October 10, 2026, 8:52 pm
আগামী বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ এবারও থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তুফা কামাল। যতদিন অপ্রদর্শিত অর্থ প্রর্দশিত না হবে ততদিন কালো টাকার সাদা করার সুযোগ দেওয়া হবে।
বুধবার (১৯ মে) দুপুরে ভার্চুয়ালি অর্থনৈতিক সম্পর্কিত মন্ত্রিসভার কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।
আগামী বাজেট কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকবে কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী জানান, কালো টাকা বলব না, এটা অপ্রদর্শিত অর্থ। যা আমাদের সিস্টেমের কারণে প্রদর্শিত করতে পারেন না। তাই এ অপর্দশিত টাকা প্রদর্শিত না হওয়ার পর্যন্ত এ টাকার প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অপ্রদর্শিত টাকা কি কি কারণে হয়? জমি রেজিস্ট্রেশন ফি আমরা অনেক রেখে দিয়েছি। মৌজার যে প্রাইজ রেখেছেন সেটা অনেক কম। মার্কেট প্রাইজে লেনদেন হলে অপ্রদর্শিত টাকা থাকত না। আমাদের সিস্টেমের কারণেই এখন বায়ার এবং সেলারের কাছে তাদের অপ্রদর্শিত টাকা থাকে, সেজন্য তারা বিপদে পড়ে। আগে ইনকাম ট্যাক্স রেট বেশি ছিল, কেউ দিত না। সেজন্য আমরা পর্যায়ক্রমে ইনকাম ট্যাক্স রেট কমিয়ে এনেছি। এটা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের মতো যারা রয়েছেন, তাদের সঙ্গে আমাদের মূল্যায়ন করলে যাতে একইরকম পাওয়া যায় সেজন্য ব্যবস্থাটি আমরা নিচ্ছি। আমরা আশা করি অপ্রদর্শিত টাকা আমাদের ইকোনমিক সিস্টেম থেকে বিলীন হয়ে যাবে, থাকবে না।’
তবে কালো টাকা সাদা করার বিষয়টি এখন যেভাবে আছে সেভাবে থাকবে কি-না সেটি এ মূহুর্তে বলা যাচ্ছে না, আগামী ৩ তারিখ এটি জানা যাবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
করোনা রোগীর জন্য ৪০টি অক্সিজেন জেনারেটর সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে দুর্নীতির প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাত অত্যন্ত জরুরি বিষয়। তাদের দায়িত্ব ছিল এসব চাহিদার বিষয়ে যথাযথ সময় ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু তখন সেটি করা হয়নি। করোনা পৃথিবীতে সবার জন্যই প্রথম, তাই সবাই যে, সব কাজ সম্পর্কে অবগত থাকবে তাও না। যদি বার বার একই রকম মিসটেক হয় তাহলে এগুলো ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স থেকে বাদ যাবে। তবে এখন যেগুলো আসছে সেগুলো সবই নতুন।’
করোনা সারাবিশ্বে তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এরমাঝে কাজের পরিধি বাড়ছে। আমাদের এখন এগুলো চিন্তা না করে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে হবে। এই বিবেচনায় আমরা আজকে এটি অনুমোদন দিয়েছি। আমি একমত আরও আগে যথাযথভাবে যদি আমরা এগুলো করতে পারতাম তাহলে হয়ত আমাদের সাশ্রয় হতো। তারপরও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সবাইকে বলেছি সাশ্রয়ী হতে হবে।’
পায়রার একটি প্রকল্প পাস হয়েছে, যেটি রিজার্ভ থেকে লোন নেয়া, এই টাকাটা কি তারা একেবারে পেয়ে যাবে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আগামী বৈঠকে জানানোর চেষ্টা করব। এই টাকাটা সরকার দিচ্ছে রিজার্ভ থেকে। টাকা কিভাবে খরচ করা হবে এবং আদায় হবে আমরা সেই বিষয়টি দেখছি।’
পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ থাকা সত্যেও বিদ্যুতের নতুন পাওয়ার প্ল্যান্ট কেন অনুমোদন দেয়া হচ্ছে-জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব এলাকায় পাওয়ার প্ল্যান্ট আছে, সেখানে অনেক পুরাতন হওয়ায় রিপ্লেস করতে হবে। যার খরচ অনেক বেশি। সে জন্য এখানে নতুন ক্যাপাসিটি যুক্ত হবে না, পুরাতন যেটি ছিল সেটি ইনক্রিস হয়ে নতুনভাবে হবে।’
সভায় ১০টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে ৯টি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহেদা আক্তার।
বিজনেস নিউজ/এসআর