October 16, 2026, 1:39 am

রূপপুরে একসঙ্গে কাজ করতে চান রুশ-ইউক্রেনিয়ানরা

রূপপুরে একসঙ্গে কাজ করতে চান রুশ-ইউক্রেনিয়ানরা

গত ১০ দিনে রাশিয়ার হামলায় তছনছ ইউক্রেন। রাশিয়ার আগ্রাসনে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে দেশটিতে। প্রতিদিনই নিহতের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। দেশে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি চললেও বাংলাদেশে নির্মাণাধীন সবচেয়ে বড় প্রকল্প পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত রাশিয়ান ও ইউক্রেনীয়রা যুদ্ধের আঁচ লাগাতে চান না।

দফায় দফায় হামলা-বিস্ফোরণে নিজের দেশ তছনছ হয়ে গিয়েছে। শেষ হয়ে গিয়েছে হাজার হাজার ইউক্রেনের জীবন। বাংলাদেশে থেকে এমন পরিস্থিতি তাদের হৃদয় ভেঙে দিলেও রাশিয়ানদের সঙ্গে বন্ধুর মতোই চলছেন ইউক্রেনীয়রা।

রূপপুরের কর্মরত শ্রমিক, দোকান ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা আগের মতোই একসঙ্গে চলাফেরা করছেন। একই সঙ্গে শপিং করছেন, বাজার করছেন, হোটেল-রেস্টুরেন্টে খাওয়াদাওয়া করছেন। তবে তাদের মধ্যে দেশ ও দেশের মানুষদের নিয়ে উদ্বেগ দেখা গেছে। স্থানীয় দোভাষীদের কাছে পরিবার-পরিজন নিয়ে চিন্তার কথাও জানিয়েছেন অনেক ইউক্রেনীয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আসিফ জামান ও মারুফ জোয়ার্দার জানান, রাশিয়া-ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হলেও রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত রুশ-ইউক্রেনীয় নাগরিকদের মধ্যে কোনো প্রকার সহিংসতার ভাব দেখা যায়নি। তবে পরিবার-পরিজন নিয়ে চিন্তিত থাকতে দেখা গেছে তাদের। তবু একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন দুই দেশের কর্মরত কর্মকর্তা ও শ্রমিকরা। হোটেল-রেস্টুরেন্টে তারা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে চলছেন।

রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ান নাগরিক দিমা বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দুই দেশে যুদ্ধ চললেও এখানে কোনো প্রভাব নেই। স্বাভাবিক নিয়মেই আমাদের কাজ সম্পাদন করে যাচ্ছি।

ইউক্রেনীয় নাগরিক স্লেভেনি বলেন, আমরা যুদ্ধের পক্ষে নই, শান্তির পক্ষে। যদিও আমরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছি, আমাদের মন পড়ে আছে আমাদের দেশে। আমি চাই এ যুদ্ধ থেমে যাক। এখানে কোনো প্রভাব না পড়লেও পরিবার নিয়ে চিন্তিত আমরা।

তবে এ বিষয়ে প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস বলেন, এখন পর্যন্ত রাশিয়ান ও ইউক্রেনিয়ানরা আগের মতেই একে অপরের সঙ্গে বন্ধুর মতো চলছেন, কাজ করছেন। যুদ্ধের প্রভাব তাদের মধ্যে লক্ষ করা যায়নি। তবে পরিবার-পরিজন নিয়ে চিন্তা-উদ্বেগ থাকাটা খুবই স্বাভাবিক।

তবে তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিজেদের মধ্যে কোনো ধরনের মনোমালিন্য যেন না হয়, সে জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে।

সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভার্চুয়ালি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন রূপপুর প্রকল্পের ভেতর রাশিয়া ও ইউক্রেনের নাগরিকদের ওপর বিশেষ নজর রাখা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাব তাদের ওপরও পড়তে পারে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। এ সময় বেলারুশিয়ানদের বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে রূপপুরে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধে প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রসাটম। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রাশিয়ান এই প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং কাজের শিডিউলে কোনো বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না।

রসাটম জানায়, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে অচলাবস্থার আশঙ্কা নেই। এই ইস্যুতে রূপপুর প্রকল্পে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না। নির্ধারিত সময়েই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৩ সালেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালুর কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে রূপপুরে। এতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ২২ হাজার ৫২ কোটি ৯১ লাখ ২৭ হাজার টাকা আর রাশিয়া থেকে ঋণসহায়তা হিসেবে আসছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com