October 16, 2026, 1:36 am
নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় এবার অলিগলির ছোট হোটেল গুলোও দাম বাড়িয়েছে পরোটার। ৫ টাকার পরোটা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০টাকা। যার কারণে যারা সকালের নাস্তাটা হোটেলেই সারেন বিশেষ করে একেবারে গরিবশ্রেনী তারা পড়েছেন বিপাকে। অনেকেই দুটোর জায়গায় একটি পরোটা দিয়েই সারছেন সকালের নাস্তা। এদিকে হোটেল মালিকরা বলছেন, ৮০ টাকার তেল যদি ১৬০ টাকা হয় তাহলে কিভাবে ৫ টাকায় পরোটা বিক্রি করি। ৫ টাকায় পরোটা বিক্রি করলে লাভ তো দূরে থাক পুজিই হারাতে হবে।
রুটি-পরোটার দাম বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ‘দাওয়াত-ই-ঢাকা হোটেলের’ মালিক মো. সাগর বলেন, পরোটার দাম আমরা বাধ্য হয়ে বাড়িয়েছি। কারণ আট-ময়দার দাম বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেড়ে গেছে। এতদিন প্রতি পিস পরোটা ৫ টাকায় বিক্রি করে আমাদের লোকসান হতো। আমরা আর কত লোকসান দেব। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। দুবছর ধরে করোনার মধ্যেও আমরা লসে বিক্রি করেছি, কিন্তু আমরা পারছি না। তাই ৫ দিন আগে আমরা এই এলাকার যেক’টি হোটেল আছে সব মালিক বসে রুটি-পরোটার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন আগেও ৫০ কেজির এক বস্তা ময়দা আমরা কিনেছি ১ হাজার ৮৩০ টাকায়, এখন তা কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ১৫০ টাকায়। এ ছাড়া ভোজ্য তেলের দাম বেড়েই চলেছে। এর আগে গ্যাসের দাম বেড়েছে। হোটেলের কর্মচারীদের আগে দিনে ৪০০ টাকা করে দিতাম, এখন তাদের দিতে হচ্ছে ৫০০ টাকা। তা হলে সব দিকে খরচ বাড়ছে, সেখানে শুধু আমরা পরোটায় ৫ টাকা দাম বাড়িয়েছি, তাও বাধ্য হয়ে।
একই ধরনের কথা বললেন পাশের নোয়াখালী হেটেলের মালিক নাদিম মিয়াও। তিনি বলেন, আটা-ময়দাসহ সব কিছুর দাম যে হারে বেড়েছে তাতে রুটি-পরোটার দাম বাড়ানো ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না। এ ছাড়া ঢাকার কোনো এলাকার হোটেলে ৫ টাকায় রুটি-পরোটা মিলবে না। সেখানে আমরা এতদিন কম দামে বিক্রি করে আসছিলাম, কিন্তু এখন আর পারছি না। নিরুপায় হয়ে আমরা রুটি-পরোটার দাম বাড়িয়েছি।
এদিকে হঠাৎ রুটি-পরোটার দাম দ্বিগুণ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এসব হোটেলে খেতে আসা অনেকেই। শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি খেতে এসেছিলেন নোয়াখালী হোটেলে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই হোটেলে আমি দুপুরের খাবার এবং সন্ধ্যার নাশতা খাই। কিন্তু হঠাৎ দেখছি কয়েক দিন ধরে রুটি-পরোটার দাম ডাবল হয়ে গেছে। প্রথম দুদিন আমি প্রতিবাদ করেছি, জানতে চেয়েছি একবারে কেন ডাবল করা হলো দাম। তারা বলেছেন, আটা-ময়দা এবং তেলের দাম বেড়েছে। আচ্ছ বুঝলাম দাম বেড়েছে সব কিছুর, তাই বলে একেবারে দ্বিগুণ হয়ে যাবে দাম- এটা তো মেনে নেওয়া যায় না। এভাবে সব জায়গায় সব কিছু দাম যদি বাড়ায় তা হলে আমরা যারা সাধারণ মানুষ তারা কোথায় যাব?’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাঁঠালবাগান এলাকার এসব হোটেলের পাশাপাশি রাজধানীর অন্যান্য এলাকায়ও দাম বাড়ানো হয়েছে রুটি-পরোটাসহ হোটেলের অন্যান্য খাবারের।