October 9, 2026, 12:28 pm
পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, আমাদের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নতুন কিছু বাস্তবতা সামনে নিয়ে আসবে এবং দেশ বৈশি^ক বাণিজ্যে কিছু সুবিধা হারাতে পারে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন (ডব্লিউটিও) অধীনে শুল্কমুক্ত সুবিধা আর কার্যকর না থাকায় আমাদের রফতানি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। বড় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক এবং আমাদের ঋণের দায়বদ্ধতা বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি পরামর্শ দেন, আমাদের দেশে একটি যথাযথ ব্যবসায়ের পরিবেশ তৈরি করা দরকার এবং বাণিজ্যের সামগ্রিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে সরকারকে আরও বেশি করে বিদেশের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। সোমবার দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্স অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) আয়োজিত ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন : চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য (সচিব) শরিফা খান বিশেষ অতিথি হিসেবে ওয়েবিনারে যোগদান করেন। ওয়েবিনারে আইসিএবি প্রেসিডেন্ট মাহমুদউল হাসান খুসরু স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং আইসিএবির সদস্য কাউন্সিল ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. হুমায়ুন কবির অধিবেশন চেয়ারম্যান হিসেবে ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন। আইসিএবির সিইও ও প্রাক্তন সিনিয়র সচিব শুভাশীষ বসু মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
ওয়েবিনারে বক্তারা বলেন, ফ্যাশন-ডিজাইন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, পণ্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও বাণিজ্য সহজীকরণ, আইটি অবকাঠামো উন্নত করা, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সক্রিয় ফার্মাসিউটিক্যাল (এপিআই) পার্ক স্থাপন দেশকে ২০২৬ সালের মধ্যে স্থায়ীভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। এলডিসির মর্যাদা থেকে স্থায়ীভাবে গ্র্যাজুয়েশন হলে দেশের বাস্তব উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির একটি স্বীকৃতি মিলবে, যদিও এর ফলে বাংলাদেশকে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মাহমুদউল হাসান খুসরু বলেন, সরকারি-বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হওয়া উচিত। বিনিয়োগকারীদের চাহিদা মেটাতে সরকার ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং দুই ডজনেরও বেশি হাইটেক পার্ক উন্নয়ন করছে। বাংলাদেশ বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস সরবরাহ করছে।
তিনি বলেন, রফতানির গতি বজায় রাখতে দেশকে দ্বিপক্ষীয় মুক্তবাণিজ্য চুক্তি বেছে নিতে হবে। এলডিসির পরের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে এবং বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাবগুলো হ্রাস করতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক শুভাশীষ বসু বেশ কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করেন। যার মধ্যে ইইউ জিএসপি থেকে জিএসপি প্লাস সুবিধা প্রাপ্তির জন্য অন্তর্ভুক্ত করা, বাজারের প্রবেশাধিকার বাড়িয়ে তোলা, পণ্য এবং বাজারের বৈচিত্র্যকরণ, উৎপাদন পর্যায়ে প্রয়োজনীয়তার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত বাধা দূর করা ইত্যাদি।