October 9, 2026, 2:22 pm
পঞ্চম দফা অবরোধ শেষে দুদিনের হরতাল কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো। অবরোধের ন্যায় হরতালের মধ্যেও আতঙ্ক আর যাত্রী সংকটের কারণে চলছে না দূরপাল্লার বাস। রাজধানীতে গণপরিবহন চললেও সংখ্যায় কম। অফিস খোলা থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে অফিসগামী যাত্রীদের।
রোববার (১৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে আটটা থেকে ১০টা পর্যন্ত কল্যাণপুর, টেকনিক্যাল, গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কে চাপ কম যানবাহনের। পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও যানবাহনের চাপ নেই সিগন্যালগুলোতে।
টেকনিক্যাল মোড়ে কথা হয় উত্তরাগামী যাত্রী আফজালের সঙ্গে। তিনি বলেন, সাভার থেকে ছেড়ে আসা বাস থেকে টেকনিক্যালে নেমেছি। উত্তরা যাওয়ার মতো সরাসরি কোনো বাস পাচ্ছি না এখানে। অপেক্ষা করছি।
দেড় ঘণ্টায় সরেজমিনে দেখা যায়, ইতিহাস, ডি-লিংক, সেলফি, রাজধানী, বৈশাখী, এসবি লিঙ্ক, সাভার পরিবহন, ঠিকানা পরিবহনসহ বেশ কিছু বাস চলাচল করছে। সেসব বাসে ঠাসা যাত্রী। নতুন যাত্রী তোলার মতো অবস্থা নেই
তবে গণপরিবহনের তুলনায় অন্যান্য যানবাহন বেশি চলাচল করতে দেখা যায় সড়কে। এরমধ্যে রয়েছে, ট্রাক, পিকআপ, মিনি ট্রাক, ময়লার গাড়ি, সিমেন্ট কোম্পানির গাড়ি, লরিসহ পণ্যবাহী পরিবহন।
গাবতলী পর্বতা সিগন্যালে ডিউটিরত ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেন জানান, ভোরে ও সকালে কিছু দূরপাল্লার বাস ঢাকায় ঢুকতে দেখা গেছে। এরপর আর চলছে না দূরপাল্লার কোনো বাস। যেসব বাস চলাচল করছে এসব আন্তঃজেলা ও সাভার থেকে ঢাকার ভেতরে চলাচল করে। এর সংখ্যাও আজ কম। এই সিগন্যালে সাধারণ সময়ে নিঃশ্বাস নেওয়া যায় না। এতো ব্যস্ত সময় পার করতে হয়। সেসবের কিছুই নেই আজ।
অনেকক্ষণ পর একটি মোটরসাইকেলে ওঠেন সোহরাব আলী নামে এক যাত্রী। তিনি বলেন, অফিস বন্ধ থাকলে না ঠিক ছিল। হরতালে অফিস খোলা। গুলশান যাওয়ার মতো কোনো বাসের দেখা পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে রাইডে মোটরসাইকেলে ওঠা। আমার মতোই দশা অন্য সাধারণ যাত্রীদের।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে ও একদফা দাবি আদায়ে দেশব্যাপী রোববার সকাল ছয়টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো।
রাত থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশে শুরু হয়েছে পিকেটিং, বাসসহ পরিবহন পোড়ানোর মতো ঘটনা। যার প্রভাবে খা খা করছে গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল।