September 30, 2026, 11:18 pm
সরকারি কেনাকাটায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা যোগ্যতার শর্তে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে সরকারি দরপত্রে অংশ নিতে প্রতিষ্ঠানের পূর্ব অভিজ্ঞতা ও উচ্চ বার্ষিক টার্নওভারের বাধ্যতামূলক শর্ত আগের মতো কঠোর থাকছে না।
এতে নতুন প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সরকারি ক্রয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে। তবে অভিজ্ঞতা ও আর্থিক সক্ষমতার শর্ত শিথিল হওয়ায় কাজের মান, সক্ষমতা ও বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকছে। এ ঝুঁকি মোকাবেলায় নির্দিষ্ট ক্রয়ের ক্ষেত্রে কাজের ধরন, জটিলতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় বিশেষ যোগ্যতার শর্ত আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ সংশোধন করে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। গত সোমবার অধ্যাদেশটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
সংশোধিত আইনের অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো দরপত্রে অংশ নেওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রে পূর্ব অভিজ্ঞতা ও উচ্চ বার্ষিক টার্নওভারের শর্ত শিথিল করা। এত দিন সরকারি কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও নির্দিষ্ট পরিমাণ বার্ষিক ব্যবসার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতো। নতুন ব্যবস্থায় এসব শর্তের বাধ্যবাধকতা কমানো হয়েছে।
ফলে নতুন প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি ক্রয়ের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে সব ধরনের ক্রয়ের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। কাজের ধরন, জটিলতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় কোনো নির্দিষ্ট ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ যোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা যাবে। ফলে জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার শর্ত বহাল রাখার সুযোগ থাকছে।
সরকারি ক্রয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিতে আইনে ‘জাতীয় অগ্রাধিকার সত্তা’ নামে নতুন সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি সরবরাহকারী, ঠিকাদার, সেবাদাতা ও পরামর্শককে একসঙ্গে বোঝাতে ‘ইকোনমিক অপারেটর’ নামে নতুন সংজ্ঞা সংযোজন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক দরপত্রের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিদেশি ঠিকাদার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে অংশ নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক দরপত্রে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দরপত্রের তথ্য প্রচার ও অংশগ্রহণের কাঠামো স্পষ্ট করতে আন্তর্জাতিক প্রকিউরমেন্ট পোর্টাল ব্যবহারের বিধানও রাখা হয়েছে।
দরপত্র মূল্যায়নের পদ্ধতিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন নির্দিষ্ট পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে শুধু কারিগরি সক্ষমতা ও আর্থিক দর বিবেচনা করলেই হবে না; টেকসইতার বিষয়ও মূল্যায়নের অংশ হতে পারবে। পরিবেশের ওপর কোনো পণ্য বা সেবার প্রভাব, শক্তি ব্যবহারের দক্ষতা এবং পণ্যের স্থায়িত্ব বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে শুধু কম দামের ভিত্তিতে সরকারি কেনাকাটার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধাকেও গুরুত্ব দেওয়া যাবে।
অস্বাভাবিক কম দর দেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় কোনো দরদাতা অস্বাভাবিক কম দর দিলে সেটি বিশেষভাবে যাচাই করতে হবে।
এসআর
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.