August 18, 2026, 6:36 pm

মিথ্যা তথ্য দিয়ে অতিমূল্যায়িত সোনালী পেপার, শঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা

মিথ্যা তথ্য দিয়ে অতিমূল্যায়িত সোনালী পেপার, শঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলসের সম্পদ মূল্যায়নে গড়মিল পাওয়া গেছে। এরফলে, কোম্পানিটিতে বিশেষ নিরীক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ইউনুস গ্রুপ অফ কোম্পানির একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হলো সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস। কোম্পানিটির নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় কেনা ১ হাজার ১৫০ শতাংশ জমির দাম দেখানো হয়েছিলো ৫১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকায়। অথচ কোম্পানিটি এই পরিমাণ জমি কেনে মাত্র ১ কোটি ১৩ লাখ টাকার বিনিময়ে। ২০১৬ সালে এসএইচ খান অ্যান্ড কো. নামক একটি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট প্রতিষ্ঠান এই সম্পদের মূল্যায়ন করে বলে জানা যায়। ইতিমধ্যেই কমিশন এর প্যানেল নিরীক্ষকদের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এখন শেয়ার নিয়ে বড় হোচট খাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। অতিমূল্যায়িত কোম্পানির শেয়ারদর যে কোন সময় পড়ে যেতে পারে।

বিএসইসি কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন বিজনেস নিউজকে বলেন, আমরা বিভিন্ন কোম্পানিতে অডিটর নিয়োগ করি। রুটিন ওয়ার্কের মধ্যেই পড়ে এ কাজ। এখানেও তাই হয়েছে। অডিটর এই কোম্পানির সমস্ত কিছু অডিট করে কোম্পানিটির মূল সম্পদ মূল্যায়ন করবে। যদি এখানে কোন ধরণের অন্যায়ের আশ্রয় নেয়া হয় তবে কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সূত্রমতে, সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস বেশ কিছু বছর আগে নারায়নগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো নামক এলাকায় ১ হাজার ১৫০ শতাংশ জমি ক্রয় করে। সম্পদ মূল্যায়নের জন্য ২০১৬ সালে নিরীক্ষক দিয়ে জমির দাম অতি মূল্যায়ন করে কোম্পানির অবস্থা ভালো দেখায়।

জমির দাম অতি মূল্যায়িত করার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে সোনালী পেপারের কোম্পানি সেক্রেটারি রাশেদুল হোসাইন বলেন, জমির মূল্যায়ন করা হয়েছিল ২০১৬ সালে। যারা মূল্যায়ন করেছিল তারাই ভালো বলতে পারবে।

২০২০ সালের ২৬ জুলাই কোম্পানিটির লেনদেন পুনরায় শুরু হয় দেশের দুই পুঁজিবাজারে। এর আগে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে ওভার দ্যা কাউন্টার বা ওটিসি মার্কেটে ছিল সোনালী পেপার। নতুন করে মূল বাজারে লেনদেন শুরুর আগে কোম্পানিটিকে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিগত ২০২০-২১ অর্থবছরে আলোচিত এ কোম্পানিটির ২৩৫ শতাংশ মুনাফা বৃদ্ধি হয়েছে দেখায়। অথচ কোম্পানিটির আয় বাড়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ।

একই অর্থবছরে কোম্পানির বার্ষিক আয় দাঁড়ায় ১৪১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা যা এর আগের অর্থবছরে ছিল মাত্র ৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এর আগের ৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল এ আয়। এ পরিমাণ আয় বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক বলেছিল পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা। আয়ের এ পরিমাণকে তদন্ত করার আহ্বান জানায় বিএসইসিকে।

বিশাল পরিমাণ আয় বৃদ্ধির কারণে ২০২১ সালে কোম্পানিটি এর শেয়ারধারীদের জন্য ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। যার ২০ শতাংশ নগদ ও বাকি ২০ শতাংশ শেয়ার। এর আগের বছর অর্থ্যাৎ ২০২০ সালে ৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করে কোম্পানিটি।

আলোচ্য এ কোম্পানিটির ৭১ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে এর উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কোন শেয়ার নেই এ কোম্পানিতে। বিদেশী বিনিয়োগ আছে মাত্র ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। সাধারণ বিনিয়োগজারীদের কাছে কোম্পানিটির শেয়ার রয়েছে ২৭ দশমিক ২৩ শতাংশ।

সোনালী পেপার ও বোর্ড মিলস ১৯৮৫ সালে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে।আলোচ্য এ কোম্পানিটির সব শেয়ার ২০০৬ সালে কিনে নিয়ে ইউনুস গ্রুপ অফ কোম্পানি এর মালিকানায় আসে।

গতকাল কোম্পানিটির শেয়ার দর কমে ৮ টাকা ৪০ পয়সা। সর্বশেষ কোম্পানিটির শেয়ার দর দাঁড়ায় ৭২৫ টাকায় কাল লেনদেন শুরু হবে। মাত্র ৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন মাত্র ২১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। অপরদিকে কোম্পানিটির বাজার মূলধন আছে ১ হাজার ৬৩২ কোটি টাকার। এত অল্প মূলধনের এ কোম্পানিটির এত শেয়ার দর অস্বাভাবিক বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ার কারন হিসেবে কোম্পানি সেক্রেটারি বলেন, আমরা তো আর শেয়ারের দর বাড়াই না। দাম বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা। তারাই বেশি দামে নিয়ে এসেছে।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com