October 13, 2026, 5:14 pm
আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির নানা উদ্যোগের পরেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমছে না।রিজার্ভের পরিমাণ হতে যাচ্ছে ৩৭ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে ৮ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় হিসেবে মজুত এ বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে সাড়ে ৪ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। বৈদেশিক রিজার্ভ নিয়ে বাংলাদেশ কি ভাবছি, সামনে এটা বাড়বে না কমবে এটা জানতে চেয়েছে বিশ্বব্যাংক। রিজার্ভ কমার কারণ কি? এটাও বিশ্বব্যাংক জানতে চেয়েছে বলে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।
সোমবার(১৯ সেপ্টেম্বর) পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলমের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল। এতে নেতৃত্বদেন সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়ার রিজেওনাল ডিরেক্টর ম্যাথিউ ভারগিস। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক আমাদের বাজেট সাপোর্ট দিচ্ছে। এটা দিতে গিয়ে বিশ্বব্যাংক আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা জানতে চেয়েছে আমরা কি অবস্থায় আছি। বৈদেশিক রিজার্ভ নিয়ে আমরা কি ভাবছি এটা বাড়বে না কমবে এটা জানতে চেয়েছে বিশ্বব্যাংক। সব থেকে জানতে চেয়েছে ক্ষুদ্র অর্থনীতি কোন অবস্থায় আছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আমরা কি কি পদক্ষেপ নিয়েছি। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রিজার্ভ যে কমলো এটা কমার কারণটা কি? এটা কিভাবে উঠাতে পারবো এই বিষয়ে সংস্থাটি জানতে চেয়েছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি কিভাবে কমাতে পারবো এটাও জানতে চেয়েছে বিশ্বব্যাংক।’
তিনি আরও বলেন, আমরা আগামী দিনগুলোতে বাজেট ও পরিকল্পনার সমন্বয়টা হচ্ছে কিনা। প্রকল্প প্রণয়নে কিভাবে সময়টা কমিয়ে আনতে পারি। প্রকল্প প্রণয়নে শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে বিশ্বব্যাংক জানতে চেয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের মূল্যস্ফীতি যতটা বৃদ্ধির কথা ছিল ততোটা বাড়েনি। খাদ্য পণ্য বেশি বাড়েনি। মূল্যস্ফীতি কমাতে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। অনেক আমদানি কমিয়েছি। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার যে ব্যবধান ব্যালেন্স অব পেমেন্টের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। এটা মেটাতেই রিজার্ভে হাত দিতে হয়েছে। চলতি বছরে জুলাই থেকে ভালো হচ্ছে। দুই মাসে ৩৫ শতাংশ হারে এক্সপোর্ট বেড়েছে। রেমিটেন্স অফিসিয়াল লাইনে ভালো হচ্ছে। প্রতি মাসে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মতো রেমিটেন্স পাচ্ছি। এক সঙ্গে ২ বিলিয়ন ডলার কখনো পায়নি। আমদানি কমছে কিন্তু রপ্তানি বাড়ছে। আমাদের অর্থনীতি ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা আমরা স্বস্তির দিকে যাচ্ছি। এক্সচেঞ্জ রেট বাজারের উপর ছেড়ে দিয়েছি। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারও স্থীতিশীল হবে। রিজার্ভ আর কমবে না। উৎপাদনশীল কোন খাত ব্যহত হয়নি। কৃষি ও শিল্পে সমানতালে উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদন ব্যবস্থা ঠিক আছে। বাইরে মূল্যস্ফীতি বেশি বলেই আমাদের এখানে বেড়েছে। দেশের পুরো অর্থনীতি আমাদের আয়ত্বের মধ্যে আছে।’
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক বলেছে বাজেটে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় কি করেছি। কিভাবে প্রকল্পে খরচ কমিয়ে সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন করা যায়। আমরা এই বিষয়ে কাজ করছি। গ্রিন ক্লাইমেট ফাইন্যান্সিং গ্রোথে জোর দেবে বাংলাদেশ। ডেল্টাপ্ল্যানও গ্রিণ গ্রোথের একটা অংশ। রেভিনিউ ১৬ শতাংশ বেড়েছে সামনে আরও বাড়বে। আমরা ভ্যাট আইনও সংস্কার করছি। তবে এসব বিষয়ে বিশ্বব্যাংক মৃদভাবে জানতে চেয়েছে, শর্তের কিছু বলেনি সংস্থাটি।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ২৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা ছাড় করার আগে তারা বেশ কিছু বিষয় জানতে চেয়েছে। এর মধ্যে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, রিজার্ভের অবস্থা, মূল্যস্ফীতি, ভ্যাট আইন সংসষ্কার, সিপিটিইউকে পাবলিক প্রকিউমেন্ট অথরিটি করার অগ্রগতি এবং প্রকল্প বাস্তবাংয়নে ধীর গতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। এর উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন থেকে কমে গেছে এটা চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আমাদের রপ্তানি বাড়ছে ২৫ শতাংশ হারে। আমদানি বাড়ছে ২৩ শতাংশ হারে। এক্ষেত্রে আমদানির রপ্তানি বাড়ছে। গত এক মাসে রেমিটেন্স এসেছে দুই বিলিয়ন ডলার। ফলে আমরা এখন স্বস্তি দায়ক অবস্থায় আছি । রিজার্ভের উপর চাপ কমবে। আমাদের বিনিময়ের মূল্য স্থিতিশীল আছে কোথায় উ’পাদন ব্যহত হয় নি।
তিনি আরো বলেন, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতেক বাইরের প্রভাব পড়েছে। আশাকরছি আগামীতে তা কমে আসবে। অর্থনীতি আমাদের আয়ত্তে আছে, তবে রিজার্ভ ধরে রাখতে আমাদের বাজেট সকহায়তা প্রয়োজন। প্রচুর বৈদেশিক ঋণ এবং সরাসরি বিনেয়োগ দরকার।
সরকারে উন্নয়ন প্রকল্পের গতি প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মেগা প্রকল্প সহ দেশের সব প্রকেল্পের গতি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আমরা গ্রিন গ্রোথে গুরুত্ব দিচ্ছি। তবে ব্যবস্থাপনার অদক্ষতাই প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে উন্নয়ন করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, নবায়ন যোগ্য জ্বালানি এবং নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মোঃ মামুন-আল-রশীদ, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য(সচিব) ড. কাওসার আহমেদ প্রমূখ।