October 12, 2026, 4:20 am

ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক-এবিবির ভিন্ন বক্তব্য

ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক-এবিবির ভিন্ন বক্তব্য

গাড়ি কেনাসহ বিভিন্ন ভোক্তা ঋণের সর্বোচ্চ সুদ হার ১২ শতাংশে উন্নীত করেছে অনেক ব্যাংক। তাদের দাবি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মৌখিক নির্দেশনায় এ হার বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সুদ হার বাড়ানোর মতো কোনো নির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) বাংলা‌দেশ ব্যাংকে ব্যাংকার্স সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী পরিচালক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা।

সভা শেষে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি অ্যান্ড সিইও সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ভোক্তা ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার মৌখিকভাবে ১২ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে আমরা বাস্তবায়নও করেছি।

এ বিষয়ে লিখিত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব বিষয়ে লিখিত নির্দেশনার প্রয়োজন হয় না। মৌখিকভাবেও অনেক নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদ হার বাড়ানোর বিষয়ে কোনো মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদের বিষয়টি সার্কুলার জারি করে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। এটি এখনও বহাল আছে। ভোক্তা ঋণের ক্ষেত্রে বাড়ানোর প্রয়োজন হলে আবারও প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংকে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদারকি করছে। কোনো ব্যত্যয় বা অনিয়ম পেলে নিশ্চয়ই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, মাসখানেক আগে আমানতকারীরা টাকা উঠিয়ে নিচ্ছিল। কিন্তু বিশ্বাসের সেই সংকট কেটে গেছে। আমানতকারীরা পুনরায় টাকা ফেরত দিচ্ছেন। ব্যাংকে রাখছেন। এছাড়া বাণিজ্য ঘাটতি অনেকটাই কমে এসেছে। সহসাই ডলারসহ সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট কেটে যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি।

বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, নিয়‌মিত ব্যাংকার্স সভায় সামগ্রিক অর্থনীতিসহ ব্যাংক খা‌তের সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নি‌য়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম আসন্ন রমজান মা‌সে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা। এজন্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ঋণপত্র (এলসি) সহজ করার বিষয় এমডিদের বলা হয়েছে। এ ক্ষে‌ত্রে এলসি খোলার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থে‌কে সব ধরনের নীতি সহায়তা দেওয়া হ‌বে।

রোজায় প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল, পেঁয়াজ, খেজুর, ফলমূল এবং চিনিসহ নিত্যপণ্যের আমদানি অর্থায়নের ক্ষেত্রে মার্জিনের হার ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার জন্যও পরামর্শ দেওয়া হয়ে‌ছে ব‌লেও জানান মুখপাত্র।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষি খা‌তে সর্বোচ্চ ঋণ সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। যেকোনো মূল্যে এই খাতের রিডের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হবে যদি কোনো ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয় তাহলে তা পূরণের জন্য যাদের সক্ষমতা আছে তাদের সহযোগিতায় এ লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।

মুখপাত্র বলেন, সম্প্র‌তি ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গেলে আমানতদারীদের ব্যাংকাররা বি‌ভিন্ন প্রশ্ন করে টাকার উৎস জান‌তে চান। এতে গ্রাহকরা টাকা জমা দি‌তে গি‌য়ে জবাব‌দি‌হিতার মু‌খে প‌ড়ে বিভ্রান্ত হ‌চ্ছেন। তাই এখন থে‌কে অন্তত ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা দিতে যাওয়া কোনো গ্রাহককে অতিরিক্ত প্রশ্নের মুখোমুখি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com