October 13, 2026, 4:02 pm
অক্টোবর মাসে রপ্তানি আয়ের যে লক্ষমাত্রা দেওয়া হয়েছিল এমনকি ব্যবসায়িরা যতটা রপ্তানি আয় হবে বলে ধারনা করেছিলেন সেই প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক রপ্তানি আয়ে ধারণার চেয়েও বেশি উল্লম্ফন হয়েছে।
সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে দেশের ৪৭২ কোটি ৭৫ লাখ ৩০ হাজার (৪.৭৩ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ধরে) এই অর্থের পরিমাণ ৪০ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা। এই আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৩৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬০ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক মাসে এই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়নি। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪১৭ কোটি ডলার বা ৩৫ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।
সবমিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) এক হাজার ৫৭৫ কোটি (১৫.৭৫ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। টাকার হিসাবে যা এক লাখ ৩৪ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। এই চার মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে এনেছেন রপ্তানিকারকরা। লক্ষ্যের চেয়ে আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকে ভর করেই পণ্য রপ্তানিতে সুবাতাস বইছে। অক্টোবর পর্যন্ত পোশাক রপ্তানি থেকে মোট এক হাজার ১৬২ কোটি ১১ লাখ (১২.৬২ বিলিয়ন) ডলার দেশে এসেছে। যা মোট রপ্তানির ৮০ দশমিক ১৩ শতাংশ।
এই চার মাসে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২১ শতাংশ বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ৪১ শতাংশ।
পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান রপ্তানি আয়ের এই উল্লম্ফনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, সত্যিই আমরা খুশি। এতো দ্রুত করোনা মহামারির ধাক্কা সামলে আমরা ঘুরে দাঁড়াবো ভাবতে পারিনি। আগামী দিনগুলোতে রপ্তানি আয় আরও বাড়বে বলে আশার কথা শোনান তিনি।
একই সুখবর দিয়েছেন নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, এখনও প্রচুর অর্ডার আসছে। দামও ভালো পাচ্ছি আমরা। সামনে বড় দিন (২৫ ডিসেম্বর)। চীন, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারের অনেক অর্ডার বাংলাদেশে আসছে। সব মিলিয়ে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য ভালো দিনই অপেক্ষা করছে বলে মনে হচ্ছে।