October 9, 2026, 3:19 pm
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যথাসময়ে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কে চোখ রাঙাল আর কে চোখ বাঁকাল তা আমি পরোয়া করি না।
মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ব্রাসেলস সফর নিয়ে অবহিত করতে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন— কোনো বিদেশি শক্তি কি আমাদের চোখ রাঙাচ্ছে, নির্বাচন কি যথাসময়ে হবে? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন যথাসময়ে হবে এবং সময়মতো হবে। কে চোখ রাঙাল আর কে বাঁকাল আমরা কোনো পরোয়া করি না। দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের জন্য অনেক সংগ্রাম করেই কিন্তু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। আর গণতন্ত্র থাকলে, নির্বাচিত সরকার থাকলে— বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে যে উন্নতি হয় এটা তো আপনারা বিশ্বাস করেন।
তিনি বলেন, মাত্র ১৪ বছরে দেশের অভূতপূর্ব যে উন্নয়ন ও পরিবর্তন হয়েছে তা দৃশ্যমান। এ উন্নয়ন যে শুধু ঢাকা শহরের মেট্রোরেল বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে তা নয়, উন্নয়ন ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে, তৃণমূলে।
প্বরধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রত্যেকটি উন্নয়ন পরিকল্পনা মাফিক করেছি। তৃণমূলের যে পরিবর্তন হয়েছে তা আপনারা নিজেরা দেখে আসুন। কাজেই কে চোখ রাঙাল আর কে বাঁকাল তাদের পরোয়া করার সময় নেই।
কোন শক্তি চোখ রাঙাচ্ছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কে রাঙ্গাচ্ছে এটা আপনারা বোঝেন না? আমার বলতে হবে কেন?
সংলাপ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, কার সঙ্গে সংলাপ করব। ট্রাম্প সাহেবের সঙ্গে কি বাইডেন সংলাপ করছে? যেদিন ট্রাম্পের সঙ্গে বাইডেন সংলাপ করবে সেদিন আমিও সংলাপ করব
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপি ২০১৩ সালে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। ২০১৩-১৪ ও ১৫— এই তিনটা বছর তাদের অগ্নিসন্ত্রাসের আক্রমণ চলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক বাস মালিকদের আমরা আর্থিকভাবে সহায়তা দিয়েছিলাম। যেন তারা ব্যবসা চালাতে পারে। এবারও যাদের বাস পুড়েছে তাদেরকেও সহায়তা দেওয়া হবে।’
গত ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে ঘটা সহিংসতার জন্য বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি যে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন এসব ঘটনায় তা আবার প্রমাণ হয়েছে।
২৮ অক্টোবরের সহিংসতার ঘটনা নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কানাডার কোর্ট বারবার বলেছে বিএনপি-জামায়াত জোট সন্ত্রাসী জোট, তারা (বিএনপি) আবার সেটি প্রমাণ করলো। মাঝে কিছুটা রাজনৈতিক কর্মসূচি তারা পালন করেছে। আমাদের সরকারও কোনো বাধা দেয়নি। ধীরে ধীরে আস্থা অর্জন শুরু করেছিল। তবে ২৮ তারিখের ঘটনায় ধিক্কার ছাড়া আর কিছুই তাদের জুটবে না।
বিএনপির ডাকা তিনদিনের অবরোধ প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, ‘কীসের অবরোধ, কার জন্য অবরোধ। যখন দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, সারা বিশ্ব প্রশংসা করছে, তাদের কাজটাই হলো উন্নয়ন নস্যাৎ করা।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে নিজেরাই পালাল, পালিয়ে গিয়ে এখন আবার অবরোধের ডাক। কীসের অবরোধ? কার জন্য অবরোধ? যখন সারা বিশ্ব বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে প্রশংসা করছে তখন তাদের কাজ হলো বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা। বাংলাদেশের এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, দেখাবে বাংলাদেশে কিছুই হয়নি। তাদের হামলার শিকার একদিকে পুলিশ, আর হচ্ছে সাংবাদিক। এদের ওপর তারা হামলা চালিয়েছে। সেগুলো কারা করেছে, তাদের নাম ডাক….। তারা তো প্রকাশ্যে করেছে। শুধু তাই নয়, গতকাল তারা লালমনিরহাটে আমাদের যুবলীগের একজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এভাবে হত্যা করা আর মানুষের সম্পদ নষ্ট করা, আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করাই তাদের চরিত্র। হঠাৎ কেন সাংবাদিকদের ওপর তারা চড়াও হলো? সাংবাদিকরা তাদের পক্ষে ভালো ভালো নিউজ দিচ্ছিল, টকশোতে ভালো ভালো কথা, বরং সরকারের দোষটাই সাংবাদিকরা বেশি দেখে। তাহলে তাদের রাগটা কেন সাংবাদিকদের ওপর হলো? সেটাই বুঝতে পারলাম না।’
খুনিদের সঙ্গে কীসের সংলাপ, ট্রাম্পের সঙ্গে বাইডেনের যেদিন সংলাপ হবে সেদিন দেখব
বিএনপিকে খুনিদের দল আখ্যা দিয়ে দলটির সঙ্গে সংলাপের বিষয়টি একরকম উড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, খুনিদের সঙ্গে আবার কীসের বৈঠক?
মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের নির্বাচন নিয়ে শর্তহীন সংলাপে বসার আহ্বান জানানো প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কার সঙ্গে সংলাপ? বিরোধী দলের সঙ্গে। কোন বিরোধী দল? বিরোধী দলটা কে? সংসদীয় নিয়মে বিরোধী দলের একটা ব্যাখ্যা আছে। বিরোধী দল হচ্ছে, সেই দল যাদের সংসদে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি আছে। এর বাইরেরগুলো পরিগণিত হয় না। আমেরিকায়ও হয় না। ট্রাম্পকে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) কী বলবে? যদিও আমরা তাদের মতো সরকার ব্যবস্থায় নেই। এটা মাথায় রাখতে হবে।’
সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গাজায় যেমন ইসরায়েল হাসপাতালে হামলা করল বিএনপি একই কায়দায় পুলিশ হাসপাতালে হামলা করেছে। মনে হয়, ইসরায়েল আর ওদের মধ্যে ভালো একটা সমঝোতা আছে। ঠিক একইভাবে ওখানেও শিশু-নারী হত্যা। এরাও এখানে পুলিশ হত্যা করছে। আমি কোনো তফাৎ দেখি না।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিএনপি বা জামায়েত এরা কিন্তু এখন পর্যন্ত টু শব্দ করছে না। অথচ আমরা সবসময় কিন্তু ফিলিস্তিনের সঙ্গে আছি। তাদের জনগণের সঙ্গে সবসময় আছি। আমি আন্তর্জাতিকভাবে যেখানে যাই তাদের কথা বলি। তাদের ন্যায্য অধিকার কিন্তু ফেরত দিতে হবে, এটাই আমরা চাই।’
প্রসঙ্গত, গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে অংশ নিতে গত ২৪ অক্টোবর বেলজিয়ামে যান প্রধানমন্ত্রী। ২৫ ও ২৬ অক্টোবর ওই ফোরামে যোগ দেন তিনি। ফোরামের ফাঁকে ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্র ও লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী জেভিয়ার বেটেলের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা।
২৫ অক্টোবর ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন, নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইউরোপীয় বাণিজ্য কমিশনার ভালদিস ডোমব্রোভস্কিসের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকের পর বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ৩৫ কোটি ইউরোর একটি ঋণ সহায়তা, সাড়ে ৪ কোটি ইউরোর একটি অনুদান এবং একই খাতে বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় কমিশনের মধ্যে ১ কোটি ২০ লাখ ইউরোর অনুদান চুক্তি সই হয়।
এছাড়া সামাজিক খাতের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় কমিশনের মধ্যে ৭ কোটি ইউরোর আরও পাঁচটি অনুদান চুক্তি হয়।
২৬ অক্টোবর বেলজিয়ামে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। ২৭ অক্টোবর দেশে ফিরে আসেন তিনি।