August 16, 2026, 4:56 pm

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ষড়যন্ত্র করছে টিআইবি : খাদ্য মন্ত্রণালয়

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ষড়যন্ত্র করছে টিআইবি : খাদ্য মন্ত্রণালয়

গম কেনা নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) দেওয়া বিজ্ঞপ্তির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের দাবি, টিএইবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ভুল তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে। বেশি দামে গম কেনার তথ্যটি সঠিক নয়। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ষড়যন্ত্র করছে টিআইবি।

সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, সম্প্রতি টিআইবির ‘বেশি দামে গম আমদানি’ শিরোনামে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। এখানে ভুল ও অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে। জনমনে এ ধরনের তথ্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। বিভ্রান্তি নিরসনে সঠিক তথ্য তুলে ধরা হলো।

টিআইবির বক্তব্য

গণখাতের ক্রয় আইন লঙ্ঘন করে রাশিয়া থেকে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) পাঁচ লাখ টন গম কেনায় তৃতীয় একটি পক্ষকে যুক্ত করা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা

খাদ্য মন্ত্রণালয় গণখাতে ক্রয় আইনের লঙ্ঘন করেনি এবং কোনো তৃতীয় পক্ষকে ক্রয় প্রক্রিয়ায় যুক্ত করেনি। কয়েকটি গণমাধ্যমের সংবাদে যে তৃতীয় পক্ষের নাম বলা হচ্ছে, সেটিকে রাশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে লোকাল এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কোনো তৃতীয় পক্ষ বাংলাদেশের গম ক্রয়ের নেগোসিয়েশন, মূল্যনির্ধারণ ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত ছিল না। জিটুজি কার্যক্রমে সরকার নির্ধারিত কমিটির সদস্যরা (বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের) বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে নেগোসিয়েশন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন এবং চার ঘণ্টাব্যাপী সভায় সর্বসম্মতভাবে গম কেনার সিদ্ধান্ত নেন।

নেগোসিয়েশনরে পর খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবটি ক্রয় কমিটিতে যায়। ক্রয় কমিটি বিস্তারিত আলোচনার পর অনুমোদন দেয়। এরপর খাদ্য মন্ত্রণালয় কার্যাদেশ দেয়। এখানে তৃতীয় কোনো পক্ষের অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।

টিআইবির বক্তব্য

বিশ্ববাজারে পড়তির দিকে থাকলেও ওই পক্ষের মাধ্যমে এ গম কেনা হচ্ছে বেশি দামে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা

বেশি দামে গম কেনা হচ্ছে- তথ্যটি সঠিক নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিনিয়ত গমের মূল্য ওঠানামা করে। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে গম সংগ্রহের বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। বাংলাদেশের গম আমদানির অন্যতম উৎস ভারত সরকারি ও বেসরকারি গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় গম আমদানি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অথচ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম চালানো, নিয়মিত অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গম সংগ্রহ অতীব জরুরি হয়ে পড়ে।

গমের নিরাপত্তা মজুত যেখানে কমপক্ষে দুই লাখ টন থাকার কথা, সেটা একপর্যায়ে ১ দশমিক ২৫ লাখ টনে নেমে আসে। বর্তমান মজুত ১ দশমিক ২২ লাখ টন। পার্শ্ববর্তী কোনো দেশ গম রপ্তানি করে না। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকে জিটুজি প্রক্রিয়ায় গম সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতি ক্ষেত্রে গমের দাম পাঁচশ ডলারের বেশি হওয়ায় সরকার সেখান থেকে গম কেনায় আগ্রহী হয়নি।

এ ছাড়া অতিদ্রুত গম কেনার কোনো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি। রাশিয়ার সঙ্গে গম আমদানির প্রথম নেগোসিয়েশন শুরু হয় ২০২২ সালের ২৩ জুন। সে সময়ে রাশিয়া গম সরবরাহে সম্মত হয়নি। তারপর সরকারি পর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়। তিন মাসের সফল কূটনৈতিক যোগাযোগের পর রাশিয়ার বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২৪ আগস্ট রাশিয়ার সঙ্গে গম আমদানির দ্বিতীয় নেগোসিয়েশন হয়। তখন রাশিয়ার গমের এফওবি মূল্য ছিল ৩৩০ মার্কিন ডলার। জাহাজভাড়া, লোডিং-আনলোডিং, বার্থ অপারেটর হ্যান্ডলিং, ইনস্যুরেন্স ও লাইটেনিংসহ সর্বমোট মূল্য নির্ধারিত হয় ৪৩০ মার্কিন ডলার, যা যুক্তিসঙ্গত ও সঠিক। সরকারি ক্রয় কার্যক্রমের সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ক্রয় কার্যক্রম অনুমোদন দেওয়া হয়।

একসঙ্গে পাঁচ লাখ টন গম দেশে এনে সংরক্ষণ করার সক্ষমতা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নেই। অন্যদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে রাশিয়া থেকে গম আনার জাহাজও এ মুহূর্তে পর্যাপ্ত নয়। জাহাজ মালিকেরা এ অঞ্চলে জাহাজ দিতে চান না।

রাশিয়া থেকে গম সরবরাহ কার্যক্রম চার মাস ধরে চলবে। তৃতীয় ও চতুর্থ মাসে গমের এফওবি মূল্য বাড়লেও রাশিয়া চুক্তি মূল্যে গম সরবরাহ করবে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এক পূর্বাভাসে বলেছে, আগামী বছর বিশ্বে খাদ্য ঘাটতি হতে পারে। সে কারণে জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে অগ্রিম সতর্কতা হিসেবে একসঙ্গে পাঁচ লাখ মেট্রিকটন গম কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাশিয়ায় গমের এফওবি মূল্য ছিল ৩৩৪ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার। প্রতিনিয়ত গমের এফওবি মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। আরও উল্লেখ করা যায়, জিটুজি’র আগের দুটি আন্তর্জাতিক দরপত্রে গমের ক্রয়মূল্য ছিল যথাক্রমে ৪৭৬ দশমিক ৩৮ এবং ৪৪৮ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার।

টিআইবির বক্তব্য

বিতর্কিত প্রডিনটর্গকে কার্যাদেশ দেওয়ার ঘটনায় আমরা হতবাক হয়েছি।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা

প্রডিনটর্গ রাশিয়ার গম রপ্তানির জন্য রাশিয়া সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ সরকার প্রডিনটর্গকে মনোনীত করেনি। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছর থেকে প্রতিষ্ঠানটি জিটুজি ভিত্তিতে বাংলাদেশে গম সরবরাহ করে আসছে।

টিআইবির বক্তব্য

মাত্র এক লাখ টন গম চুক্তি অনুয়ায়ী সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়া প্রতিষ্ঠান কোন জাদুবলে পাঁচ লাখ টন গম সরবরাহের কাজ পেল?

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা

রাশিয়া বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন ধরে জিটুজি কার্যক্রমে অন্যান্য দেশের ন্যায় গম সরবরাহ করে আসছে। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে প্রডিনটর্গ তিন লাখ টন গম যথাসময়ে নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশকে সরবরাহ করেছে।

২০২০-২০২১ সালে করোনাকালে দুই লাখ টনের চুক্তি ছিল।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com