October 7, 2026, 1:39 am

স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও নির্মাণ হয়নি সাগরঘাট ব্রিজ

স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও নির্মাণ হয়নি সাগরঘাট ব্রিজ

দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৯ বছরেও নির্মিত হয়নি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সতি নদীর সাগরঘাট ব্রিজ। ফলে চরম দুর্ভোগে কয়েকটি গ্রামের মানুষ।

 

জানা গেছে, উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের চড়িতাবাড়ী বুড়িরদিঘি হয়ে বামনেরবাসা এলাকা যাতায়াতের রাস্তায় রয়েছে সতি নদীর সাগরঘাট। এ ঘাট দিয়ে নৌকা বা কলা গাছের ভেলায় সতি নদী পারাপার হন কয়েকটি গ্রামের মানুষ। সাগরঘাটের দুই প্রান্তে রয়েছে বাজার, স্কুলসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ফলে সতি নদীর সাগরঘাট দিয়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ দৈনিক যাতায়াত করেন কয়েক হাজার মানুষ।

জনবহুল এ পথে সাগরঘাটে একটি ব্রিজ নির্মাণ করতে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে দাবি তুলে আসছেন। নির্বাচনের সময় সব জনপ্রতিনিধি এ এলাকায় এলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখেন সাগরঘাট ব্রিজ করবেন।

কিন্তু সরকারের পালাবদল হলেও জনদুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাননি স্থানীয়রা। দেশ স্বাধীনের ৪৯ বছরেও নির্মিত হয়নি ব্রিজটি।

ব্রিজ নির্মাণ না হলেও কয়েক বছর আগেই সাগরঘাটের উভয় প্রান্তের সড়কটি পাকা করেছে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর। সড়কটি পাকা করা হলেও একটি ব্রিজের অভাবে  সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা। দু’দিকে পাকা সড়ক মাঝপথে সতি নদীর সাগরঘাটে নৌকা বা ভেলায় নদী পাড়ি দিতে হয়। ফলে পাকা করা সড়কটিও তেমন কাজে আসছে না।

স্থানীয়রা জানান, কমলাবাড়ী এলাকাটি সবজি এলাকা হিসেবে বেশ পরিচিত। এ এলাকার সবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাকে করে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বাজারে বিক্রি হয়। সাগরঘাটে ব্রিজ না থাকায় পরিবহন সমস্যার কারণে এখানকার চাষিরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। অনেক সময় এসব পণ্য পরিবহনে নৌকা বা ভেলা উল্টে চাষিদের পণ্যের ক্ষতি হয়। ব্রিজের অভাবে বামনেরবাসা গ্রামের বাসিন্দাদের কমলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ বা আদিতমারী উপজেলা পরিষদ যেতে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়। আবার একইভাবে চণ্ডিমারী চরিতাবাড়ী এলাকার মানুষদের বামনেরবাসা হয়ে হাজিগঞ্জ বা কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিয়ালখোয়ার হাট যেতে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়। যা সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হয়।

সাগরঘাট এলাকার দুই প্রান্তে রয়েছে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলাগাছের ভেলায় বা নৌকায় করে যাতায়াত করে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ পথ হওয়ায় অনেক অভিভাবক তাদের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠান না। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত থাকলেও শিক্ষার হার দিন দিন কমে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে। এ কারণে এলাকাবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে সাগরঘাটে ব্রিজ নির্মাণ।

পথচারী চাঁন মিয়া বলেন, জন্ম থেকেই কলাগাছের ভেলায় এ সাগরঘাট পাড়ি দিচ্ছি। পানিতে পড়ে যাওয়ার ভয়ে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে চায় না। আমাদের চাষ করা সবজি সারা দেশের বাজারে বিক্রি হয়। অনেক কষ্ট করে ভেলা বা নৌকায় করে এসব সবজি নদী পার করতে হয়। যা ব্যয় বহুল। এ কারণে পাইকাররা সবজি ক্রয় করতে এসব গ্রামে আসেন না। ফলে এখানকার কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য আমরা পাই না। তাই দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের দাবি আমাদের।

বুড়িরদিঘি এলাকার বিপ্লব মিয়া বলেন, ভোটের সময় সবাই ব্রিজ করতে চেয়ে ভোট নেন। ভোট শেষে আর তাদের দেখা পাওয়া যায় না। সরকারি লোকজন মাঝে মধ্যে এসে মাপ নেন। কিন্তু ব্রিজ আর হয় না।

শিয়ালখোয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক বলেন, পাবনাপাড়া, ময়না চওড়া, বেলতলি, বামনেরবাসা এলাকার শিক্ষার্থীরা সাগরঘাট পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। এসব গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রায় সময় বিলম্বে বা ভিজে বিদ্যালয়ে আসে। তাই সাগরঘাট ব্রিজটি দ্রুত নির্মাণ করা প্রয়োজন।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com