October 15, 2026, 12:40 am

রায় শোনার আগে কেউ দোয়া পড়ছিলেন, কেউ গল্প করছিলেন

রায় শোনার আগে কেউ দোয়া পড়ছিলেন, কেউ গল্প করছিলেন

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু করেছেন বিচারক। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান ২২ আসামির উপস্থিতিতে ২৫ আসামির বিরুদ্ধে রায় পড়া শুরু করেছেন।

রায় ঘিরে সকালেই আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন আসামিদের স্বজনেরা। এদিন আসামিদেরও সকালে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আনা হয় আদালতে। পরে তাদের তোলা হয় এজলাসে। আদালত কক্ষের ঠিক অপর পাশের ছোট খাচার মতো (আদালত কক্ষের ডকেট) দেখতে কাঠগড়ায় হাজির রয়েছেন আবরার হত্যা মামলার ২২ জন আসামি। রায় নিয়ে আসামিদের চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ দেখা গেছে। বিচারক রায় পড়া শুরু করলে আসামিদের কেউ দোয়া পড়ছেন, আবার কেউ একজন আরেক জনের সঙ্গে গল্পগুজব করতে দেখা যায়।

বুধবার (৮ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের দ্রুত বিচার আদালতে-১ এর কক্ষে আবরার হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করার আগ মুহূর্তের দৃশ্য এটি।

এর আগে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ২২ আসামিকে আদালতে আনা হয়।

আদালতের ভেতরে অস্থায়ী কারাগারে রাখা হয় আসামিদের। এসময় দেখা যায়, কেউ পেছনে দেওয়ালে হেলান দিয়ে আছেন। টুপি ও রুমালের ভাঁজের মধ্যে ছোট কাগজে দোয়া লিখে এনেছেন তারা। কেউ ছোট কাগজে দোয়া পড়ছেন, আবার কেউ একজন আরেকজনের সঙ্গে গল্প করছেন। অনেককে খুব বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত দেখা যায়। অনেকেই আবার আদালতের বাইরের দৃশ্যটা উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করছিলেন।

গত ২৮ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। তবে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান রায় ঘোষণার জন্য ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

আগের ধার্য দিনে রায় ঘোষণা না করার বিষয়ে বিচারক বলেন, রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন, তা বিশ্লেষণ করে রায় প্রস্তুত করা এখনো সম্ভব হয়নি। রায় প্রস্তুত করতে আরও সময় লাগবে। তাই এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হলো।

গত ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান রায় ঘোষণার জন্য ২৮ নভেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার জেরে আবরার ফাহাদকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। ওই দিনগত রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন ৭ অক্টোবর দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়। নিহত আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন তিনি।

ওই ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান।

অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জন ও তদন্তে প্রাপ্ত আরও ছয়জন। এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন ও এজাহার-বহির্ভূত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আটজন।

গ্রেফতার ২২ জন হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মেহেদী হাসান রবিন, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম ও এস এম মাহমুদ সেতু।

মামলার তিন আসামি এখনো পলাতক। তারা হলেন- মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ। তাদের মধ্যে প্রথম দুজন এজাহারভুক্ত ও শেষের জন এজাহার-বহির্ভূত আসামি।

২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় মোট ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com