October 9, 2026, 4:47 pm

বিনিয়োগকারীদের হারানো টাকায় হচ্ছে বড় তহবিল

বিনিয়োগকারীদের হারানো টাকায় হচ্ছে বড় তহবিল

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানিতে শেয়ারহোল্ডারদের অদাবিকৃত ২১ হাজার কোটি টাকার ডিভিডেন্ড পড়ে রয়েছে। শেয়ারহোল্ডারদের ঠিকানা না পাওয়া, ওয়ারিশ নিয়ে জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে কোম্পানিগুলোতে এই ডিভিডেন্ড জমা পড়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ওই পড়ে থাকা ডিভিডেন্ডকে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এ টাকার বিষয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম বলেন,এটা হচ্ছে পারপ্যাচুয়াল। আজীবন কেউ যদি এসে বলে এটা আমার এবং সে যদি সেটা যথাযথ প্রমান দিতে পারে তাহলে অবশ্যই তাকে তার টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

বিএসইসির পক্ষ থেকে শেয়ারহোল্ডারদের অদাবিকৃত ডিভিডেন্ডের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) দায়িত্ব দেয়া হয়। ডিএসই ২১৮টি কোম্পানির কাছে অপরিশোধিত ডিভিডেন্ডের তথ্য চেয়েছিল। যার মধ্যে ২০৮টি কোম্পানি তথ্য দিয়েছে। আর সিএসইর পক্ষ থেকে ১৫৩টি কোম্পানি কাছে তথ্য চাওয়া হলে ১২৭টি দিয়েছে।

ডিএসইর পরিসংখ্যান অনুসারে, কোম্পানিগুলোর অদাবিকৃত বোনাস লভ্যাংশের পরিমাণ ১১ হাজার ১০৪ কোটি ৪৮ লাখ ১৬ হাজার ৩৮৩ টাকা ও নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ ৬৩৪ কোটি ৬৬ লাখ ৪৭ হাজার ২৫৮ টাকা। আর সিএসইর হিসাব অনুসারে অদাবিকৃত বোনাস ডিভিডেন্ডের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৮৮১ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৪৬৩ টাকা ও ক্যাশ ডিভিডেন্ডের পরিমাণ ৩২১ কোটি ৪৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ হিসাবে কোম্পানিগুলাতে শেয়ারহোল্ডারদের মোট লভ্যাংশ পাওনার পরিমাণ জমা রয়েছে ২০ হাজার ৯৪২ কোটি ৩৯ লাখ ৫৫ হাজার ১০৪ টাকা।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮ হাজার ৮০৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকার অদাবিকৃত ডিভিডেন্ড রয়েছে তামাক খাতের বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের (বিএটিবিসি) কাছে। এরমধ্যে ৮ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা বোনাস ডিভিডেন্ড এবং ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ক্যাশ ডিভিডেন্ড।

বিএসইসির পক্ষ থেকে এরইমধ্যে বিপুল অংকের এ অদাবিকৃত লভ্যাংশ পুঁজিবাজারে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য কমিশনের পক্ষ থেকে কোম্পানিগুলোর জন্য একটি নির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে, যা শিগগিরই জারি করা হবে। নির্দেশনায় ডিভিডেন্ড ঘোষণা বা অনুমোদনের এক বছরের মধ্যে অপরিশোধিত ডিভিডেন্ড একটি আলাদা ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করতে হবে। স্টক ডিভিডেন্ড ৩০ দিনের মধ্যে বিও হিসাবে পাঠিয়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে অদাবিকৃত বোনাস ডিভিডেন্ডের জন্য একটি আলাদা সাসপেন্স বিও হিসাব রাখতে হবে কোম্পানিগুলোকে।

এছাড়া লভ্যাংশ ঘোষণা কিংবা অনুমোদনের তিন বছর অদাবিকৃত বোনাস ও ক্যাশ ডিভিডেন্ড
বিএসইসির পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল’ নামক একটি বিশেষ তহবিলে স্থানান্তর করা হবে। এ তহবিল থেকে শেয়ার ধারের মাধ্যমে বাজারে শেয়ার সরবরাহের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতায় ব্যবহার করা হবে। কীভাবে অপরিশোধিত ডিভিডেন্ড কাজে লাগানো হবে, এ-সংক্রান্ত একটি বিধিমালা প্রস্তুত করেছে কমিশন। শিগগিরই এ বিষয়ে জনমত যাচাই করা হবে।

বিজনেস নিউজ/এমআরএম

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com