October 13, 2026, 2:00 pm
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাতটি কোম্পানির শেয়ারে কারসাজি করে ১৩৭ কোটি টাকা মুনাফা করে ১০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছিলেন। এবার আবুল খায়ের হিরুর আরেক কারসাজি ধরা পড়ল। আইপিডিসির শেয়ার নিয়ে কারসাজি করে আবার দেড় কোটি টাকা জরিমানার মুখে পড়েছেন বহুল আলোচিত-সমালোচিত আবুল খায়ের হিরু। সবমিলিয়ে ১২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা জরিমানা দিচ্ছেন তিনি। তবে আইপিডিসির শেয়ার কারসাজি করে কত টাকা মুনাফা করেছেন সমবায় অধিদপ্তরের প্রথম শ্রেণির এই কর্মকর্তা তা জানা যায়নি।
সম্প্রতি দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থার নিয়মিত বৈঠকে জরিমানার এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
জরিমানার বিষয়ে আবুল খায়ের হিরু বলেন, তিনি কোনো কিছু জানেন না। তার কাছে কোনো চিঠি যায়নি। তবে তিনি আইপিডিসির শেয়ার কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আবুল খায়ের হিরু বলেন, আইডিপিসি তো একটি ভালো শেয়ার, সেটা কিনলেও সমস্যা? ভাই আমরা তো পুঁজিবাজার ভালো করার জন্য কাজ করেছি। এ রকম করলে আর পুঁজিবাজারে ব্যবসা করা যাবে না।
যেকোনো দেশের পুঁজিবাজারে কারসাজিকে প্রশ্রয় দিলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেহেতু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের গবেষণা করে বোঝার সুযোগ থাকে না কোনটি ভালো শেয়ার। কোন শেয়ারের দাম কত হওয়া উচিত। ফলে কোনো শেয়ারের দাম বাড়তে থাকলে সেটা তারা কিনে ফেলেন। পরে শেয়ারের দাম কমে গেলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ জন্য বিশ্বের সব দেশেই শেয়ার নিয়ে কারসাজি করলে বড় জরিমানা করা হয়।
আইডিপিসির শেয়ার গত বছর এপ্রিলের ৪ তারিখে ছিল ২২ টাকা ৬০ টাকা। এরপর এই শেয়ার টানা বাড়তে থাকে। চলতি বছরের আগস্টের ২৫ তারিখে এই শেয়ারের দাম হয় ৭৬ টাকা ২০ পয়সা। এই সময়ে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ৫৩ টাকা ৬০ পয়সা বা ২৩৭ শতাংশ। কিন্তু এর পরই শেয়ারটির দাম কমতে শুরু করে, রোববার এই শেয়ারের দাম ছিল ৫৭ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ মাত্র দেড় মাসে শেয়ারটির দাম কমে যায় ১৮ টাকা ৬০ পয়সা বা ২৫ শতাংশ।
এর আগে এশিয়ান ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার নিয়ে কারসাজি করে আবুল খায়ের হিরু জরিমানা দিয়েছিলন ৭২ লাখ টাকা। গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার নিয়ে কারসাজির ঘটনায় জরিমানা ছিল ৪২ লাখ টাকা। ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার নিয়ে কারসাজি করে জরিমানা দিয়েছিলেন ৯৫ লাখ টাকা। এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ার নিয়েও কারসাজি করে জরিমানা দেন ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ফরচুন সুজ লিমিটেডের শেয়ার নিয়ে কারসাজি করে হিরুর বাবা আবুল কালাম মাতবর জরিমানা দেন ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বিডিকমের শেয়ার নিয়ে কারসাজিতে জরিমানা হয় ৫৫ লাখ টাকা। ওয়ান ব্যাংকের শেয়ারের দাম নিয়ে কারসাজি করে জরিমানা দেন ৩ কোটি টাকা।