October 8, 2026, 7:47 am

সমীক্ষা প্রকল্প তৈরী করতেই ৫ বছর শেষ, কবে চলবে ইলেকট্রিক ট্রেন

সমীক্ষা প্রকল্প তৈরী করতেই ৫ বছর শেষ, কবে চলবে ইলেকট্রিক ট্রেন

এম আর মাসফি: নারায়নগঞ্জ থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম এবং টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর সেকশনে রেলওয়ে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রবর্তন করতে ২০১৬ সালে ৯ কোটি ৫৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা খরচে এক বছরের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়। যেই লাইনে ইলেকট্রিক ট্রেন চলবে। ৫ বছর শেষ হলেও সেই প্রকল্প আজো চুড়ান্ত করতে পারেনি রেলপথ মন্ত্রনালয়। এখন প্রকল্পের খরচ বাড়িয়ে সাড়ে ১৫ কোটি ৩৭ হাজার টাকায় প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদ ১২ মাসের জায়গায় ১৭ মাস করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, বিদ্যমান নারায়নগঞ্জ থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম এবং টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর সেকশনে রেলওয়ে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রবর্তন করা বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য একটি মাইলফলক হবে। এর ফলে ইলেকট্রিক ট্রেন চালু হলে ভ্রমণ সময় ও অপারেশনাল ব্যয় কমে আসবে। পাশাপাশি যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া বর্ণিত ওইসব শহরে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। ইলেকট্রিক ট্রেন সর্বোচ্চ লোড ক্যাপাসিটি দারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং এর পরিবহণ খরচও কম। এছাড়া নারায়নগঞ্জ টু ঢাকা টু চট্টগ্রাম এবং টঙ্গী টু জয়দেবপুরের মধ্যে চলমান ডাবল লাইন প্রকল্পটি ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন ব্যবহারকে আরো বেশি কার্যকরী করবে।

সমীক্ষার জন্য ২০১৬ সালে ৯ কোটি ৫৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা খরচে এক বছরের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় পরিকল্পনা কমিশন থেকে প্রকল্পের ব্যয় কমিয়ে ৮ কোটি ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রাক্কলন করে কমিশনে ডিপিপিটি আবার পাঠানোর সিদ্ধান্ত দেয়। সেই প্রকল্প আজো চুড়ান্ত করতে পারেনি রেলপথ মন্ত্রনালয়।

রেলপথ বিভাগের প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, সমীক্ষা প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রী আজ থেকে ৫ বছর আগে ২০১৬ সালের জুনে আলাপ করুন মর্মে নির্দেশ দেন। আর প্রকল্পটির গ্রহণের যৌক্তিকতা পর্যায়ের আলোচনার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের কারিগরি টিম, মহাপরিচালক এবং মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে সভা করার নির্দেশ প্রদান করেন।

২০১৬ সালের জুলাই মাসে সিদ্ধান্ত হয়, নারায়নগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষার পরিবর্তে নারায়নগঞ্জ থেকে ঢাকা হয়ে জয়দেবপুর পর্যন্ত ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রবর্তনের লক্ষ্যে সমীক্ষা পরিচালনা করা যেতে পারে। এখানে ওভারহেড ক্যাটেনারি ও সাব-ষ্টেশন নির্মাণও অন্তর্ভূক্ত থাকবে। এক বছর পর আবার দ্বিতীয় পিইসি সভা হয়। আরো এক বছর পর পূনর্গঠিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়। এখন প্রকল্পের খরচ ৯ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ১৫ কোটি ৩৭ হাজার টাকায় প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ১২ মাসের জায়গায় ১৭ মাস করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

প্রকল্পের কাজের মধ্যে রয়েছে, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইনের জন্য ১৭জন পরামর্শক নিয়োগ। যার মধ্যে ৪ জন আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিজন ৯ মাস করে ৩৬ মাস কাজ করবেন। আর স্থানীয় ১৩জন পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়। এখানে জনপ্রতি ৬ মাস ধরে ৭৮ মাস এরা কাজ করবেন। প্রকল্পের অফিসের জন্য যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র কেনা হবে।

খরচের হিসাবের প্রস্তাবনা থেকে দেখা গেছে, ১৭জন পরামর্শকের জন্য ব্যয় হবে ১৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। প্রকল্পে ৫৪জন নিয়োগ দেয়া হবে আউট সোর্সিং থেকে। তাদের জন্য খরচ ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। একটি গাড়ি কেনা হবে ১৯ লাখ ২০ হাজার টাকায়। সাড়ে ৫ লাখ টাকায় ষ্টেশনারী সামগ্রী কেনা হবে। টিএ বা ডিএ খাতে সাড়ে ১০ লাখ টাকা। প্রকল্পে পরামর্শকের পরও ৬ লাখ টাকা খরচ হবে সম্মানী খাতে। বিজ্ঞাপন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ টাকা। অফিস ইক্যুইপমেন্ট কেনার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ লাখ ২১ হাজার টাকা। আর ফার্নিচার ৭ লাখ টাকার।

পরিকল্পনা কমিশনের বিভাগগুলোর একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, পিইসি সভা থেকে যেসব নির্দেশনা দেয়া হয়, সে আলোকে বেশির ভাগ সময়ই মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ডিপিপি পূনর্গঠন করে না। আবার অনেক সময় তারা মাসের পর মাস ফেলে রাখে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নানা কারণে এই পুরনো রেলপথটিকে ইলেকট্রিক রুটে রুপ দেওয়া হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং টঙ্গী-জয়দেবপুরের মধ্যে চলমান ডাবল লাইন প্রকল্পটি ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন ব্যবহারে আরও কার্যকরী হবে। নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম প্রধান এবং কেন্দ্রীয় শিল্প-ব্যবসা বাণিজ্য কেন্দ্র। চট্টগ্রামের প্রধান সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ আমদানি-রফতানি হয়ে থাকে। বাংলাদেশের ৩০ শতাংশ জনসংখ্যা নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাস করে। এছাড়া এই অঞ্চলে সহজেই বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যে কারণে এই অঞ্চল দিয়ে চালু হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম ইলেকট্রিক ট্রেন।

প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যমান নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন নির্মাণের প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক আর্থিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত উপযোগিতা যাচাই, ওভারহেড ক্যাটেনারি, সাব-স্টেশন এবং উপযুক্ত প্রযুক্তির চাহিদা নির্ধারণ এবং ভবিষ্যত কৌশল সম্পর্কে সুপারিশ দেওয়া হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে প্রকল্পের জন্য বিদ্যুতের বর্তমান চাহিদা ও প্রাপ্যতা নির্ধারণ করা এবং ভবিষ্যত কৌশল নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশের মতো একই প্রাকৃতিক এবং অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অন্য দেশে গৃহীত ইলেকট্রিক ট্রাকশন সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যত কৌশল সম্পর্কে সুপারিশ করা হবে।

বিদ্যমান নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ট্র্যাফিক পূর্বাভাস, লেভেল ক্রসিং গেট এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ের ওপর ইলেকট্রিক ট্রাকশন গ্রহণ সম্পর্কিত স্পর্শকাতরতা বিশ্লেষণসহ বিস্তারিত প্রকৌশল নকশা প্রণয়ন; বিস্তারিত নকশার ওপর ভিত্তি করে বিস্তারিত ব্যয় প্রাক্কলন তৈরি হবে।

এই প্রকল্পের বিষয়ে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বিজনেস নিউজকে বলেন, সরকার সারাদেশেই ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর কথা ভাবছে। ইতিমধ্যে পদ্মাসেতু রেলসংযোগে ইলেকট্রিক ট্রেন চালু করতে কাজ চলছে। ঢাকা চট্টগ্রাম রুটেও ইলেকট্রিক ট্রেন চালু করবো। ইলেকট্রিক ট্রেন চালু করতে পারলে রেলপথ লাভজনক হবে বলে জানান তিনি।

বিজনেস নিউজ/এসআর

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com