October 16, 2026, 8:06 pm
আগামী ২৯ অক্টোবর রংপুরে অনুষ্ঠিত হবে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ। এর দুই দিন আগে ৩৬ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে জেলা মোটর মালিক সমিতি। সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ যানবাহনের চলাচল বন্ধের দাবিতে শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে এই ধর্মঘট।
পরিবহন ধর্মঘটের ডাক আসতে পারে— চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনার অভিজ্ঞতায় এমন আশঙ্কা ছিল বিএনপি নেতা-কর্মীদের। এ কারণে তারা আগেভাগেই রংপুর আসতে শুরু করেছেন।
শনিবার কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে রংপুর বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের দিন ধার্য রয়েছে। দিনটি ঘিরে নেতা-কর্মীদের নানা প্রস্তুতিও নিতে দেখা গেছে। যেকোনো উপায়ে গণসমাবেশ সফল করতে তাদের অনেকে ইতোমধ্যে রংপুরে অবস্থান করছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে এসে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা । তারা বলছেন, সরকার এর আগে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনায় গণসমাবেশ ঠেকাতে পরিবহন ধর্মঘটের নামে বাধা সৃষ্টি করেছিল। একই অবস্থা এখন রংপুরেও বিরাজ করছে। ধর্মঘটের বিষয়টি মাথায় রেখে অনেকে আগেই সমাবেশস্থলে এসেছেন।
ঈদগাহ মাঠে কথা হয় মোস্তাফিজুর রহমান ও রহিদুল ইসলাম নামে বিএনপির দুই কর্মীর সঙ্গে। তারা দুজন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের আজিজপুর গ্রাম থেকে সমাবেশস্থলে এসেছেন। সঙ্গে চিড়া-মুড়ি-কম্বলও নিয়ে এসেছেন তারা।
রহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হামরা জানি সরকার বাধা দেবে, ওই তকনে আগোতে চলি আসছি। বুধবার চাচাক নিয়্যা পাটগ্রাম থাকি ট্রেনোত করি রংপুর আসছি। আইতোত স্টেশনোতে ঘুমাইছি। আইজ সকালে হাঁটতে হাঁটতে মাঠোত চলি আসছি। হামার সাথে চিড়া, মুড়ি, কম্বল সোগে আছে। কষ্ট হইলেও সমাবেশ দেখি তারপর বাড়ি যামো।’
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাস বন্ধের আশঙ্কা থেকে আমরা তিনদিন আগেই রংপুর এসেছি। আমাদের মতো আরও অনেকেই আসছেন। যত সমস্যাই হোক আমরা রাতে মঞ্চের আশপাশে কম্বল বিছিয়ে ঘুমাব। সমাবেশের মাঠেই থাকব।’