October 16, 2026, 3:31 pm

জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারের যাত্রা শুরু

জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারের যাত্রা শুরু

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবজনিত সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। আমাদের দেশের জলবায়ু হটস্পট এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জীবন-জীবিকা বাধার সম্মুখীন হতে শুরু করেছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলেন, ক্লাইমেট চেঞ্জের বিরুপ প্রতিক্রিয়া দিন দিন বাড়ছে। এটা হঠাৎ করে আরো বাড়বে। এজন্য ভাবতে হবে, পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা গবেষনা করি না। টেকনোলোজির অভাব।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারের যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। গতকাল গাজীপুরের শ্রীপুরে সিসিডিবির নিজস্ব এই সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন সবুজ, সিসিডিবি ক্লাইমেট অ্যাডভাইজারি বডির কো-চেয়ার অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত, সিসিডিবি কমিশনের চেয়ারম্যান জনাব ডেভিড এ হালদার,সিসিডিবির নির্বাহী পরিচালক মিস জুলিয়েট কেয়া মালাকার, সিসিডিবি ক্লাইমেট অ্যাডভাইজারি বডির সদস্য ডঃ সালিমুল হক প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় পাঁচটি প্রধান বৈশিষ্ট্য নিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নে নিজস্ব ৫৭ একর জমির ওপর স্থাপিত বাংলাদেশের প্রথম ক্লাইমেট সেন্টার শুরু করেছে। বাংলাদেশের প্রধান পাঁচটি পরিবেশগত অঞ্চল-উপকূল, খরা, চরাঞ্চল, পাহাড়ি এবং হাওড় অঞ্চলকে উক্ত সেন্টারের অন্তর্ভুক্ত ক্লাইমেট পার্কে মডেল হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে। যা মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করার জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি ও পদ্ধতিগত সমাধানের উপায় প্রদর্শন ক’রে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। একটি জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত অভিযোজন, প্রশমন এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস সংশ্লিষ্ট ৭০টিরও বেশি সময়োপযোগী এবং ব্যবহারোপযোগী প্রযুক্তি প্রদর্শন ছাড়াও ক্লাইমেট সেন্টারে থাকছে- ক্লাইমেট লার্নিং সেন্টার, ডিজিটাল থিয়েটার, এক্সিবিশন জোন, কনফারেন্স হল, লাইব্রেরি, রিসার্চ সেন্টার এবং চিল্ড্রেন লার্নিং জোন; যা জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে সহায়তা করবে। ক্লাইমেট সেন্টারে গাইড ট্যুরের ব্যবস্থা থাকছে।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ।জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলা নিয়ে সারাবিশ্ব চিন্তিত। এটার প্রভাব মোকাবেলা করা আমাদের মতো দরিদ্র দেশের জন্য কষ্টসাধ্য। দরিদ্র মানুষেরা ঝুঁকির মধ্যে বেশি। তিনি বলেন, দরিদ্রপীড়িত মানুষেরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ। আর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলো কৃষি খাত। আমাদের জিডিপির একটা বড় অংশীদার হলো কৃষিখাত।

ড. আইনুন নিশাত বলেন, আমাদের সমস্যা হলো গবেষনা করি না। অন্যদেশ থেকে প্রযুক্তি কিনে আনি। বাইরে থেকে প্রযুক্তি এনে আমাদের জন্য কোনটা উপযুক্ত সেটা গ্রহণ করা। গবেষনা করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সুন্দর সুন্দর দলিল আছে। গ্রীন হাউজের প্রভাব কমানোর জন্য অনেক পরিকল্পনাও আছে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের নেতিবাচক প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। হঠাৎ করে আরো বাড়বে।তার জন্য কি করনীয় সেটা ভাবতে হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com