October 14, 2026, 2:43 am

রিজার্ভে চাপ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ৩ সিদ্ধান্ত

রিজার্ভে চাপ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ৩ সিদ্ধান্ত

বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামার পর অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই সূচকের ওপর চাপ কমাতে এক দিনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।ব্যাংকগুলো এখন তাদের আমদানির খরচ মেটাতে অফশোর ব্যাংকিং থেকে ঋণ নিতে পারবে। প্রথমবারের মতো এই সুযোগ দেয়া হয়েছে। আমদানি ঋণপত্র বা এলসি খোলার ২৪ ঘণ্টা আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে। ইআরকিউ হিসাবে জমা করা বিদেশি মুদ্রার ৫০ শতাংশ অনতিবিলম্বে নগদায়ন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আলদা এই তিনটি সার্কুলার জারি করা হয়।

অফশোর ব্যাংকিং বিষয়ে ফরেন এক্সচেঞ্জ ইনভেস্টমেন্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিদেশি মুদ্রা লেনদেনকারী স্থানীয় ব্যাংকগুলো তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করতে ছয় মাস মেয়াদের জন্য অফশোর ব্যাংকিংয়ের মোট মূলধনের ২৫ শতাংশ ঋণ নিতে পারবে। তবে এই অর্থ শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনি যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল এবং সরকারের আমদানি বিল পরিশোধে খরচ করতে হবে। এই সিদ্ধান্ত চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অফশোর ব্যাংকিং হলো ব্যাংকের অভ্যন্তরে পৃথক ব্যাংকিং সেবা। বিদেশি কোম্পানিকে ঋণ প্রদান ও বিদেশি উৎস থেকে আমানত সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে অফশোর ব্যাংকিংয়ে। স্থানীয় মুদ্রার পরিবর্তে বৈদেশিক মুদ্রায় হিসাব হয় অফশোর ব্যাংকিংয়ে। ব্যাংকের কোনো নিয়ম-নীতিমালা অফশোর ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োগ হয় না। কেবল মুনাফা ও লোকসানের হিসাব যোগ হয় ব্যাংকের মূল মুনাফায়।

এ ছাড়া রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে আরও দুটি আলাদা সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমদানি ঋণপত্র বা এলসি খোলা সংক্রান্ত সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিদেশি মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোকে এলসি খোলার ২৪ ঘণ্টা আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েব পোর্টালে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অপ্রয়োজনীয় আমদানি রোধ এবং আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার হচ্ছে কি না- সে বিষয়টি জানতে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সরকারি আমদানি ছাড়া অন্য যেকোনো আমদানি ৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি হলেই এই রিপোর্ট করতে হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ইআরকিউ বিষয়ক আরেক সার্কুলারে রপ্তানিকারকের রিটেনশন বা প্রত্যাবাসন কোটা (ইআরকিউ) হিসাবে জমা করা বিদেশি মুদ্রার ৫০ শতাংশ দ্রুত নগদায়ন করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে এই কোটার হিসাবে নতুন করে জমা রাখার হার অর্ধেক করা হয়েছে।

প্রচলিত ব্যবস্থায় প্রত্যাবাসিত রপ্তানি আয়ের নির্দিষ্ট অংশ ইআরকিউ হিসাবে জমা রাখা যায়। স্থানীয় মূল্য সংযোজনের মাত্রা অনুযায়ী রিটেনশন কোটার হার ১৫ শতাংশ কিংবা ৬০ শতাংশ হতে পারে। তবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এই হার ৭০ শতাংশ।

বৃহস্পতিবারের সার্কুলারে রিটেনশন কোটা হিসাবে বিদেশি মুদ্রা জমার মাত্রা ৫০ শতাংশ কমিয়ে যথাক্রমে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ এবং ৩৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তও চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামার পর বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে এক দিনে এই তিন পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেশ কিছুদিন ধরে চলা ডলারের অস্থির বাজারে ‘স্থিতিশীলতা’আনতে বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় দেশে ডলারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রপ্তানি আয় বাড়লেও তা ডলারের সংকট মেটাতে পারছে না। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডলারের দাম। এ জন্য রিজার্ভ থেকে ডলার ছেড়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিনিয়ত দামও বাড়াচ্ছে, দুর্বল হচ্ছে টাকা। এর পরও কিছুতেই বাগে আসছে না ডলারের তেজিভাব।
বাংলাদেশ ব্যাংক যে দামে ডলার বিক্রি করছে, বাজারে তার চেয়ে ৩-‍৪ টাকা বেশি দরে কেনাবেচা হচ্ছে। লে আমদানিকারকদের বেশি দামে ডলার কিনতে হচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com