October 25, 2026, 2:31 pm
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এই আয়োজন গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের অটুট অঙ্গীকারের প্রমাণ।
ভোটগ্রহণ শেষে দেওয়া বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব মিলেই এই বৃহৎ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সফল করেছে। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তার ভাষায়, “তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”
চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরও গণতান্ত্রিক শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রফেসর ইউনূস বলেন, “মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।” তিনি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট রাখার অনুরোধ জানান।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ আবারও প্রমাণ করেছে—জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। সম্মিলিতভাবে একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
এ নির্বাচনকে তিনি জাতির জন্য আনন্দ ও উৎসবের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো। তার দাবি, দেশের ইতিহাসে এটিই ছিল সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন। এই ধারা অব্যাহত থাকলে গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে পৌঁছাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শেষে তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এই অভিযাত্রায় একসঙ্গে কাজ করতে।