August 23, 2026, 2:50 am
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে পিছলে পড়ার ঝুঁকি সত্ত্বেও বাংলাদেশ আর বেশিদিন স্বল্পোন্নত দেশের তকমা নিয়ে ঘুরতে চায় না। বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি থাকলেও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এলডিসি থেকে উত্তরণ জরুরি।
আজ রোববার (২০ ডিসেম্বর) অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত স্বল্পোন্নত দেশে উত্তরণের প্রস্তুতি বিষয়ে আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, করোনাউত্তর বিশ্ব সম্পূর্ণ নতুন হবে। চায়নার উত্থানসহ ভূ-প্রকৃতিগতভাবে বিশাল পরিবর্তন আসবে ব্যবসা-বাণিজ্যে ও রাজনীতিতে। মধ্যম কাতারের দেশ হিসেবে বৈশ্বিক কোনো ভিশন আমাদের আছে কি না, জানি না। আমি ওই পয়েন্টে নই। তবে আমি মনে করি, আমাদের মাথা ঠাণ্ডা রেখে ঘরের কাজ দিনরাত করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে শেষ বিচারে আমাদের কম্পিটিটিভ থাকতে হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের টেকনিক্যাল ক্যাপাবিলিটি, প্রযুক্তির ব্যবহার, সাংস্কৃতিক কিছু জড়তা আছে সেগুলোকে কাটিয়ে উঠতে হবে। সেদিকে আশা করি আমরা সবাই কাজ করব। আমরা শিক্ষা ক্ষেত্রে এখনো একটু পেছনে আছি। সবাই মিলে এখন যদি এটাকে পুশ করি, এটাও উতরে যাব। পিচলে পড়ার শঙ্কা আছে, তবে হাজার হাজার ধরনের সুযোগ সামনে আসবে। সেগুলো গ্রহণ করার জন্য মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি খুবই জরুরি। আমরা মানসিকভাবে একধরনের বিভ্রান্তিতে ভুগি। সেটা আমাদের পরিষ্কার হওয়া দরকার। বিশ্ব আমাদের ঠিকানা, এটা মনে করা দরকার। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য অনেকে বিশ্বকে ঠিকানা মনে করেন না।’
ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে এম এ মান্নান বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর অনেকের সঙ্গে কথা বলা খুব কঠিন। যেসব তথাকথিত খুব উন্নত দেশ, তাদের নিজস্ব একটা এজেন্ডা থাকে তা অনেক সময় আমাদের চোখের সামনেও থাকে না। অনুমান করতে পারি কিন্তু দেখি না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মোটামুটি একটা পর্যায়ে আছে, যেখানে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলতে পারি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি আমার সুপারিশ থাকবে ইইউ’র সঙ্গে যোগাযোগ যেন আরও বাড়ানো হয়।
তিনি বলেন, ব্র্যাক্সিট হওয়ার পর ব্রিটেনের সঙ্গে আমরা আলাদা কমনওয়েলথ দেশের সদস্য হিসেবে কিছু সুযোগসুবিধা চাইতে পারি। ইইউ ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যদি আমরা দ্বি-মুখী আলোচনা করি এবং কিছু ম্যানেজ করতে পারি, তাহলে খুব ক্ষতি হবে বলে মনে হয় না।
মন্ত্রী বলেন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের একটা ট্র্যাক আছে। আমাদের নতুন গন্তব্য চীন। একই সঙ্গে আমাদের প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিনিয়ত বাড়াবার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। বিশেষ করে প্রতিবেশীর সঙ্গে ব্যবসা বেশি লাভজনক হবে। ট্রান্সপোর্ট খরচ ও সময় খরচ কম।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. এম এ রাজ্জাক। তিনি জানান, এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলে শুল্কমুক্ত সুবিধার অভাবে চাপে পড়বে অর্থনীতি। তৈরি পোশাকসহ অন্য পণ্য রপ্তানিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশে ৯ থেকে ১৭ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক গুণতে হবে। এতে রপ্তানি ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। ধাক্কা সামলাতে সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ বাড়াতে দর কষাকষি এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ওপর জোর দেন তিনি।
তবে, বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন জানান, এলডিসির উত্তরণ নিয়ে সরকার মোটেও চিন্তিত নয়। বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, সরকার এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় কাজ করছে। এ নিয়ে ভয় পেলে চলবে না, প্রস্তুতি জোরদার করতে হবে।
বিজনেস নিউজ/এমআরএম