October 8, 2026, 8:12 am
প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার দিতে ‘প্রাইমারি স্কুল মিল’ নামের প্রকল্প বাতিল করে দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
মঙ্গলবার রাজধানীর এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থাপিত প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৭ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি। কিন্তু এটি অনুমোদন না দিয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে প্রকল্প নেওয়ার জন্য ফেরত দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টির জোগান বাড়াতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৪৯২ উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভার ২১টি শিক্ষা থানার শিক্ষার্থীদের দুপুরে স্কুলে গরম খাবার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
গরম খাবার বলতে মূলত ডাল আর স্থানীয় সবজি দিয়ে খিচুড়ি রান্না করে শিক্ষার্থীদের খাওয়ানো।
২০২১ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছরমেয়াদি এ প্রকল্পের জন্য শুরুতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৯৬১ কোটি টাকা।
এর মধ্যে খিচুড়ি রান্না ও পরিবেশনের প্রশিক্ষণ নিতে এক হাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিদেশ সফরের একটি প্রস্তাব ছিল, যা নিয়ে গত বছর ব্যাপক সমালোচনা হয়।
শেষ পর্যন্ত এক হাজার লোকের বিদেশ সফরের ওই অংশটি বাদ দিয়ে ব্যয়ের পরিমাণ এক হাজার ৬৭১ কোটি টাকা কমিয়ে ১৭ হাজার ২৯০ কোটি টাকা করা হয়। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এ প্রকল্পের পুরো অর্থ জোগানোর কথা ছিল।
একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা বলেছেন— খিচুড়ি রান্না করতে গেলে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া এটির ব্যবস্থাপনা অনেক জটিলও হবে। তাই খিচুড়ি রান্নার পরিবর্তে দুধ, কলা বা অন্য কোনো ব্যবস্থা করা যায় কিনা ভেবে দেখতে হবে।
সেই সঙ্গে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারি অর্থের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায় কিনা তারও প্রচেষ্টা চালানোর কথা বলেছেন তিনি।
বৈঠকশেষে এক ব্রিফিংয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ছাড়াই এত বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান জানান, চলমান প্রকল্পের অংশ হওয়ায় এবং মানবিক কারণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ছাড়াই হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন সমীক্ষা করা হবে।
এদিকে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় ৫ হাজার ২৩৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ৯টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে আসবে ৫ হাজার ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক উৎস হতে ঋণ ২৪৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
অনুমোদিত প্রকল্পসমূহ হলো- সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘কুষ্টিয়া (ত্রিমোহনী)-মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ (আর-৭৪৫) আঞ্চলিক মহাসড়কটির কুষ্টিয়া হতে মেহেরপুর পর্যন্ত যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্প; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর নবসৃজিত নারায়ণগঞ্জ (৬২ বিজিবি) ব্যাটালিয়নের অবকাঠামোগত বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ’ প্রকল্প; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র’ প্রকল্প; প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘Bangladesh Economic Zones Development Project (Phase-1)(৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্প; খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্প; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘দরিদ্র মহিলাদের জন্য সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্প-২য় পর্যায় (ইরেসপো-২য় পর্যায়)’ প্রকল্প; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘লক্ষীপুর জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলাধীন বড়খেরী ও লুধুয়াবাজার এবং কাদের পণ্ডিতের হাট এলাকা ভাঙ্গন হতে রক্ষাকল্পে মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ’ প্রকল্প; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘মাতারবাড়ী আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ারড পাওয়ার প্রকল্প (পিজিসিবি অংশ: মাতারবাড়ী-মদুনাঘাট ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘উপজেলা পর্যায়ে মহিলাদের জন্য আয়বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প।