August 31, 2026, 10:01 pm
নানামুখী সংকটে বিপর্যস্ত মাদার টেক্সটাইলের ঘুরে দাঁড়ানোর পথে এবার বাঁধা হয়ে দাঁড়ালো ভয়াবহ অগ্নিকান্ড। কারখানার ৫টি ইউনিটের মধ্যে তিনটিই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অগ্নিকাণ্ডে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বেশি। নতুন করে আবার কিভাবে এই প্রতিষ্ঠানটিকে পুরোপুরি চালু করবেন তা নিয়ে হতাশ পরিবারসহ করোনায় আক্রান্ত মাদার টেক্সটাইলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক এলিজা সুলতান।
মহামারী করোনার মধ্যে যেখানে ভালো কোম্পানিগুলোও সরকারের প্রনোদনা নিয়ে চলছে। সেখানে কোন ধরনের প্রনোদনা না পেয়েও শ্রমিকদের নিয়ে কারখানা চালু রেখেছিলেন ঋণে জর্জরিত কারখানা চালু রেখেছিলেন তিনি। নিয়মিত দিয়ে যাচ্ছিলেন ব্যাংকের ঋণ ও অন্যান্য পাওনা। এরই মধ্য হটাৎ ভয়াবহ অগ্নিকান্ড তছনছ করে দিয়েছে সব প্লান।
বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) রাতে কারখানাটিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে কারখানার ৩টি ইউনিট পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। আগুনে ব্লোয়ার মেশিন, ড্রায়িং মেশিন, কার্ডিং মেশিনসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) গাজিপুরের কাশিমপুরে অবস্থিত মাদার টেক্সটাইলের কারখানা পরিদর্শন করে দেখা যায় আগুনে পোড়া গন্ধে চারদিকে একাকার হয়ে আছে। বড় বড় মেশিন গুলো পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। কোন কিছুই যেন আর ব্যাবহারের উপযোগী নেই।
মাদার টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেড দেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানীযোগ্য সূতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ঘন্টায় ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। এছাড়া দৈনিক ১০০ টন সুতা উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন কারখানাটিতে ৬ হাজার লোকের কর্মসংস্থান। বর্তমানে কারখানাটি বন্ধ আছে। সরকারি পৃষ্টপোষকতা ছাড়া কারখানাটি চালু করা সম্ভব নয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
করোনা সংকটের মধ্যেও শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ করে করে আসছিল কারখানাটি। কোন রকম সরকার ঘোষিত প্রণোদনার সুযোগ না পাওয়া সত্ত্বেও মিলটি যথারীতি ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ ও তিতাস গ্যাসের সকল বকেয়া পরিশোধ করে নিয়মিত মান বজায় রাখছিল। মিলটি নানা অনিবার্য বিপর্যয় হতে উত্তরনের লক্ষে নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে যখনই নাড়াবার চেষ্টা করেছে তখনই দেখা গেছে আর একটি বিপর্যয় এসে দাড়িয়েছে। তার পরেও নানা প্রতিকুলতা পার হয়ে যখনই মিলটি রপ্তানি যোগ্য সুতা উৎপাদনের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করেছে তখনই আকস্মিক অগ্নিকান্ডে মিলের বৃহদাংশের মেশিন আগুনে পুড়ে মিলটিকে আবার ধ্বংসের দিকে ফেলে দিয়েছে।
ইংল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ায় ১০০ টনের একটা অর্ডারও পেয়েছিল মিলটি। সাধারণত জুট কাপড় প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে নানা রঙের রঙিন সুতা তৈরি করা কারখানাটি এখন বন্ধ রয়েছে।
কারখানাটিতে মূলত ২০ ধরণের রঙিন সুতা তৈরি হয় যা দেশীয় বাজারে ৮০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে থাকে। বর্তমানে কারখানাটি বন্ধ ফলে রঙিন সুতার দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। করোনা সংকটের কারণে এর আগে বন্ধ ছিল কারখানাটি। কালার ভেদে পাউন্ড প্রতি রঙিন সুতার দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা। কিন্তু কারখানাটি বন্ধ থাকার কারণে প্রতি পাউন্ডে দাম বেড়েছিল ১৫ থেকে ২০ টাকা। সারাদেশে লোকাল রঙিন সুতার ৮০ শতাংশ সরবরাহ করে মাদার টেক্সটাইল।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এলিজা সুলতান বলেন, নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও মিলটি উৎপাদন অব্যাহত রেখে দেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে অনবদ্য বদান রেখে আসছিল। আগুনে পুড়ে যাওয়া মেশিন সমুহের পুনঃ স্থাপন করার জন্য ৮০ কোটি টাক্য প্রয়োজন যার সংস্থান করা আমাদের পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় সরকারী কোন আর্থিক সহায়তা ছাড়া মেশিন আমদানি করে মেশিন পুনঃস্থাপন করে মিলটি চালু করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে কোন সরকারী আর্থিক সহায়তা না পেলে মিলটি ধ্বংসের হাত হতে রক্ষা করার কোন উপায় নেই।
তিনি বলেন, মিলটি রক্ষা করতে না পারলে ব্যাংকের বৃহদাকার ঋন পরিশোধ করা কঠিন হয়ে যাবে। বিলুপ্ত হয়ে যাবে ৬ হাজার লোকের কর্মসংস্থান, হারিয়ে যাবে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উৎস। এমতাবস্থায় মিলটি পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি আকর্ষন করছি এবং সদয় সহায়তা কামনা করছি।
প্রতিষ্ঠানের কোন বিমা ছিল কিনা জানতে চাইলে এলিজা সুলতান বলেন, করোনা কালীন সময়ে সরকারের প্রণোদনার সুযোগ না পাওয়া সত্বেও শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ, বকেয়া গ্যাস বিল পরিশোধ এবং ব্যাংকের ঋনের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে অর্থের অভাবে বীমা করার অর্থের সংস্থান করা সম্ভব হয়নি।
বিজনেস নিউজ/এমআরএম