May 25, 2026, 4:13 pm
ব্যাংক যেন ভালোভাবে চলে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, আমরা যত বেশি প্রাইভেট ব্যাংক দিয়েছি, এতে ব্যাপক হারে কর্মসংস্থান হয়েছে। অনেক মানুষের চাকরি হয়েছে। এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা। আর আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যও সম্প্রসারিত হয়েছে। সেখানে ব্যাংকগুলো যাতে ভালোভাবে চলে আমরা সেটাই চাই।
আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিএবি নেতারা অনুদান দিতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এ অনুদান গ্রহণ করে মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবিলায় সকলেই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। আমি কাউকে বাদ দিতে পারবো না। সে জন্য হয়তো আমরা এটা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। সামনে শীত, আরেকটু হয়তো খারাপের দিকে যেতে পারে। তবুও আমাদের এখন থেকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বিএবি নেতারা সব সময় এগিয়ে এসেছেন। নিজেরা এগিয়ে এসেছেন তাই আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যখন যে দাবিটাবি আনেন, যেটা যুক্তিসঙ্গত সেটা আমরা সবসময়ই বিবেচনা করি। আজকেও বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল সাহেব যে কথাগুলো বলেছেন, আমি সেটা দেখবো। যদি সেখানে সমস্যা থাকে তবে যাতে সমস্যা আর না হয় তা আমরা অবশ্যই বিবেচনা করবো। আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে ব্যাংকটা যেন ভালোভাবে চলে সেদিকে আপনারা বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, কিছু কিছু ব্যাংক আছে অতি দুর্বল হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে অনেক সময় মার্জ করাতে হয়। সেটা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে কোনটা ঠিকমতো চলছে। কোনটা ঠিকমতো চালাতে পারছে কিনা? সেগুলো বিবেচনা করেই করা হবে। অবিবেচনা করে কিছুই করা হবে না এইটুকু ভরসা রাখবেন। আপনাদের এ অনুদান সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগেবে। সে জন্য আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে দেখা হচ্ছে না। তবুও বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আপনারা আমার অফিসে কষ্ট করে এসেছেন সেজন্য সবাইকে আন্তরিকে ধন্যবাদ। সবাই সুস্থ থাকবেন এটাই আমরা চাই। দোয়া করেন দেশটা যাতে করোনা মহামারি থেকে মুক্তি পায়। সারাবিশ্ব-ই যাতে মুক্তি পায়। মানুষের সত্যিই খুব কষ্ট হচ্ছে করোনার কারণে। তবুও দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখতে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। তার জন্য যা যা দরকার সেটা দিয়ে যাচ্ছি। জনগণের জন্য কাজ করাটায় আমাদের লক্ষ্য।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রাইভেটে ব্যাংকটা দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমরাই নিয়েছিলাম। আমরাই সব থেকে বেশি প্রাইভেট ব্যাংক দিয়েছি। কারণ গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মানুষ যাতে ব্যাংকিং ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়, তার ব্যবস্থাও আমরা নিয়েছি। এমনকি কৃষককে ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা নিয়েছি। অর্থাৎ মানুষকে অভ্যস্ত করা ব্যাংকের মাধ্যমে যেন আর্থিক লেনদেন করতে পারে, সে পদক্ষেপও নিয়েছি। এতে ব্যাপক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়েছে।
কে কত অনুদান দিল: মোট ১৬৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে দেওয়া হয় এদিন। তার মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের (বিএবি) পক্ষ থেকে ১৬৪ কোটি টাকা, ফরেইন অফিসার্স স্পাউস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রী সেলিনা মোমেন ও পররাষ্ট্র সচিবের স্ত্রী ফাহমিদা জেবিন দেন ১০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট ৫ লক্ষ টাকা, মিনিস্টার গ্রুপ ২৫ লক্ষ টাকা ও ১ লাখ সার্জিক্যাল মাস্ক, খাদ্য মন্ত্রণালয় ১০ লক্ষ টাকা, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ১০ লক্ষ টাকা, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ১০ লক্ষ টাকা, বাংলাদেশে বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন ৪০ লক্ষ টাকা, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল আলম ২৫ লাখ টাকা, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড পরিচালক এস এম শফিকুল্লা খান ৫ লাখ টাকা, পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ শারাফাত ১০ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছে।