August 14, 2026, 9:56 pm
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে তালেবান। দেশটির নয়া ক্ষমতাসীন এই গোষ্ঠী বলেছে, হামলায় আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হয়েছে।
এর আগে রোববার কাবুলের অদূরে একটি আবাসিক এলাকায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। আইএস জঙ্গিদের লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ছয় শিশুসহ ৯ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।
তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। আমরা হামলার কারণ এবং কতজন নিহত হয়েছে সেটা অনুসন্ধান করছি।
তালেবানের আরেক মুখপাত্র বিলাল কারেমি বলেন, অন্য দেশের মাটিতে হামলা চালানো ঠিক নয়। হামলার আগে তালেবানকে জানানো উচিত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের হামলার নিন্দা জানায়।
গত বৃহস্পতিবার কাবুল বিমানবন্দরের গেটে আইএস খোরাসান শাখা ভয়াবহ এক আত্মঘাতী হামলা চালায়। হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ সেনাসহ ১৭০ জন নিহত হয়। যুক্তরাষ্ট্র হামলাকারীদের খুঁজে বের করে হত্যার ঘোষণা দেয়।
সর্বশেষ বিমান হামলা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, গাড়িতে করে দুইজন আত্মঘাতী আইএস জঙ্গি যাচ্ছিল। সেখানে হামলা করা হয়েছে। ওই গাড়িতে বিস্ফোরক ছিল বলেও মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
তবে এলাকা পরিদর্শন করে আসা স্থানীয় একজন সাংবাদিক বলেন, গাড়িতে কী ছিল সেটা বলতে পারব না। হামলার পর গাড়িটি কঙ্কালসার হয়ে গেছে।
নিহত এক শিশুর বড়ভাই বলেন, আমরা সাধারণ পরিবার, আইএস জঙ্গি নই। এটা আমাদের পারিবারিক বাড়ি। এখানে আমার ছোট ভাইয়েরা পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত।
যেখানে হামলা করা হয়েছে তার একজন প্রতিবেশী বলেন, আমরা সবাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিলাম। আগুন নেভাতে গিয়ে দেখি ৫-৬ টি লাশ পড়ে পড়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় শিশু নিহতের ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। চার্লস লিস্টার নামে একজন লেখক ও গবেষক বলেন, কোন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা করল তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন করার সময়ে এসেছে।
তালেবানের সঙ্গে ২০ বছর যুদ্ধ শেষে আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সকল সেনা আফগানিস্তান ছেড়ে যাচ্ছে। গত ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুল দখল করেছে। কিন্তু তারা এখনও সরকার গঠন করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা আফগানিস্তান থেকে চলে যাবার পর তালেবান সরকার ঘোষণা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।