October 13, 2026, 2:47 pm
করোনা বার বার পিছিয়ে দিচ্ছে জনশুমারি। চলতি বছর ২ থেকে ৮ জানুয়ারি জনশুমারি করার কথা ছিল যা করোনার কারণে পিছিয়ে চলতি মাসের ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর সিদ্ধান্ত হয়। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ভয়াবহ আকার ধারণ করা ও ট্যাব কিনতে বিলম্ব হওয়ায় নতুন করে আগামী ২৪ থেকে ৩০ ডিসেম্বর জনশুমারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। ইতিমধ্যেই প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌছেছে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, করোনার কারণে আমরা দুইবার তারিখ দিয়েও পরিবর্তন করতে হয়েছে। আমরা নতুন করে আগামী ২৪ থেকে ৩০ ডিসেম্বর জনশুমারি করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। তিনি অনুমোদন দিলে সেই অনুযায়ী জনশুমারি হবে। আশা করছি তিনি অনুমোদন দেবেন।
জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের প্রস্তুতির বিষয়ে প্রকল্পটির পরিচালক কবির আহমেদ বলেন, আমাদের জনশুমারি করার জন্য সকল প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। ট্যাব কিনতে নতুন ট্রেন্ডারের বাছাই চলছে। সেটা সিসিজিপিতে আছে। আগামী বুধবার ক্রয় কমিটিতে উঠতে পারে অনুমোদনের জন্য। ট্যাব হাতে পেলে আমরা ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে জনশুমারির গণনাকারীদের ট্রেনিং দেব।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১০ বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয় আদমশুমারি ও গৃহগণনা। মুক্তিযুদ্ধের কারণে ১৯৭১ সালে একবারই নির্ধারিত সময়ে জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজ হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জনশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে। সর্বশেষ ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে আদমশুমারি পরিচালিত হয়। সেই হিসাবে চলতি বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে নতুন শুমারির (ষষ্ঠ) পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘পরিসংখ্যান আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী ‘আদমশুমারি ও গৃহগণনা’র নাম পরিবর্তন করে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ করা হয়। তাই ২০২১ সালের মধ্যেই শুমারি পরিচালনার বাধ্যবাধকতা থাকায় আগামী ২৪ থেকে ৩০ ডিসেম্বর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিবিএস।
বিবিএসের তথ্যমতে, বিবিএসের পরিচালিত বৃহত্তম পরিসংখ্যানিক কর্মকাণ্ড হলো ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম আদমশুমারি ও গৃহগণনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১-এর মাধ্যমে দেশের খানার সংখ্যা, খানায় বসবাসকারী সদস্যদের সংখ্যা, আর্থ-সামাজিক ও জনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নিরূপণ করা হবে। এসব তথ্য দেশের সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এবারের শুমারিতে আইসিআর প্রশ্নপত্রের পাশাপাশি মাল্টি মোড (ট্যাব, পিক অ্যান্ড ড্রপ, টেলিফোন ইন্টারভিউ) পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া এবারই প্রথম বিদেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের (প্রবাসী) এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
জনশুমারির জন্য ট্যাব কেন জরুরি জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ট্যাব দিয়ে জনশুমারি করায় আমরা শুমারির এক মাসের মধ্যেই একটা প্রাথমিক তথ্য দিতে পারবো। আর ৬৪ জেলার তথ্য ক্রস ম্যাচিং করে ৬ মাসের মধ্যে দিতে পারবো। যে তথ্য এর আগে দিতে অনেক বেশি সময় লাগতো। যেমন, ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেজ (এনএইচডি) প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহ ২০১৮ সালে শেষ হলেও তথ্য ব্যাবস্থাপনা না করতে পারায় এখনো শেষ হয়নি।
তিনি বলেন, ট্যাবের মাধ্যমে ডাটা সিকিউরড থাকবে। সফটওয়ারের মাধ্যমে একটার পর একটা তথ্য যোগ হবে। এবং সাথে সাথেই তথ্য লকড হয়ে যাবে। এতে তথ্য গড় মিলের সুযোগ থাকবে না।
জনশুমারির শেষে ট্যাব কি করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটা ট্যাব ৬ থেকে ৮ বছর ব্যবহার করা যায়। তাই আমরা এই ট্যাব অন্য প্রকল্পগুলোতে ব্যবহার করবো। ২০২৩ সালে অর্থনৈতিক শুমারি হবে সেখানে এই ট্যাব ব্যবহার করা হবে।
এবার জনশুমারি ও গৃহগণনা চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হলো পর্যায়-১, এর আওতায় শুমারির ব্লক এলাকা প্রণয়ন, জিআইএস পদ্ধতি ব্যবহার করে দেশের সব এলাকা ম্যাপ ও জিও কোডের আওতায় স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে। পর্যায় ২-এর আওতায় শুমারি পরিচালনা, দেশের সব খানা, ব্যক্তি এবং আবাসন ইউনিট গণনা করা হবে। পর্যায়-৩-এর আওতায় শুমারি পরবর্তী জরিপ পরিচালনা শুমারির গুণগত মান পরিমাপ করা হবে এবং পর্যায়-৪-এর আওতায় আর্থসামাজিক ও জনমিতিক জরিপ পরিচালনা খানা ও জনসংখ্যা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
সারা দেশের ১৪৪ জন জোনাল কর্মকর্তা জোনাল অপারেশন প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। জোনাল অপারেশন প্রথম পর্যায়ের মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
প্রকল্প পরিচালক কবির আহম্মেদ জানান, নতুন করে সিদ্ধান্ত হয়েছে এবার জনশুমারিতে এনআইডির তথ্যও থাকবে। এতে নতুন ভোটারদের তথ্য উঠে আসবে।
তথ্য নির্বাচন কমিশনকে হস্তান্তর করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমাদের কাছেই থাকবে। সরাসরি জনশুমারির তথ্য দেওয়া হবে না। তবে সরকার চাইলে নতুন ভোটারদের তথ্য দেওয়া হবে।