October 10, 2026, 9:57 pm
মহামারিকালে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের মতো রপ্তানি আয়েও বড় উল্লম্ফন নিয়ে শেষ হলো ২০২০-২১ অর্থবছর। যদিও অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের সাধারণ ছুটির পর কাঙ্ক্ষিত আয় হয়নি দেশের।গত ৩০ জুন শেষ হওয়া এই অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ ৩ হাজার ৮৭৫ কোটি ৮৩ লাখ (৩৮.৭৬ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে। এই অঙ্ক ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।
পণ্য রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ তথ্য সোমবার প্রকাশ করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। তাতে দেখা যায়, রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় খাত তৈরি পোশাক, পাট ও পাটপণ্য, চামড়া ও চামড়াপণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্য, রাসায়নিক পণ্য ও প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় ফেরার কারণেই সার্বিকভাবে পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
এই অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৪১ বিলিয়ন ডলার। আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে লক্ষ্যের চেয়ে আয় কমেছে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি (৩৩.৬৭ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম। আর লক্ষ্যের চেয়ে আয় কম ছিল ২৬ শতাংশ। তার আগের বছর (২০১৮-১৯) রপ্তানি হয়েছিল ৪ হাজার ৫৩ কোটি ডলারের পণ্য।
মহামারির এই কঠিন সময়েও রপ্তানি আয় বাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘২০১৯-২০ অর্থবছরে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্পের বিদ্যমান প্রণোদনার সঙ্গে ১ শতাংশ হারে অতিরিক্ত প্রণোদনা দেয়া শুরু হয়েছিল। এর ফলে এই খাতে করোনাভাইরাসজনিত মহামারির প্রভাব সফলভাবে মোকাবিলা করা গেছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরেও এই ধারা অব্যাহত রাখার ফলে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্প ঘুরে দাঁড়ায়। বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও আশানুরূপ রপ্তানি অর্জন করেছে। এ কারণে নতুন অর্থবছরেও এই অতিরিক্ত রপ্তানি প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
মূলত তৈরি পোশাক এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ার কারণেই সার্বিক রপ্তানি আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে গত অর্থবছরে। তবে লক্ষ্যের চেয়ে ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ পিছিয়ে আছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩ হাজার ১৪৫ কোটি ৬৭ লাখ (৩১.৪৫ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের চেয়ে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি। নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে সবচেয়ে বেশি; ১ হাজার ৬৯৬ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ শতাংশ। ওভেন পোশাকে থেকে এসেছে ১ হাজার ৪৪৯ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। বেড়েছে ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।
এই অর্থবছরে ১১৬ কোটি ১৯ লাখ ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের চেয়ে ৩১ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া ১১৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের হোম টেক্সটাইল রপ্তানি হয়েছে; প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৯ দশমিক ১৭ শতাংশ।
বেশ কয়েক বছর পর চামড়া রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে বাংলাদেশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে ৯৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার আয় হয়েছে; প্রবৃদ্ধির অঙ্ক ১৮ দশমিক ০৬ শতাংশ। এ সময়ে ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ২৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। হিমায়িত মাছ রপ্তানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ।