October 9, 2026, 4:58 pm

বাসের চেয়ে ভাড়া বেশি মেট্রোরেলে, প্রতি কিলোমিটার আড়াই টাকা

বাসের চেয়ে ভাড়া বেশি মেট্রোরেলে, প্রতি কিলোমিটার আড়াই টাকা

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে দেশের প্রথম মেট্রোরেল (এমআরটি-৬)। আগামী বছর এ মেট্রোরেল উদ্বোধনের কথা রয়েছে। মেট্রোরেলের জন্য ভাড়ার হার প্রস্তাব করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ধরা হয়েছে দুই টাকা ৪০ পয়সা।আর ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই পথের ভাড়া নেয়া হবে ৪৮ টাকা ২৫ পয়সা। যেখানে রাজধানীতে প্রতি কিলোমিটার বাস ভাড়া ১ টাকা ৭০ পয়়়সা। বাসের তুলনায় যাত্রীদের প্রতি কিলোমিটারে ৭০ পয়সা ভাড়া বেশি গুনতে হবে।

মেট্রোরেলের ভাড়া নির্ধারণী বৈঠকে এ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ তথা ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল), বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিটিসিএ, রেলওয়েসহ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রমতে, প্রতিটি ট্রেনের ছয়টি কোচের মধ্যে একটি কোচ নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে ট্রেনের অন্যান্য কোচে নারী-পুরুষ একসঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবে। মেট্রোরেলটিতে ৪০ মিনিটেরও কম সময়ে ২০ কিলোমিটারের পুরো রুট ভ্রমণ করা যাবে। আর এ রুটে ৬০ হাজার যাত্রী প্রতি ঘণ্টায় যাতায়াত করতে পারবে। আর দৈনিক চার লাখ ৮৩ হাজার যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ভাড়া নির্ধারণে একটি কমিটি গঠন করে। ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে সাত সদস্য রয়েছেন। তাদের প্রতিবেদন দ্রুত জমা দিতে গত ১০ ডিসেম্বর আরেক দফা চিঠি দেয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আর এক মাস পর ১০ জানুয়ারি কমিটি বৈঠকে ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টি উত্থাপন করে। সেখানে ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে ‘মেট্রোরেল আইন, ২০১৫’-এর ধারা ১৮(২) অনুযায়ী মেট্রোরেল পরিচালনার ব্যয় ও জনসাধারণের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করে ভাড়ার হার প্রস্তাব করা হয়।

মেট্রোরেল নির্মাণে সরকারি খাত ও বৈদেশিক ঋণের মাসিক ও দৈনিক খরচ, মেট্রোরেল পরিচালন ব্যয়, কর্মীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন খাতকে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর সঙ্গে যাত্রী পরিবহনের হিসাবও নিরীক্ষা করা হয়েছে।

এতে দেখা যায়, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ধরলে কিলোমিটারে দুই টাকা ৪০ পয়সা হিসাবে ৪৮ টাকা ২৫ পয়সা আদায় করা হবে যাত্রীপ্রতি। আর মেট্রোরেলটি মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত করলে যে ভাড়া হবে, তা পরে যোগ হবে। এ অংশের কাজ নতুন করে করছে এমআরটি লাইন-৬ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে মেট্রোরেল নির্মাণ ব্যয় ও পরিচালন ব্যয় যোগ করলে প্রতি মাসে খরচ পড়বে ৬৯ কোটি ৯১ লাখ ৭২ হাজার ২২৯ টাকা। দৈনিক হিসাবে এ খরচের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দুই কোটি ৩৩ লাখ টাকা। প্রকল্প ব্যয়ের খরচের সঙ্গে ঋণের টাকার সুদ, গ্রেস পিরিয়ড, সরকারি অর্থ, পরিচালন ব্যয় সবকিছু পর্যালোচনা করে এই খরচ তুলে ধরা হয়েছে।

মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা দিচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। বাকি পাঁচ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা সরকারের তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে। প্রকল্প খরচের ব্যয় ধরা হয়েছে দৈনিক সরকারি উৎস ৪৯ লাখ ৯১ হাজার টাকা আর বৈদেশিক ঋণের টাকার দৈনিক পরিমাণ এক কোটি ৫৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

এর সঙ্গে আছে প্রশাসনিক ব্যয়। এক্ষেত্রে বেতন-ভাতার হিসাবে দৈনিক খরচ প্রায় ১৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। এর বাইরেও অন্যান্য খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ১১ হাজার টাকা। আর পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে বেতন-ভাতায় দৈনিক খরচ সাত লাখ এক হাজার টাকা, বিদ্যুৎ বিল ৬৮ হাজার টাকা এবং তিন লাখ ৩৬ হাজার টাকা দৈনিক খরচ হতে পারে। তবে ভাড়া দিয়ে লাভজনক করা যাবে না, এমন বিবেচনায় ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট হাব ও স্টেশন প্লাজা গড়ে তোলা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, ভাড়া নির্ধারণে ডিএমটিসিএলকে প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছিল। তারা রোববারের বৈঠকে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে দেখবে। এর ভিত্তিতে ভাড়ার হার চূড়ান্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের জুনের মধ্যে মেট্রোরেল চালু করা হবে বলে সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এটি উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে শুরু হয়ে পল্লবী, মিরপুর-১০, আগারগাঁও, খামারবাড়ী, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, তোপখানা রোড, বাংলাদেশ ব্যাংক, জসিম উদ্দিন রোডের প্রথম অংশ হয়ে দক্ষিণ দিক দিয়ে সার্কুলার রোডে কমলাপুর রেলস্টেশন-সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে। এক্ষেত্রে নতুন করে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এক দশমিক ১৬ কিলোমিটার বর্ধিত করা হচ্ছে। এজন্য ১৬টির পরিবর্তে এখন স্টেশন দাঁড়াচ্ছে ১৭টি।

বিজনেস নিউজ/এসআর

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com