August 31, 2026, 7:02 pm

রপ্তানি আয়ে বড় ‘ধাক্কা’ নিয়ে শুরু অর্থবছর

রপ্তানি আয়ে বড় ‘ধাক্কা’ নিয়ে শুরু অর্থবছর

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের মতো রপ্তানি আয়েও বড় ‘ধাক্কা’ নিয়ে শুরু হলো নতুন অর্থবছর।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৩৪৭ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের জুলাইয়ের চেয়ে ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ কম। আর লক্ষের চেয়ে কম ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

রপ্তানিকারক ও অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, কোরবানির ঈদের ছুটি এবং লকডাউনের কারণে ১০-১১ দিন পোশাক কারখানা বন্ধ থাকায় জুলাই মাসে রপ্তানি আয় কম এসেছে। ১ আগস্ট থেকে কারখানা খুলেছে। প্রধান বাজার ইউরোপ-আমেরিকায় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। প্রচুর অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে।

এখন যদি আর কোনো সমস্যা না হয় তাহলে আগামী দিনগুলোতে পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি বাড়বে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন তারা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) মঙ্গলবার পণ্য রপ্তানির আয়ের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে । তাতে দেখা যায়, জুলাই মাসে রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় খাত তৈরি পোশাক, পাট ও পাটপণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত মাছ, কৃষি পণ্যসহ প্রায় সব খাতের রপ্তানি আয়ই কমেছে।

তথ্যে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩৪৭ কোটি ৩৪ লাখ ৩০ হাজার (৩.৪৭ বিলিয়ন) ডলারের বিদেশি মুদ্রা দেশে এনেছে বাংলাদেশ।

এই মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৩৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আয় এসেছিল ৩৯১ কোটি ডলার।

এ হিসাবেই দেখা যাচ্ছে, এই বছরের জুলাইতে সার্বিক রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম এসেছে প্রায় ৭ শতাংশ।

মহামারির মধ্যেও বড় উল্লম্ফন নিয়ে শেষ হয়েছিল ২০২০-২১ অর্থবছর। ৩০ জুন শেষ হওয়া ওই অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ ৩ হাজার ৮৭৫ কোটি ৮৩ লাখ (৩৮.৭৬ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছিল; যা ছিল ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

গত অর্থবছরে করোনাভোইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেয়া লকডাউনের কারণে একদিনও রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত পোশাক কারখানা বন্ধ থাকেনি।

চলমান শাটডাউনেও ১ আগস্ট থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পোশাক কারখানা খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

বরাবরের মতো এবারও রপ্তানি আয়ে প্রধান ভূমিকা রেখেছে পোশাক খাত। পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘জুলাইয়ে রপ্তানি আয় কম আসবে; এটা অবধারিত ছিল। ঈদের ছুটি ও লকডাউনের কারণে টানা ১১/১২ দিন সব কারখানা বন্ধ ছিল। উৎপাদন হয়নি; রপ্তানিও হয়নি।’

‘তবে আমরা এক মাসের এই চিত্র নিয়ে মোটেই বিচলিত নই। আশার কথা হচ্ছে, সরকার আমাদের অনুরোধে কারখানা চালুর অনুমতি দিয়েছে। আমাদের পোশাকের বড় বাজার ইউরোপ-আমেরিকায় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। মানুষজন আগের মতো কেনাকাটা শুরু করেছে। আগামী দিনগুলোতে রপ্তানি বাড়বে। গত অর্থবছরের একটা ভালো প্রবৃদ্ধি নিয়ে এই অর্থবছরও শেষ হবে বলে আশা করছি।’

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, এক মাসের তথ্য দিয়ে আসলে রপ্তানি আয়ের গতিবিধি বোঝা যাবে না। আরও দুই-একমাস গেলে বোঝা যাবে।

‘তবে, এখানে দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করছে আমাদের রপ্তানি খাত। প্রথমত-ভালো দিক হচ্ছে, ইউরোপ-আমেরিকায় পরিস্থিতি ভালোর দিকে। তারা এখন প্রচুর পোশাক কেনা শুরু করেছে। আমরা যদি তাদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক দিতে পারি, তাহলে রপ্তানি বাড়বে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আমাদের এখানে করোনা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। আমরা যদি, দ্রুত এটা প্রতিরোধ করতে না পারি, তাহলে সেটা আর সম্ভব হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন টিকার দিকে সবচেয়ে বেশি নজর দেয়া উচিৎ।’

পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে ১১ শতাংশ

জুলাইতে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে ২৮৮ কোটি ৭২ লাখ ডলার আয় হয়েছে। এর মধ্যে নিট পোশাক থেকে আয় হয়েছে ১৬৫ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। ওভেন পোশাক থেকে এসেছে ১২২ কোটি ৮৭ লাখ ডলার।

জুলাইয়ে এই খাত থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩০১ কোটি ২৭ লাখ ডলার। আর গত অর্থবছরের জুলাইয়ে আয় হয়েছিল ৩২৪ কোটি ৪৯ লাখ ডলার।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে গত অর্থবছরের জুলাইয়ের চেয়ে পোশাক খাত থেকে আয় কমেছে ১১ দশমিক ০২ শতাংশ। আর লক্ষ্যের চেয়ে কমেছে ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ।

নিটে কমেছে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ; উভেনে ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com