October 16, 2026, 9:40 am

ভাড়াটিয়াদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

ভাড়াটিয়াদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

রাজধানীর বাসিন্দাদের পরিচিত বিড়ম্বনার নাম বাসা ভাড়া। মাসজুড়ে যা আয় হয় তার সিংহভাগই চলে যায় বাসা ভাড়ায়। বিকল্প না থাকায় বছরের পর বছর বাড়তি ভাড়া দিয়েই এ নগরীতে বাস করতে হয় মানুষকে। নতুন করে যোগ হয়েছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। যার প্রভাব পড়বে বাসা ভাড়ায়ও।

বাসিন্দারা বলছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাসা ভাড়া তো বাড়বেই, পাশাপাশি সব খরচ বৃদ্ধি পাবে। এতে ব্যয়বহুল এ শহরে টিকে থাকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে অনেকের মনে।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২৫ বছরে রাজধানীতে বাড়িভাড়া বেড়েছে ৪০০ শতাংশ। একই সময়ে নিত্যপণ্যের যে দাম বেড়েছে সেই তুলনায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধির হার দ্বিগুণ।

আরও পড়ুন : সিপিবি-বাসদের অপেক্ষায়, জামায়াতের সঙ্গে হচ্ছে না আনুষ্ঠানিক সংলাপ

সংগঠনটির অন্য এক পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকার ২৭ শতাংশ ভাড়াটিয়া আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ, ৫৭ শতাংশ ভাড়াটিয়ার প্রায় ৫০ শতাংশ, ১২ শতাংশ ভাড়াটিয়া আয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ টাকা ব্যয় করেন বাসা ভাড়া পরিশোধে। এ অবস্থায় গতকাল রাত ১২টার পর জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা, পেট্রোলের দাম ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা এবং অকটেনের দাম ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। বাড়তি দামের প্রভাব পড়বে জীবন যাত্রার সব ক্ষেত্রে।

রাজধানীর মিরপুর কাজীপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকেন বেসরকারি চাকরিজীবী তোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, এমনিতে গত কয়েক মাস ধরে সব জিনিস কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। গত জানুয়ারিতে একবার বেড়েছে বাসা ভাড়া। আমার যে বেতন তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি প্রতি মাসেই। এরই মধ্যে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, যার প্রভাব পড়বে প্রতিটি ক্ষেত্রেই। সবজি, মাছ মাংস, নিত্যপণ্যের দাম যেমন বাড়তি হবে, তেমনি গাড়ি ভাড়াও বেড়ে যাবে। এতে বাসার মালিকরাও ফের বাসা ভাড়া বাড়িয়ে দিতে পারেন। এ অবস্থায় আমাদের মতো নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষ যারা ঢাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে আছি তাদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যাবে। অনেকে টিকতে না পেরে ইতোমধ্যেই ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার চিন্তা করছেন।

রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় দুই রুমের এক বাসায় ১৪ হাজার টাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন সাজেদুর রহমান নামে বেসরকারি চাকরিজীবী। তিনি বলেন, একটি কোম্পানিতে মার্কেটিং বিভাগে কাজ করি ৩৫ হাজার টাকা বেতনে। এর মধ্যে মাসের শুরুতেই অর্ধেক টাকা বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করতে চলে যায়। এছাড়া ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ, চিকিৎসা খরচ, যাতায়াত খরচসহ আরও নানা খরচ আছে। এরপর অবশিষ্ট টাকা দিয়ে কোনো মতে সংসার চালাতে হয়, বর্তমানে বাজারের যে অবস্থা তাতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে প্রতি মাসেই ধার দেনা করতে হয়। বাজার থেকে ভালো কিছু কেনা তো দূরের কথা, কোন মতে টিকে আছি। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো, এর প্রভাব পড়বে সব ক্ষেত্রেই। ফলে জীবন যাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে। আগামীতে এই শহরে টিকে থাকতে পারব কি না এটা নিয়েই সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com