July 28, 2026, 3:05 am

‘অবসরের’ পরদিনই তামিমের সেঞ্চুরি

‘অবসরের’ পরদিনই তামিমের সেঞ্চুরি

তাকে নিয়ে সমর্থকদের ছিল দু’টি পক্ষ। কেউ তামিম ইকবালের স্ট্রাইক রেটকে কাঠগড়ায় তুলে বলেছেন, টি-টোয়েন্টিতে ‘অচল’, আবার কেউ বলেছেন টি-টোয়েন্টিতে ‘ফিরে আসুন’ তামিম! অনেক জল্পনার পর তামিম গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, আগামী ৬ মাস আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট নিয়ে ভাববেন না। জানিয়েছেন, বাকিরা দুর্দান্ত পারফর্ম করুক, যাতে তাকে দরকার না পড়ে।

এমন ঘোষণার পর বুকে পাথর জমলেও দায়িত্বের দিক থেকে বেশ নির্ভার তামিম। অন্তত তার স্ট্রাইক রেটকে ‘অচল’ আখ্যায়িত করার সুযোগ কম। সেই ‘ভারমুক্ত’ তামিম আজ (শুক্রবার) দেখালেন টি-টোয়েন্টির আসল রূপ। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে জয়ের ধারায় ফেরালেন নিজের দল মিনিস্টার ঢাকাকে। সঙ্গে আক্ষেপ বাড়ালেন সমর্থক আর বোর্ডের। এই তামিম অন্তত ৬ মাস টি-টোয়েন্টি খেলবেন না, এটি যে মেনে নেওয়া সহজ নয় মোটেও!

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেট সানরাইজার্সের মুখোমুখি হয় ঢাকা। এ ম্যাচে আগে ব্যাট করা সিলেট লেন্ডন সিমন্সের শতকের উপর ভর করে স্কোর বোর্ডে তোলে ১৭৫ রান। লক্ষ্য টপকাতে নেমে শুরু থেকে আগ্রাসী তামিম। বিপিএলের চলতি মৌসুম তো বটেই, টুর্নামেন্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মুশফিকুর রহিমকে টপকে সেরার মুকুট তুলেছেন মাথায়। তামিমের শতকের কল্যাণে সিলেটকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে ঢাকা। এতে টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেল ঢাকা।

এদিন সিলেটের দেওয়া ১৭৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামার ঢাকার ওপেনিং জুটি দেখে মনেই হয়নি আগের ৪ ম্যাচের ৩টি হেরেছে তারা। তাসকিন আহমেদের করা প্রথম ওভার থেকে ৭ রান নেন দুই ওপেনার তামিম ও শাহজাদ। দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ওভারে তুলে নিলেন ১২, ১৫, ১২, ১৫ করে। এতে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ঢাকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭৪ রান। ফিফটির দেখা পান তামিম। পঞ্চাশ রানের কোটা ছুতে খেলেন ২৮ বল।

দলীয় ৯ ওভারে ওপেনিং পার্টনারশিপে ১০০ রান যোগ করেন দু’জন। সে জুটি গিয়ে ভেঙেছে একেবারে শেষে, যখন জয় থেকে কেবল একটা শটের দূরত্বে ঢাকা। তামিমের পর সিলেটের বোলারদের শাসন করে ফিফটি তুলে নেন শাহজাদ। ফিফটি ছুঁয়েছেন ৩৪ বলে।

নিজের ফিফটির পর তামিমের আরো বিধ্বংসী রূপের দেখা পায় সিলেট। পরে ৬১ বলে ছুঁয়েছেন তিন অঙ্ক। ১৬ চার ও ৩ ছয়ে নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি ওপেনার। পরে শাহজাদ ৩৯ বলে ৫৩ রান করে আউট হন আলাউদ্দিন বাবুর বলে। যেখানে ৭টি চারের সঙ্গে ছক্কা মারে ১টি। পরে জয়ের জন্য ৩ রান বাকি থাকলে সেই আনুষ্ঠানিকতা সারেন তামিম। ৬৪ বলে ১৭টি চার ও ৪টি ছয়ের সাহায্যে ১১১ রান তুলে অপরাজিত থাকেন তিনি। এতে ৯ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ঢাকা। হাতে থাকে ১৮ বল।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা সিলেট উদ্বোধনী জুটিতে ভালো শুরু পায়। এনামুল হক বিজয় আর সিমন্স গড়েন ৫০ রানের পার্টনারশিপ। পেসার এবাদত হোসেনকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বিজয় ১৬ বলে ১৮ রান করে আউট হলে ভাঙে এই জুটি। মিঠুন ও কলিন ইনগ্রাম সুবিধা করতে পারেননি। মিঠুন ৮ বলে ৬ রান করে ফেরেন কাইস আহমেদের গুগলিতে পরাস্থ হয়ে। কলিন ইনগ্রামকে ফিরতি ক্যাচ নিয়ে রানের খাতা খুলতে দেননি মাশরাফি বিন মুর্তজা।

 

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com