এসভিপির সবগুলো শাখায় মোট ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলারেরও বেশি পরিমাণ অর্থ ছিল। কিন্তু গ্রাহকদের প্রায় সবাই টাকা তুলে নেওয়ার পর এখন অবশিষ্ট ছিল মাত্র ৯৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এমন পরিস্থিতি দেখে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক বন্ধ করে দেয়। এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতে চলে গেছে ব্যাংকের সব আমানতের দায়
বিভিন্ন মাধ্যম বলছে, মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাংকটির একদম বন্ধ হয়ে পড়ার মূল কারণ গুজব। গেল বুধবার হঠাৎ শোনা যায়, গুরুতর আর্থিক ঘাটতিতে ভুগছে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক। ঘাটতির পরিমাণ এতটাই যে, ব্যাংকের ব্যাল্যান্স শিটের কিনারা করতেই প্রয়োজন অন্তত ২২৫ কোটি ডলার। শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেয় ব্যাংকটি। এতে গ্রাহকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ গুজব ছড়িয়ে পড়তেই সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে টাকা তোলার হিড়িক পড়ে যায়। বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার পর্যন্ত হাজার হাজার গ্রাহক ব্যাংক থেকে তাদের টাকা তুলে নেন।
ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার এসভিপির সবগুলো শাখায় মোট ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলারেরও বেশি পরিমাণ অর্থ ছিল। কিন্তু গ্রাহকদের প্রায় সবাই টাকা তুলে নেওয়ার পর এখন অবশিষ্ট ছিল মাত্র ৯৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এমন পরিস্থিতি দেখে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক বন্ধ করে দেয়। এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতে চলে গেছে ব্যাংকের সব আমানতের দায়।
যেভাবে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়
যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণের বিপরীতে সুদের হার বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছিল দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম। এরপর সুদের হার বাড়ায় অনেক স্টার্টআপ শেয়ারবাজার থেকে টাকা তুলতে পারেনি। ব্যক্তি খাত থেকে অর্থ নেওয়াও তাদের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের অনেক গ্রাহক ব্যাংক থেকে টাকা তুলে তাদের নগদ অর্থের চাহিদা পূরণ করা শুরু করে।
তহবিলের ঘাটতি মেটাতে এসভিবি বৃহস্পতিবার জানায় যে তারা ২২৫ কোটি ডলারের সাধারণ সম্পদ বিক্রি করবে। এই খবরে এক দিনে ব্যাংকের শেয়ারের দাম ৬০ শতাংশ পড়ে যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। আমানতকারীরা অর্থ উত্তোলন করতে থাকেন
সংকটে পড়ে দায় মেটানোর অর্থ জোগাড় করতে ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার মূল্যের বন্ড বিক্রি করে, যেসব বন্ডের বেশির ভাগ ছিল ইউএস ট্রেজারি বন্ড। এই বন্ডে তারা সুদ পাচ্ছিল গড়ে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ, যদিও ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের বর্তমান সুদহার কমবেশি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। এ কারণে এসভিবিকে ১৮০ কোটি ডলার লোকসানে পড়তে হয়। এই ঘাটতি পূরণ করতে তার পুঁজি বাড়ানোর প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তহবিলের ঘাটতি মেটাতে এসভিবি বৃহস্পতিবার জানায় যে তারা ২২৫ কোটি ডলারের সাধারণ সম্পদ বিক্রি করবে। এই খবরে এক দিনে ব্যাংকের শেয়ারের দাম ৬০ শতাংশ পড়ে যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। আমানতকারীরা অর্থ উত্তোলন করতে থাকেন।
দেশে এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা আছে কি?
যুক্তরাষ্ট্রের মত এতো শক্তিশালী অর্থনীতির দেশে গুজবের কারণে একটি ব্যাংকের পতন হয়ে গেছে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর অবস্থা কি? এমন পরিস্থিতি হওয়ার আশঙ্কা আছে কিনা? হলে কীভাবে মোকাবিলা করবে- এসব বিষয় জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে যেসব ব্যাংক আর্থিক সমস্যায় আছে তার বেশিরভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত অর্থাৎ সরকারের মালিকানাধীন। এসব ব্যাংকে সংকট হলে সরকার সহায়তা দেবে। এটা নিয়ে খুব একটা চিন্তা বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। বেসরকারি খাতে কিছু ব্যাংকের সমস্যা আছে; তবে আমাদের যেটা করতে হবে তা হলো- এই দৃষ্টান্ত থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক হতে হবে। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
যেহেতু তাদের সঙ্গে এ দেশে সরাসরি কোনো ব্যবসা নেই তাই প্রভাব পড়ার শঙ্কাও নেই। তবে এ থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্ক হতে হবেতত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম
তিনি বলেন, এখন থেকে জানতে হবে কোথায় কি সমস্যা আছে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ কমাতে হবে, আদায় বাড়াতে হবে। খেলাপি ঋণ না কমালে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা দুর্বল হতে থাকবে। মূলধন ঘাটতি হবে তারল্য সংকটে পড়বে। আর যখন অর্থ সংকট দেখা দেবে তখন গ্রাহকের আস্থার সংকট সৃষ্টি হবে।
>> যে কারণে বন্ধ হলো সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক
বাংলাদেশে এর কোনো প্রভাব পড়বে কি-না জানতে চাইলে মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, যেহেতু তাদের সঙ্গে এ দেশে সরাসরি কোনো ব্যবসা নেই তাই প্রভাব পড়ার শঙ্কাও নেই। তবে এ থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্ক হতে হবে বলে জানান এ অর্থনীতিবিদ।
আগামীতে কেমন পরিস্থিতি হবে তা এখন বলা কঠিন। সংকটে পড়া ব্যাংককে সহযোগিতা করতে তাদের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা একভাবে কাজ করে আমাদের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা অন্যভাবে কাজ করে।