May 25, 2026, 4:09 am
বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক। উল্লেখ্য, গত ছয় মাসে খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ১২ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ সময়ের মধ্যে দুটি ব্যাংক আদায় করেছে ১ দশমিক ৯৪ এবং ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ ঋণ। অপর দুই ব্যাংকের অর্জন মাত্র শূন্য দশমিক ২৪ এবং শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি ব্যাংকগুলো। প্রশ্ন হল, এ ব্যর্থতার দায় কার? বস্তুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় কেউই এর দায় এড়াতে পারে না। কারণ এখন পর্যন্ত খেলাপি ঋণ আদায়ে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তার কোনোটিই কাজ দেয়নি।
বরং খেলাপিদের নানাভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা। ফলে শীর্ষ ৮০ ঋণখেলাপির কাছে রীতিমতো জিম্মি হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক। খেলাপি ঋণ আদায়ে এই শীর্ষ খেলাপিদের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করা উচিত বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।
আমাদের মনে আছে, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, ‘ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা, এ টাকা নিলে ফেরত দিতে হবে। দেশের জনগণের টাকা বেহাত হোক বা ফেরত না আসুক, এটি চাইতে পারি না।
সরকারি বা বেসরকারি যে ব্যাংক থেকেই ঋণ নেয়া হোক না কেন, ঋণের অর্থ ফেরত দিতে হবে।’ খেলাপি ঋণ আদায়ের বিষয়ে এ ধরনের দৃঢ় অবস্থানের বিকল্প নেই বলে মনে করি আমরা। দেশে ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা বিরাজ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল উচ্চ খেলাপি ঋণ। মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বস্তুত খেলাপি ঋণ শুধু ব্যাংকিং খাতে নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেই ঝুঁকি তৈরি করছে। বিগত সময়ে দেখা গেছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ঋণ পুনঃতফসিল, ঋণ অবলোপন ইত্যাদির মাধ্যমে ঋণখেলাপির দায় থেকে মুক্ত থেকেছেন। কিন্তু এর মাধ্যমে খেলাপি ঋণ সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি, বরং তা ঋণ আদায় প্রক্রিয়াকে আরও প্রলম্বিত করেছে। তাই খেলাপি ঋণ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। সমাধানটি এমন হওয়া উচিত যাতে ঋণখেলাপিরা যত বড় প্রভাবশালীই হোন, তাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত হবে।