October 14, 2026, 9:23 am

এক থেকে চার সপ্তাহের মধ্যেই আইপিওর অনুমোদন

এক থেকে চার সপ্তাহের মধ্যেই আইপিওর অনুমোদন

চেক বুক বা সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে এক থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে ভালো কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের মানসিকতা পরিবর্তন হচ্ছে। তারা এখন মানি মার্কেটের পরিবর্তে ক্যাপিটাল মার্কেট থেকে অর্থ নিতে আসছেন। আগামী প্রান্তিকের মধ্যে দেখবেন দেশের খ্যাতনামা গ্রুপগুলোর ভালো ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে।

রোববার রাজধানীর ফারস হোটেলে শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তির প্রতিবন্ধকতা ও সমাধানের উপায় শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, অনেকে অভিযোগ করেন আইপিওর অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনেক সময়ক্ষেপণ হয়। মূলত আমরা সময়ক্ষেপণ করি না। যেসব কোম্পানি সঠিক কাগজপত্র দেয়, তাদের ৭-২৮ দিন কিংবা এক থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে অনুমোদন দেই। আমরা কয়েকটি কোম্পানিকে অনুমোদন দিয়েছি।

শিবলী রুবাইয়াত বলেন, যখন কোনো কোম্পানি ছলচাতুরীর মধ্যমে পুঁজিবাজারে আসতে চায় তারা সঠিক কাগজপত্র দিতে পারে না। তাদের কাছে কাগজপত্র চাইলে এক সপ্তাহ সময়ের জায়গায় তিন মাস, ছয় মাস পার হয়ে যায় কিন্তু তারা সেই কাগজপত্র নিয়ে আসতে পারে না। পরে তারা আমাদের দোষ দেয়, যে আমরা আইপিওর অনুমোদন দিচ্ছি না। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। ছলচাতুরীর আশ্রয় নেওয়া কোম্পানির তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, আইপিওকে আনা, অডিটরদের শাস্তি দেওয়া কিংবা দেশের অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য রোড শো করাও আমাদের কাজ না। কিন্তু এগুলো করছি দেশকে ভালোবেসে। দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে রোড শো করেছি, আমরা দেশের অবস্থা তুলে ধরেছি। ফলে সেসব দেশ থেকে বিনিয়োগ আসতে শুরু করেছে।

বিদেশি প্রতিষ্ঠান তো ১০-২০ কিংবা ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করবে না। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। ফলে বিনিয়োগ করতেও সময়ে লাগছে। বিদেশের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি বিভাগেও রোড শো করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম ২ শতাংশ এবং যৌথভাবে কোম্পানির ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবেই। কারণ যে ব্যক্তি ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করবে না, সে এমডি কিংবা চেয়ারম্যান হয়ে ৭০ শতাংশ শেয়ারধারীদের জন্য কী করবেন? ৭০ শতাংশ শেয়ার হোল্ডারদের স্বার্থেই এই আইন করা হয়েছে। এই আইন থাকবে।

আইপিওতে আবেদনসহ কোম্পানির সব কার্যক্রম যাতে অনলাইনে করা যায় সেই ব্যবস্থা করছি। একটি প্রকল্প দেওয়া হচ্ছে। আশা করি আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে সবকিছু অনলাইনে করতে পারব।

বিজনেস আওয়ারের উপদেষ্টা আকতার হোসেন সান্নামাতের সভাপতিত্বে সেমিনারের বক্তব্য রাখেন বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দীক ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ছায়েদুর রহমান।

বিজনেস আওয়ারের সম্পাদক ও প্রকাশক আমিরুল ইসলাম নয়নের উপস্থাপনায় সেমিনারের মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন দা ইনস্টিটিউট অব কস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) প্রেসিডেন্ট মো. মামুনুর রশীদ।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com