October 13, 2026, 8:29 pm
দেশে ডলার সংকট নিরসনে রিজার্ভ থেকে ডলার ছাড় করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়েছে। রিজার্ভ কমে ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছে। অন্যদিকে সম্প্রতি ডলার কারসাজি করে দাম বাড়ানো হয় খোলাবাজারে। এ মার্কেটের সিন্ডিকেটের হাতেই ছিলো ডলারের লাগামহীন দর।
তবে এসব সমস্যা আর সংকট কাটাতে এরইমধ্যে নড়েচড়ে বসেছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় শুরু হয়েছে অভিযান। খোলাবাজারে ডলারের লাগামহীন দাম নিয়ন্ত্রণে এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোতেও আভিযানিক দলের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ধীরে ধীরে ডলার মজুতের কারসাজি কিছুটা হ্রাস পায়, ডলারপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কমে আসে দাম।
তবে রিজার্ভ থেকে ডলার সরবরাহ আর কেদ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া দর বেশ কাজে এসেছে। বাড়তি লাভের আশায় অতিরিক্ত ডলার কেনা থেকে বিরত হন সাধারণ ক্রেতারা। গত কদিনে এক্সচেঞ্জ হাউস এলাকাগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় কমেছে। একই অবস্থা খুচরা বিক্রেতাদের ক্ষেত্রেও। তারা বলছেন, এখন ডলারের সরবরাহ বেশি রয়েছে, সে তুলনায় ক্রেতা কম। ফলে দামও কমেছে ডলারের। আগামী দু-একদিনের মধ্যে দাম আরও কমার আভাস এক্সচেঞ্জ হাউস ও খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের।
সোমবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ হাউসে ১০৮ থেকে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সায় ডলার কেনাবেচা চলছে। খুচরা পর্যায়ে ১১০ থেকে ১১১ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে কেনাবেচা হচ্ছে ডলার। দেশের তফলিসি ব্যাংকে বেচাকেনা চলছে ৯৫ থেকে ৯৬ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে আন্তঃব্যাংকে ৯৫ টাকায় ডলার বিক্রি হচ্ছে। আন্তঃব্যাংক থেকে এ দামে অন্য ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনে থাকে।
বর্তমানে ডলার বেচাকেনার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের ২০০টি এডি শাখা রয়েছে। সম্প্রতি ২৩টি ব্যাংক নতুন ৬৬৬ শাখায় বৈদেশিক মুদ্রা (অনুমোদিত ডিলার বা এডি শাখা) লেনদেনের অনুমতি চেয়েছে। যেখানে ২৩৫টি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের অনুমতি রয়েছে। তবে অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জের সংখ্যা এর দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। নগদ ডলার কেনাবেচার জন্য মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের ওপরই বেশি নির্ভরশীল গ্রাহকেরা।