October 13, 2026, 2:49 pm

৩ মাসে এক টাকাও খরচ করতে পারেনি ৩ মন্ত্রণালয়

৩ মাসে এক টাকাও খরচ করতে পারেনি ৩ মন্ত্রণালয়

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি বেড়েছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।

এডিপি বাস্তবায়নের গতি বাড়লেও এক টাকাও খরচ করতে পারেনি পররাষ্ট্র, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। তবে সর্বোচ্চ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে সবসময় পিছিয়ে থাকা স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ।

এ বিষয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘এডিপি বাস্তবায়নে শুরুর এই ইতিবাচক অবস্থা আমরা অর্থবছরের শেষ পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই। এই বাস্তবায়ন শেষ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারলে এবার আমরা এডিপি বাস্তবায়নের টার্গেট পূরণ করতে পারব বলে আমি আশাবাদী।’

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছর পররাষ্ট্র মন্তণালয়ের ৭টি প্রকল্পের জন্য এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ১০১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। কিন্তু গত তিন মাসে এক টাকাও খরচ করতে পারেনি তারা

এছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ১৪টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩০২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং স্বারাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের ১৮টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৪৮৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। তারাও খরচের খাতা খুলতে পারেনি।

বরাদ্দের এক শতাংশের কম ব্যয় করতে পেরেছে এক মন্ত্রণালয় ও চার সংস্থা। এরমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় খরচ করতে পেরেছে ৬১ লাখ টাকা যা বরাদ্দের মাত্র দশমিক ১০ শতাংশ। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যয় করতে পেরেছে মাত্র ৩ লাখ টাকা। যা বরাদ্দের মাত্র দশমিক ১৭ শতাংশ। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন ব্যয় করেছে ১০ লাখ টাকা যা মোট বরাদ্দের দশমিক ২৭ শতাংশ এবং অভ্যন্তরিন স¤পদ বিভাগ ব্যয় করেছে ৫৩ লাখ টাকা শতাংশের হিসেবে দশমিক ১৫ শতাংশ।

প্রথম প্রান্তিকে সর্বোচ্চ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। চলতি অর্থবছরে তাদের বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এরমধ্যে তারা খরচ করেছে ১ হাজার ৫৬৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। যা মোট বরাদ্দের ৬১ দশমিক ২৩ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে আইএমইডি। তারা বরাদ্দের ২৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ ব্যয় করেছে। টাকার অঙ্কে ৫৯ কোটি ১০ লাখ টাকা। মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ বরাদ্দের ২৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ ব্যয় করেছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় মোট বরাদ্দের ২১ দশমিক ১৩ শতাংশ ব্যয় করেছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় তাদের তিনটি প্রকল্পের বিপরীতে ব্যয় করেছে ৩১ কোটি ১৬ লাখ টাকা যা ২০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ব্যয় করেছে ৫৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৯টি প্রকল্পের বিপরীতে ব্যয় করেছে ২৬ কোটি ৬ লাখ টাকা। এডিপির মোট বরাদ্দের ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আইন ও বিচার বিভাগ বরাদ্দের ১৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছে যা মোট বরাদ্দের ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ মোট বরাদ্দের ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ, বিদ্যুৎ বিভাগ ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় তাদের ৯৬টি প্রকল্পের মোট বরাদ্দের ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ ব্যয় করতে পেরেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় বরাদ্দের ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ, সমাজ কল্যান মন্ত্রণালয় ৪ দশমিক ২৭ শতাংশ, ভুমি মন্ত্রণালয় ২ দশমিক ২৬ শতাংশ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।

চলতি অর্থ বছর এডিপিতে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মোট ১ হাজার ৪৯৬টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩ কোটি টাকা। এরমধ্যে প্রথম তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ২৪ হাজার ১৪৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকার। যা শতাংশের হিসেবে ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ।  গত বছর একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়ন হয় ১৯ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকার। শতাংশের হিসেবে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।

অর্থনৈতিক সংকট সামাল দিতে সরকার ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করেছে। যার ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্পগুলোকে এ, বি ও সি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এ শ্রেণির ৬৪৬টি প্রকল্পকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থাৎ চলতি এডিপিতে যা বরাদ্দ আছে, তার পুরোটাই খরচ করতে পারবে। বি শ্রেণিতে থাকা ৬৩৬টি প্রকল্পে বরাদ্দের ৭৫ শতাংশ খরচ করতে পারবে আর ৮১টি সি শ্রেণির প্রকল্প নামমাত্র বরাদ্দ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com