October 7, 2026, 10:37 am

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাটছাঁট হচ্ছে ঘাস চাষ শিখতে বিদেশ সফর

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাটছাঁট হচ্ছে ঘাস চাষ শিখতে বিদেশ সফর

প্রাণীপুষ্টির উন্নয়নে উন্নত জাতের ঘাসের চাষ সম্প্রসারণ ও লাগসই প্রযুক্তি হস্তান্তর’ শীর্ষক প্রকল্পে বিদেশ ভ্রমনে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যাক্তিকে না নিয়ে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিদেশ সফর একান্তই প্রয়োজন হলে কর্মকর্তার সংখ্যা কমাতে হবে। যাদের পাঠানো হবে তারা যেন এই ঘাস চাষ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সেই সঙ্গে বিদেশ সফরে ব্যয়ও কমাতে হবে।

আজ মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় এই নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনা কমিশন বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আসাদুল ইসলাম।

আসাদুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ একনেকের নজরে আসায় এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলা হয়েছে যে, ৩২ জন বিদেশ যাবেন তাদের অনেকেই ওই ডিপার্টমেন্টের নয়। তাই প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র কনসার্ন ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রকল্পটিতে ঘাস চাষ শিখতে ৩২ কর্মকর্তার বিদেশ যাওয়ার কথা ছিল। প্রত্যেকের পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ লাখ টাকা করে। এতে মোট বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ১১৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকার ‘প্রাণীপুষ্টির উন্নয়নে উন্নত জাতের ঘাসের চাষ সম্প্রসারণ ও লাগসই প্রযুক্তি হস্তান্তর’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রকল্পটি চলতি বছর থেকে ২০২৪ সালের মার্চের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর।  এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশ সফরের ব্যবস্থা থাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন সময় পুকুর খনন শেখা, খাল খনন, মৎস্য চাষ প্রযুক্তি হস্তান্তর, কাজুবাদাম চাষ, সড়ক উন্নয়ন এবং সুউচ্চ বিল্ডিং দেখতে বিদেশ সফরের প্রস্তাবও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হচ্ছে, খামারি পর্যায়ে উচ্চ উৎপাদনশীল জাতের ঘাস চাষ সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয় করার মাধ্যমে গবাদি প্রাণীর পুষ্টির উন্নয়ন ঘটানো। এছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় খামার পর্যায়ে প্রাণীপুষ্টি উন্নয়ন প্রযুক্তি প্রদর্শন ও দুর্যোগকালীন গো-খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সাইলেজ প্রযুক্তি গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ। খামারিদের প্রাণীপুষ্টি সংক্রান্ত আধুনিক পদ্ধতি ও কৌশলবিষয়ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ বিষয়ে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন করা। ২৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পে আবশ্যিকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নিয়ম থাকলেও এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে সেটি মানা হয়নি। বলা হয়েছে, প্রকল্পটি সম্প্রসারণধর্মী হওয়ায় সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। তবে ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে এ ধরনের একটি প্রকল্প ছোট আকারে বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্প এলাকার কৃষকদের মাঝে ঘাস চাষে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। সে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভায় সতর্ক করে সুপারিশ দিয়ে বলা হয়, ঘাস চাষ যেন প্রচলিত খাদ্যশস্য চাষে ব্যাঘাত না ঘটায় বিষয়টি লক্ষ্য রেখেই কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া ধানসহ অন্যান্য প্রচলিত খাদ্যশস্যের তুলনায় ঘাস চাষ লাভজনক কিনা তার হিসাব ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) যুক্ত করতে হবে। তবে বিদেশ সফর নিয়ে তেমন আপত্তিই তোলা হয়নি ওই সভায়।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে- সাভারে কেন্দ্রীয় গো প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে স্থায়ী জার্ম প্লাজম নার্সারি স্থাপন করা হবে। এছাড়া খামারি পর্যায়ে ৮ হাজার ৯৭০টি উচ্চ উৎপাদনশীল উন্নত জাতের স্থায়ী বা অস্থায়ী ঘাসের প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হবে।

বিজ্ঞানসম্মত ও আধুনিক পদ্ধতিতে কাঁচাঘাস সংরক্ষণের জন্য ১৭ হাজার ৯৪০টি খামারে লাগসই প্রযুক্তি (সাইলেজসহ) হস্তান্তর করা। অধিক প্রোটিন সমৃদ্ধ ঘাসের বীজ বিতরণ, ভিটামিন-মিনারেল প্রিমিক্স খাদ্য এবং কৃমিনাশক বিতরণ, কমিউনিটি এক্সটেনশন এজেন্ট নির্বাচন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

বিজনেস নিউজ/এমআরএম

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com