October 7, 2026, 4:51 pm
করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন কেনাসহ জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির নির্বাহী পরিষদের (একনেক) সভায় ৯ হাজার ৫৬৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকার ব্যয় করবে ৩ হাজার ৮৬৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আর বৈদেশিক ঋণ ৫ হাজার ৭০১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
আজ মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের সামনে বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
সভায় কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড পেন্ডামিক প্রিপেয়ার্ডনেস’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬ হাজার ৭৮৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মূল খরচ ছিল ১ হাজার ১২৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। অর্থাৎ করোনা মোকাবিলার এ প্রকল্পের খরচ বাড়লো ৫ হাজার ৬৫৯ কোটি ৭ লাখ টাকা।
প্রকল্পের মোট খরচের মধ্যে সরকার দেবে ১৭২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। প্রথমে সরকারের দেয়ার কথা ছিল ২৭৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। অর্থাৎ এ প্রকল্পে সরকার এখন ১০৫ কোটি ৬ লাখ টাকা কম দেবে।
প্রকল্পে বিদেশি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। প্রকল্পে প্রথমে বিদেশি ঋণ ছিল ৮৫০ কোটি টাকা। বর্তমানে ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৬৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
প্রকল্পটি ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে।স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ বা স্বাস্থ্য অধিদফতর।
সভার পরে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, আজ বর্তমান সরকারের ৫৩তম একনেক সভায় সাতটি প্রকল্পের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন পায়, একটি প্রকল্প আরো সংশোধনীর জন্য পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, অনুমোদন পাওয়া ছয়টি প্রকল্পে যে ব্যয় হবে তার মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে ৩ হাজার ৮৬৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং বিদেশী ঋণ থেকে সংগ্রহ করা হবে ৫ হাজার ৭০১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
যে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়নি সে সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, যে প্রকল্পটি পাস হয়নি সেটি হচ্ছে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ প্রকল্পের সংশোধনী।
মন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন আওয়ামী লীগ সরকার অনেক জায়গায় মেডিকেল কলেজ করছে। অন্যান্য কলেজও করছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশাল একটা বিস্ফোরণের পর্যায়ে আমরা আছি এবং মেডিকেল শিক্ষা, প্রযুক্তি শিক্ষাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এতে খুবই আগ্রহী। অনেক জায়গায় এ নিয়ে অনেক সমালোচনাও হচ্ছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, করে ফেললেই এটা করা হবে। করলে ঠিকই আমাদের জনবল তৈরি হবে, আমাদের শিক্ষক তৈরি হবে, সম্ভব। আমরাও তার সঙ্গে একমত, আমি ব্যক্তিগতভাবে একমত। সেই সুবাদে কুষ্টিয়ায় ২০১০ সালে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা হয়েছিল। ২০১২ সালে নির্মাণকাজ শুরু হওয়া সেই কলেজটির কাজের গতিবিধি সন্তোষজনক নয়। এখন পর্যন্ত এটি শেষ হয়নি, আজ এসেছিল তৃতীয় সংশোধনী। কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে আজকে ২০২৩ পর্যন্ত প্রস্তাবনা এসেছে। এটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিরক্তি ও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তারা নিজেদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এটা তাৎক্ষণিক তদন্ত করতে বলেছেন। খুব শিগগিরই এর রিপোর্ট তিনি চেয়েছেন।