August 22, 2026, 1:46 am
শিল্প ঋণের চেয়ে কৃষি ঋণ বিতরণে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে অদূর ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে। সেই সংকট কাটাতে ফসল উৎপাদনের বিকল্প নেই। খাদ্যের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে বেশি বেশি ঋণ বিতরণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক আইএমএফসহ সকলেই কৃষি ঋনের উপর আরো গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ প্রান্তিক পর্যায়ের ঋণে ক্ষতির পরিমাণও অনেক কম।
এদিকে ৩১ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে চলতি অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বে ধান উৎপাদনে তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আম উৎপাদনে সপ্তম, আলু উৎপাদনে সপ্তম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম স্থানে রয়েছে। কৃষিতে ৪ ও ৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদে ঋণ দেওয়া হয়। সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদের কৃষি ঋণ বিতরণের সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয় শুধু কৃষি উৎপাদনে সম্পৃক্ত কৃষকদের জন্য। তবে এখন সেই ঋণ করপোরেট কোম্পানিতেও যাচ্ছে, যারা কৃষি ঋণ নিয়ে ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’ করছেন। এতে কৃষি খাতে অসম প্রতিযোগিতা ফুটে উঠেছে। বড় কোম্পানিগুলোর বড় অঙ্কের বিনিয়োগ চাপের বিপরীতে প্রান্তিক কৃষক কৃষি পণ্যর উৎপাদন খরচ ও বিপণনে কুলিয়ে উঠতে পারছে না।
সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কী ভূমিকা রাখতে পারে- এ প্রশ্নের উত্তরে মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমাদের কাছে নতুন হয়ে দেখা দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবসময় কৃষক ও কৃষিকে গুরুত্ব দেয়। এ বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হবে।”
ফসল ও সবজি চাষে চলতি অর্থবছরে ৩০ হাজার ৯১১ কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের মাধ্যমে ১১ হাজার ৭৫৮ কোটি এবং বেসরকারি ব্যাংক ১৯ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা বিতরণ করবে।
গত অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে কৃষি ঋণ বিতরণ করা হয় ২৮ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকার চেয়ে বেশি। গত অর্থবছরের বিতরণকৃত ঋণের ৩৩ লাখ ৪ হাজার ৮১১ জন কৃষি ও পল্লী ঋণের সুবিধা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ লাখ ৯৭ হাজার নারী নিয়েছেন ১০ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা। আর চর, হাওরসহ অনগ্রসর এলাকায় কৃষি ঋণ বিতরণ হয়েছে ১৯ কোটি টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলে জনসাধারণের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কৃষি নীতিমালায় কিছু বিষয় সংযোজন করা হয়েছে।
এরমধ্যে রয়েছে হাঁস পরিপালনের জন্য ঋণ নীতি; চিয়া বীজ, ত্বীন ফল, সুগার বিট চাষে ঋণ নীতি; ভিয়েতনামি হাইব্রিড নারিকেল, কফি ও সুইট কর্ন চাষের ঋণ নীতি; সামুদ্রিক শৈবাল চাষ ও মৎস্য খাতে গলদা চিংড়ি, দলবদ্ধভাবে ঋণ গ্রহণ ও একর প্রতি ফসল উৎপাদনে কৃষি ঋণ নীতি করা হয়েছে।
কৃষি ঋণ পেতে ভোগান্তি এড়াতে কৃষকদের জন্য ১০ টাকার ব্যাংক হিসাবে ঋণ চলে যাচ্ছে বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তারপরও কোনো অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আওলাদ হোসেন চৌধুরী ও জিএম আবুল কালাম আজাদসহ কৃষি ঋণ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন