October 16, 2026, 9:41 am
রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ক্রেন থেকে ১২০ টন ওজনের গার্ডার ছিটকে প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়নার গ্যাঝুবা গ্রুপ করপোরেশনের (সিজিজিসি) দায় দেখছে তদন্ত কমিটি। তারা নিরাপত্তার বিষয়টি বারবার লঙ্ঘন করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত চীনের দূতাবাসকে জানানো হবে।
এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নীলিমা আক্তার এ তথ্য জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আমাদের এই তদন্ত প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে যে, তারা (ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান) সেফটির বিষয়টি অনেকবারই লঙ্ঘন করেছে। এজন্য আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে জানাতে চাই। এটা তদন্তে আমরা বলেছি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত সচিব নীলিমা আক্তার বলেন, আমি এক কথায় বলতে চাই, দায় এড়ানোর প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশের নাগরিকদের মূল্যবান জীবন চলে গেছে, এক্ষেত্রে আমরা কোনোরকম কম্প্রোমাইজ করতে চাই না।
তিনি বলেন, এ ঘটনার জন্য কে দায়ী সেটা কিন্তু স্টেপ বাই স্টেপ আমাদের পরীক্ষা করে দেখতে হবে। সবগুলোর সঙ্গে একটা লিগ্যাল কানেকশন আছে। সে জিনিসগুলো আমাদের ফলো করতে হবে। এটা আপনারা এভাবে ভাবার কারণ নাই যে আমরা একটা চাইনিজ কোম্পানিকে দায়ী করে আমাদের দায় ছেড়ে দিচ্ছি। আমাদের নাগরিকের জীবন মূল্যবান। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এটা এভাবে ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে?
ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমরা এই জিনিসগুলোকে পরীক্ষা করে দায়টা ফিক্সড করতে চাচ্ছি যে কে কতটুকু দায়ী, বলেন অতিরিক্ত সচিব।
তিনি বলেন, আমাদের কাজটি প্রায় ৮০ ভাগ হয়ে গেছে। এখন আমরা শাস্তি দিতে পারি, তাদের বাতিল করে দিতে পারি। সেক্ষেত্রে আমরা যদি পুনরায় কন্ট্রাক্টর সিলেকশনে যাই তাহলে আমাদের জনগণকে আরও ভোগান্তির দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। কিন্তু ভোগান্তি এক জিনিস আর লাশ দেখা আরেক জিনিস। সেজন্য আমরা আর কম্প্রোমাইজ করছি না।
ব্রিফিংয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার একেএম মনির হোসেন পাঠান বলেন, সড়ক নিরাপত্তা যেকোনো কনস্ট্রাকশন কাজের অন্যতম সেফ গার্ড ইস্যু। এগুলো ছাড়া কোনো চুক্তি হয় না। চুক্তির মধ্যে ঠিকাদার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত ইস্যুগুলো নিশ্চিত করবে, তখনই সে কেবল তার কাজে যেতে পারবে। সেগুলো কনফার্ম করছে কিনা, সেটি যাচাই করার জন্য কনসালটেন্ট আছে, প্রজেক্ট পার্সন আছে। তারা যাচাই করে দেখবে সেফটি মেজারমেন্টগুলো ঠিক আছে কিনা, যদি সেগুলো ঠিকমত কাজ করে তাহলে সে কাজ করার অনুমতি পাবে। অন্যথায় পাবে না।
এছাড়াও প্রকল্পের মধ্যে আলাদা প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টশন ইউনিট আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দাতা সংস্থা এডিবির (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক) কনসালটেন্টও আছে। তারাও বিষয়গুলো মনিটরিং করে।