October 7, 2026, 7:12 am

এখন থেকে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, অধ্যাদেশ জারি  

এখন থেকে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, অধ্যাদেশ জারি  

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের যে খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে, তা আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের অধিবেশন না থাকায় তা আজ অধ্যাদেশের মাধ্যমে কার্যকর করা হলো।

এর আগে গতকাল সোমবার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০০০’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রাখার পাশাপাশি আরও দুটি সংশোধনী আনা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলো যৌতুকের ঘটনায় মারধরের ক্ষেত্রে (ধারা ১১-এর গ) সাধারণ জখম হলে তা আপসযোগ্য হবে। এ ছাড়া এই আইনের চিলড্রেন অ্যাক্ট-১৯৭৪-এর (ধারা ২০-এর ৭) পরিবর্তে শিশু আইন ২০১৩ প্রতিস্থাপিত হবে।

সম্প্রতি নোয়াখালীতে এক নারীকে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে রাজধানীসহ দেশজুড়ে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের ঝড় উঠে। মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে গত ৮ দিন ধরে।

এসব কর্মসূচি থেকে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ডের’ দাবি উঠে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার আইন পরিবর্তনের পদক্ষেপ নেয়।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবি এসেছে, তাই সরকার তা
বিবেচনায় নিয়েছে।

পাশবিকতা থেকে নারীদের রক্ষায় ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

পাশবিকতা থেকে নারীদের রক্ষা করতে আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গণভবন থেকে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০২০ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সময় প্রচুর এসিড নিক্ষেপ হতো। সেটাকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি।  ধর্ষণ… আমি বলব একটা মানুষ পশু হয়ে যায়। সে জন্যই তাদের মধ্যে এই যে পাশবিকতা, তার ফলে আজকে আমাদের মেয়েরা ক্ষতিগ্রস্ত।

সেই জন্য আমরা এই আইনটি সংশোধন করি। ধর্ষণ করলে যাবজ্জীবনের সাথে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ইতোমধ্যে আমরা ক্যাবিনেটে আইন পাস করে দিয়েছি।

যেহেতু পার্লামেন্ট সেশন নাই, অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যেকোনো সমস্যা দেখা দিলে সেটা মোকাবিলা করা এবং সেটাকে দূর করার লক্ষ্যে নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সারাবিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা কথা মাথায় রাখতে হবে যে, আমাদের দেশে ঘূর্ণিঝড় হবে, জলোচ্ছ্বাস হবে, বন্যা হবে, ভূমিকম্প হবে, অগ্নিকাণ্ড হবে, নদী ভাঙন আছে, খরা আছে; এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিনিয়ত আসতে থাকবে। কিন্তু সেগুলো মোকাবিলা করে আমাদের বাঁচতে হবে। মোকাবিলা করে বাঁচতে হলে আমাদের কী করণীয় সেই কথাটা চিন্তা করে সবসময় পূর্বপ্রস্তুতিও নিতে হবে। আমরা কিন্তু সেটাই করে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলা করে মানুষকে রক্ষা করা, যানমাল বাঁচানো, তাদের নিরাপদ রাখা এবং তাদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা- এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কাজ। আমরা এই ব্যাপারে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি।

দুর্যোগ মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন,  কীভাবে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করা যয়, কীভাবে মানুষ নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারে টেলিভিশন-রেডিওর মাধ্যমে নিয়মিত প্রচার এবং কিছু কিছু প্রদর্শনী এটা একান্ত দরকার। স্কুল থেকেই আমাদের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষাটা দিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এই শিক্ষাটা দিতে হবে। এই ব্যবস্থাটা আমরা নিচ্ছি এবং আমাদের নিতে হবে।

গণভবন প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি তাজুল ইসলাম, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন প্রমুখ।

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন অধ্যাদেশে সই করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। জাতীয় সংসদের অধিবেশন না থাকায় এটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইনে পরিণত হলো।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com