May 31, 2026, 10:36 am

মধু উৎপাদনে সফল কুষ্টিয়ার মধু মামুন

মধু উৎপাদনে সফল কুষ্টিয়ার মধু মামুন

বিস্তীর্ণ সরষে ক্ষেতে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে সাফল্য পেয়েছেন কুষ্টিয়ায় মিরপুর উপজেলার মৌ-চাষি মামুন আর রশিদ ওরফে মধু মামুন। ১৯৯৭ সালে কারিগরি কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই দুই হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে মাত্র চারটি মধুর বাক্স নিয়ে শখের বশেই মৌ-চাষ শুরু করেন। এরপর পুরোদমে আত্মনিয়োগ করেন মৌ-চাষে। নিরলস পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের ফলে তিনি এখন স্বাবলম্বী। মামুনের সংগৃহীত মধু দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে বিদেশেও। বর্তমানে মামুনের মৌ খামারে ১৮৭টি বাক্স রয়েছে।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গেটপাড়া গ্রামের মৃত মসলেম উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে মামুন। তিনি জানান, ১৯৯৮ সালে মাস্টার্স পাস করে চাকরির আশা না করেই বাণিজ্যিকভাবে মধুর চাষ করে ভাগ্য বদলানোর চেষ্টা করেন। বর্তমানে তার মধু খামারে ১৬ জন কর্মচারী সারা বছরই মধু উৎপাদন করে।

মামুন আর রশিদ বলেন, প্রতি বছর সরষে, কালোজিরা, ধনিয়া, টমেটো, লিচুসহ বিভিন্ন ফুলের মধু সংগ্রহ করা হয়। মেয়ের নামানুসারে খামারে নাম রেখেছি ‘মিষ্টি মৌ খামার’। কুষ্টিয়ার বিসিক থেকে মধু বাজারজাত করার সনদও দেয়া হয়েছে। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে মধু সংগ্রহ শুরু হয়েছে। চলবে আগামী এপ্রিল পর্যন্ত।

সম্প্রতি মিরপুর উপজেলার ধুবইল মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাঠজুড়ে বিস্তীর্ণ সরষের ক্ষেত। শীত মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গেই সরষের ক্ষেতের পাশে মৌ-চাষের বাক্স বসিয়েছেন মামুন। বাক্স থেকে মৌমাছির দল সরষে ক্ষেতে উড়ে উড়ে ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে আবার বাক্সে ফিরে যাচ্ছে। বাক্স থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হয় মধু।

মামুন জানান, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ছিল তার বিরল প্রতিভা। যাত্রাপালা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গম্ভীরা, পথনাটক, একক নারী-পুরুষ কণ্ঠের গান সবই করেছেন। মামুনের স্ত্রী রাশিদা আক্তার খুলনা বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী। মেয়ে মায়মুনা রশিদ মিষ্টি (১৪) ও ছেলে আহানাফ তাহমিদ মুন (১০) পড়াশোনা করছে। বর্তমানে মামুনের মধু দেশ-বিদেশে বিক্রি হয়। অনেকে তার বাড়িতে গিয়ে মধু কেনেন।

মামুন বলেন, বেশিরভাগ কোম্পানিই স্বল্প মূল্যে মধু কিনে নিয়ে তাতে কেমিক্যাল মিশিয়ে চড়া দামে বিক্রি করে। গাছি সংগ্রহকারীরা মৌচাকে চাপ দিয়ে মধু সংগ্রহ করেন। এতে মধুর গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। আর মৌ খামারে যন্ত্রের সাহায্যে বাতাস দিয়ে মধু সংগ্রহ করা হয়। এতে মধুর গুণগত মান ভালো থাকে।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, মামুন মৌ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার সাফল্য দেখে এখন আরও অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে মৌ-চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। আবার সরষে ক্ষেতে মৌমাছি যে পরাগায়ন ঘটায়, তাতে সরষের দানা ভালো হয়। ফলনও বাড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বেশি।

বিজনেস নিউজ/এসআর

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com