October 9, 2026, 3:31 pm

বিএনপিকে ঠেকাতে মাঠে আগেই নামার চিন্তা

বিএনপিকে ঠেকাতে মাঠে আগেই নামার চিন্তা

আগামী শনিবার বিএনপির মহাসমাবেশ সামনে রেখে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগেই মাঠে নামার পরিকল্পনা নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিরোধী দল যেন কর্মসূচির নামে কোনো ধরনের ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে এরই মধ্যে দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মসূচির নামে অস্থিতিশীলতা ও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে বিএনপিকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না- এমন হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করা হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।

আজ বুধবারের প্রতিনিধি সভা থেকে আওয়ামী লীগের নেতারা এ বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা দিতে চলেছেন। দলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহ, ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন আসনের এমপি, ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির মেয়র এবং ঢাকার আশপাশের জেলার দলীয় নেতারা এ প্রতিনিধি সভায় অংশ নেবেন। ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায়, থানা ও ওয়ার্ডে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে মাঠের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডের ইউনিট কমিটিগুলোকেও সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে বিএনপির মহাসমাবেশের দিন ‘শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ’ আয়োজনের মাধ্যমে তারা বড় ধরনের শোডাউন করবেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। দিনটি ঘিরে দলটির সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোও তৎপর থাকবে। সমাবেশে ব্যাপক জমায়েত ঘটাতে এবং রাজধানীর প্রবেশদ্বারগুলোতে সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এরই মধ্যে ঢাকার আশপাশের জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা। একটি সূত্র জানিয়েছে, সমাবেশে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি সুনিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত নেতা জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শনিবারের ‘শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ’ সফল করতে এরই মধ্যে বিশেষ বর্ধিত সভা করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে বিশেষ বর্ধিত সভা হয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারাও এ সভায় অংশ নেন। সেখানে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি গণতন্ত্র রক্ষা নয়, ধ্বংসের জন্য লড়াই করছে। আওয়ামী লীগ শান্তি চায়। অশান্তি চাইলে বিএনপি এতদিনে একটা সমাবেশও করতে পারত না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শান্তি চায়। আমরা ক্ষমতায় থেকে অশান্তি কেন চাইব? তবে এবার অশান্তি করতে আসলে দেখিয়ে দিব অশান্তি কাকে বলে।’

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘২৮ অক্টোবর উত্তাল সমুদ্র দেখতে চাই। বিক্ষুব্ধ বঙ্গোপসাগরের গর্জন শুনতে চাই। আমরা শান্তি চাই। তবে কেউ অশান্তি করতে আসলে খবর আছে। অনেক সহ্য করেছি। সহ্যের সীমারেখা আছে। ৪০ দল নিয়ে সমাবেশ করবে। স্বপ্ন রে স্বপ্ন। বিএনপির সে রঙিন সে খোয়াব, ফাঁপানো বেলুন চুপসে যাবে। একটু অপেক্ষা করুন।’

১০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী শনিবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটের সামনে সমাবেশে ১০ লাখ মানুষের জমায়েত ঘটিয়ে বড় ধরনের শোডাউন দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। এই জনসমাগম ঘটাতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি ওয়ার্ডকে উপস্থিতির সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হবে। ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোকেও টার্গেট বেঁধে দেওয়া হবে একইভাবে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সমন্বয়ক ও দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেন, (গতকাল) মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিশেষ বর্ধিত সভায় শনিবারের কর্মর্সূচির বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হবে। আগামী শনিবার আওয়ামী লীগের সমাবেশটি ‘ঐতিহাসিক’ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এরই মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডের ইউনিট কমিটিগুলোকে কর্মসূচি পালনের জন্য দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, ‘বিএনপির যেকোনো অপতৎপরতা ঠেকাতে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারের বিশেষ বর্ধিত সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কাকে কী করতে হবে। বিএনপিকে আমরা কোনো ধরনের সুযোগ দিতে চাই না।’

আগেই মাঠে নামার পরিকল্পনা

গতকালের প্রতিনিধি সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিনিধি নেতাদের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেবেন। আজ বুধবার থেকেই নগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করার মধ্য দিয়ে মাঠের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নয়, দেশবাসীর মধ্যেও সন্দেহ রয়েছে। সুযোগ পেলেই অতীতের মতো বিএনপি আবারও জ্বালা-পোড়াও শুরু করবে। শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আগে থেকেই মাঠে থাকবে। বুধবারের পর থেকে নানা ধরনের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠবে।’

৩০ অক্টোবর জনসভা করবে ১৪ দল

আগামী ৩০ অক্টোবর ঢাকায় জনসভা করবে ১৪ দলীয় জোট। গতকাল রাজধানীর ইস্কাটনে জোটের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুর বাসায় জোটের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে জনসভার কথা জানান আমির হোসেন আমু।

আমির হোসেন আমু বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলের সাম্প্রতিক তৎপরতা আমাদের দেশের মানুষের কাম্য নয়। দেশেও একটা পক্ষের সংবিধানবিরোধী কার্যক্রমে মনে হয়, তাদেরই তারা অনুসরণ করছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে। এ ধারা অব্যাহত থাকা দরকার। এজন্য সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হতে হবে। এতে আমাদের জোটের সমর্থন আছে। ১৪ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধভাবেই নির্বাচনে অংশ নেবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে প্রস্তুত ১৪ দল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিনে গণহত্যা চলছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। আমরা এ গণহত্যার নিন্দা জানাই। অবিলম্বে এ যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানাই।’

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com