October 13, 2026, 6:38 pm

১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়ছে মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পে

১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়ছে মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পে

লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কাজ করতে না পারায় দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে প্রায় ব্যয় বাড়ছে ১৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। নয় বছরের প্রকল্প সাড়ে ৭ বছরে ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৬০ দশমিক ৮০শতাংশ। যার বিপরীতে অর্থ ব্যয় হয়েছে ৫১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আগামী ২০২৩ সালের প্রকল্পটি সমাপ্ত করার কথা। এখন মেয়াদ আরো সাড়ে ৩ বছর বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ বলছে, এতো বড় একটি ব্যয়বহুল এবং দেশের উন্নয়নের মহাপরিকল্পনার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ফিজিবিলিটি বিশ্লেষণে চ্যানেলের ব্যাপারটি উপেক্ষিত হয়েছে। প্রকল্পের প্রাথমিক নিরীক্ষার কাজে চ্যানলের বিষয়টি যথাযথভাবে দেখা হয়নি। এছাড়া কমিশনের অনুমোদন না নিয়েই অনেক কাজ সংযুক্ত করা হয়েছে। বাড়তি ব্যয় অনুমোদনের জন্য কাল মঙ্গলবার একনেকে উঠছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যানুযায়ী, সরকার সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পাওয়ার সেক্টর মাষ্টার প্লান অনুযায়ী আগামী ২০৩০ সালে দেশে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। আর সে আলোকে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সরকার কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় মাতারবাড়ি ২টি ৬শ’ মেগাওয়াটের মোট ১২শ’ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট ২০১৪ সালের ১২ আগষ্ট একনেক থেকে অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্প ঋণসহ মোট ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি সমাপ্ত করার সময় ছিল ২০২৩ সালের জুনে। কিন্তু এখন এটার খরচ বাড়িয়ে ৫১ হাজার ৮৫৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় উন্নীত করা হচ্ছে। আর মেয়াদ আরো সাড়ে ৩ বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করার প্রস্তাব হচ্ছে। ফলে খরচ বাড়ছে ১৫ হাজার ৮৭০ কোটি ৪২ লাখ টাকা। প্রকল্পে জাইকা থেকে ঋণ নেয়া হয়েছে।

সংশোধণের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ২০১৪ সালে মূল প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। বিভিন্ন কারণে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, চ্যানেল ড্রেজিং ও চ্যানেলের অন্যান্য আনুষাঙ্গিক ¯’াপনা নির্মাণ ও জেটি নির্মাণ কাজ। আর প্রকল্পের ওয়ারেন্টি সেবার সময় বৃদ্ধির কারণে সংশোধন করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় মাটি প্রফাইলের পূর্ন অনুসন্ধান তথ্য অনুযায়ী, একল্প এলাকার মাটির গুণগত অব¯’া জাইকা কর্তৃক প্রাথমিক ফলাফলে অপ্রত্যাশিতভাবেই খুবই দুর্বল।

পর্যালোচনায় প্রকল্পটি সম্পর্কে আইএমইডি বলছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ এবং চ্যানেল ও জেটি নির্মাণে ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণ। মূল ডিপিপিতে ব্যয় ধরা হয় ৭ হাজার ৯১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। সেটা এখন বৃদ্দি পেয়েছে ১৪ হাজার ৩২৬ কোটি ৯৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। বাড়তি খরচের মধ্যে মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়নে অতিরিক্ত কাজের জন্য ২ হাজার ৩৫০ কোটি ১৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা ব্যয় হবে। পাওয়ার প্ল্যান্ট মাটির উন্নয়নেই ১১ হাজার ৯৭৬ কোটি ৮৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। বলা হ”েছ অতিরিক্ত কাজ ও ব্যয় ভ্যারিয়েশন অর্ডারের মাধ্যমে প্রকল্পের ইপিসি ঠিকাদার ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কার্যকর করা হবে। তবে সংশ্লিস্ট বিভাগ থেকে ব্যয় ৫২ হাজার ৩৮৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় প্রস্তাব করা হয়। পরে পিইসি সভায় পর্যালোচনা শেষে তা কমিয়ে ৫১ হাজার ৮৭০ কোটি টাকায় সুপারিশ করা হয়।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইপিসির অংশ বয়লার নির্মাণে ব্যয় ৬৫০ কোটি ৮৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা, ইপিসি অংশে টারবাইন ও জেনারেটর নির্মাণে ব্যয় ৬৪২ কোটি ১৯ লাখ টাকা, কয়লা ও ছাই হ্যাণ্ডেলিং সিষ্টেমের জন্য ব্যয় ১৯২ কোটি ২৯ লাখ ২৯ হাজার টাকা, ১২০জনমাস প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ট্রায়াল রান ইপিসির অংশে খরচ ২৫২ কোটি ৮৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বৃদ্ধি পা”েছ। বলা হ”েছ ইপিসির চুক্তি মূল্যের প্রেক্ষিতে এই ব্যয় বৃদ্ধি।

এছাড়া ষ্টার্টআপ এর যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে খরচ বাড়ছে ১ কোটি ৯৩ লখ টাকা। ইন্সুরেন্স ¯’ানীয় পরিবহণ হ্যাণ্ডেলিং চার্জ বাড়ছে ১০৬ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। দেশী ও বিদেশী পরামর্শক সেবায় ব্যয় বাড়ছ ৩২৭ কোটি ৮১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। ফলে পরামর্শক খাতে ব্যয় ৫০৭ কোটি ১১ লাখ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৩৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। যা মোট খরচের ২ শতাংশ। নির্মাণকালীন সুদ দিতে হবে ১ হাজার ৩৯২ কোটি ৬ লাখ টাকা।

আইএমইডি বলছে, প্রকল্পে মাটির গুণগত মান অপ্রত্যাশিত দুর্বল। ডিটেইল্ড ডিজাইনের এসে চ্যানেলের নাব্যতা সংকটটি ধরা পড়ে। ২০১৬ সালে গুলশানের হলিার্টিজান ঘটনায় ইপিসি বিড সাবমিশন দীর্ঘায়িত হয়। ইপিসি কাজ শুরু করে প্রকল্প অনুমোদনের তিন বছর পর, ২০১৭ সালের ২ আগষ্ট।

প্রকল্পের খরচ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য (সচিব) শরিফা খান বলেন, প্রকল্পটিতে বেশ কয়েকটি নতুন অঙ্গ যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে মূল ডিপিপিতে ডিপ সিপোর্ট ছিল না। এখন সেটা করতে হচ্ছে। দুটি ডিপো লাগবে। সেখানে ব্যয় বাড়ছে। আগে শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লার জন্য যতটা দরকার ছিল ততটা করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এখন এলএনজি এবং কমার্শিয়াল জেটিও করতে হচ্ছে। প্রথমে ৩.৮ কিলোমিটার চ্যানেল নির্মাণের কথা ছিল। এখন সেটা সাড়ে ১৪ কিলোমিটার হচ্ছে। পোর্ট উন্নয়নের জন্য বাড়তি ১০০ কিলোমিটার চ্যানেল ড্রেজিং করতে হচ্ছে। এসব কারণে মূলত ব্যয় বাড়ছে।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com