May 25, 2026, 1:24 pm
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বেগমপুর ইউনিয়নের উজলপুর গ্রামে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষে তাদের দুই নেতা আহত হয়েছেন। তারা হলেন—দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান (৩২) এবং শ্রমিক কল্যাণ সেক্রেটারি হাসান তারেক (২৭)। আহত দুজন রাতেই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষে তাদের তিন সমর্থক আহত হয়েছেন। তারা হলেন—মুজিবর রহমান, জুনায়েদ হোসেন ও আশিক।
জামায়াতের আমির মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, রাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে উজলপুরে জামায়াতের নির্বাচনী অফিসের সামনে চড়াও হয় এবং তাদের দুই নেতাকর্মীকে মারধর করে। তবে তিনি দাবি করেন, বিএনপির অফিসে কোনো ধরনের ভাঙচুর হয়নি।
অন্যদিকে বিএনপির দপ্তর সম্পাদক উজলপুর গ্রামের আসলাম হোসেন বলেন, রাতে বিএনপির শান্তিপূর্ণ মিছিল চলছিল। এ সময় জামায়াতের নির্বাচনী অফিসে অবস্থানরত কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের ‘মেথর’ বলে সম্বোধন করেন। এর প্রতিবাদ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এতে বিএনপির তিন সমর্থক আহত হন। জামায়াতের নেতাকর্মীদের আহত হওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে বলেন, তাদের কাউকে মারধর করা হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা একে অপরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আল ইমরান জুয়েল জানান, জামায়াতের দুই নেতার মাথা ও চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় উভয়পক্ষের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে একটি নির্বাচনী অফিসে একটি চেয়ার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।