October 8, 2026, 6:17 am

আড়াই বছরেও অগ্রগতি নেই জামালপুর-রৌমারি সড়ক উন্নয়নে

আড়াই বছরেও অগ্রগতি নেই জামালপুর-রৌমারি সড়ক উন্নয়নে

অনুমোদনের পর নানা ধরনের জটিলতা দেখা দেয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে। এর মধ্যে প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায় ভুমি অধিগ্রহণ। জামালপুর-ধানুয়া-কামালপুর-রৌমারী-দাঁতভাঙা জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ (কুড়িগ্রাম অংশ) প্রকল্পটির দুবছর চার মাসে অগ্রগতি মাত্র ৫.৪০ শতাংশ। এই সময়ে যেখানে ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হবার কথা। ভুমি অধিগ্রহণে জটিলতা, টেন্ডার আহ্বান করেও ঠিকাদার না পাওয়া, কোভিড-১৯, ও বন্যার কারণে প্রকল্পটি আগাতে পারেনি বলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) দাবি করছে।

পরিকল্পনা কমিশনের আইএমইডি বলছে, ভুমি অধিগ্রহণে ধীরগতির কারণেই প্রকল্পের অগ্রগতি অসন্তোষজনক। প্রকল্পের কাজের যে অগ্রগতি তাতে এক বছর সময় বাড়ানো হলেও ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটি শেষ হওয়া নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।

মন্ত্রনালয়ের প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, জামালপুর-ধানুয়া-কামালপুর-রৌমারী-দাঁতভাঙা জেলা মহাসড়কটিতে যানবাহণের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এই মহাসড়কটি প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ (কুড়িগ্রাম অংশ) করার জন্য গত ২০১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় ৩৩২ কোটি ১০ লাখ টাকা খরচে অনুমোদন দেয়া হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অর্থাৎ আড়াই বছরে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হবে। কিন্তু গত অক্টোবর পর্যন্ত প্রকল্পে অর্থ ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। যা মূল খরচের ৫.৩৯ শতাংশ। আর ওই অর্থ খরচ করে বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ২ বছর চার মাসে মাত্র ৫.৪০ শতাংশ।

প্রকল্পের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে, ৫১.৫৫৬ হেক্টর ভুমি অধিগ্রহণ, ৪.৮৪ লাখ ঘন মিটার সড়ক বাবদ নির্মাণ, ১৪.৩ কিলোমিটার বিদ্যমান পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ, ৮.৪ কিলোমিটার পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ, ০.৬ কিলোমিটার বিদ্যমান ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট মজবুতিকরণ, ২.৬৩৫ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট পূননির্মাণ, ৩১.৬৩৫ কিলোমিটার হার্ডসোল্ডার নির্মাণ ইত্যাদিসহ ১০ কিলোমিটার আরসিসি সসার ড্রেন নির্মাণ, ০.৮ কিলোমিটার ক্রস ড্রেন নির্মাণ এবং চারটি সুইচগেট পূননির্মান।

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার মাসে এসে নির্বাহী প্রকৌশলী আলী নূরায়েন প্রকল্পের অগ্রগতির ব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে জানান, প্রকল্পটির অধীনে ৫১.৫৫৬ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের জন্য ১৭৭ কোটি ৯৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা খরচ প্রাক্কলন করা হয়েছে। তিনটি এল.এ কেসের মাধ্যমে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধিন আছে। অবশিষ্ট্য এল. এ কেস এর প্রস্তাব যথাশিগগিরই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম খান জানান, প্রকল্পটির পূর্ত কাজ চারটি প্যাকেজের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। দুই বছর তিন মাসে প্রথম প্যাকেজের কাজ গত অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ১০ শতাংশ, দ্বিতীয় প্যাকেজের কাজ ১৫ শতাংশ, তৃতয়ি প্যাকেজের কাজ ১৮ শতাংশ এবং শেস প্যাকেজের কাজ ৫০ শতাংশ হয়েছে। অক্টোবর পর্যন্ত অর্থ ব্যয় হয়েছে ১৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। যার বিপরীতে বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ৫.৪০ শতাংশ।

আর রংপুর জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান প্রকল্পটি বাস্তব অগ্রগতি কম হওয়াতে পর্যালোচনা সভায় জানান, প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর একনেক থেকে অনুমোদন পেলেও দরপত্র আহ্বানে ঠিকাদার অংশগ্রহণ না করার কারণে কয়েককার দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের প্রকল্পের প্যাকেজ কার্যাদেশ ২০১৯ সালের এপ্রিল, অক্টোবর ও নভেম্বরে দেয়া হয়। আর গত ২০২০ সালে মার্চ থেকে কোভিড-১৯ সংক্রামক ব্যাধির কারণে জনবল স্বল্পতা ও মালামালের অপ্রতুলতার জন্য ২০২০ সারের জুন পর্যন্ত কাজ বন্ধ ছিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও ২০২০ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রচুর বৃষ্টিপাত ও কয়েকদফা বন্যায় কাজ বাধাগ্রস্ত হয়।আর ভুমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি কম হয়েছে।

আইএমইডি বলছে, ভুমি অধিগ্রহণের দীর্ঘসূত্রিতা, প্রকল্পের অনুকূলে অপর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তব কাজের অগ্রগতি বিবেচনায় নিলে প্রকল্পটি বর্ধিত ২০২১ সালের ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে আদৌ সমাপ্ত করা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় আছে।

বিজনেস নিউজ/ এসআর

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com