August 18, 2026, 9:47 pm

সক্রিয় বন্ড মার্কেট দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করবে

সক্রিয় বন্ড মার্কেট দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করবে

বন্ড বাজার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অর্থায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বাংলাদেশে একটি পূর্নাঙ্গ বিশ্বমানের বন্ড মার্কেট বাস্তবায়ন করতে হবে। একটি সক্রিয় বন্ড মার্কেট এর বিকাশ আর্থিক অবকাঠামো গভীর করার ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী সুফল বয়ে আনবে। এটি দেশী বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সাহায্য করবে এবং স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের তাদের সম্পদ বরাদ্দ প্রক্রিয়া আরও ভালোভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রণোদনা প্রদান করবে ।

চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৩টি বন্ডের লেনদেন শুরু উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিএসইর পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম এসব কথা বলেন। সম্প্রতি আল-অরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এআইবিএল মুদারাবা পারপিচুয়াল বন্ড, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের এসজেআইবিএল মুদারাবা পারপিচুয়াল বন্ড এবং ইসলামী ব্যাংকের আইবিবিএল সেকেন্ড পারপিচুয়াল মুদারাবা বন্ডের লেনদেন শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিএসইর সম্মানিত পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম, স্থপতি সোহাইল মোহাম্মদ শাকুর এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম ফারুক এবং আল-অরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও বন্ডের ইস্যূ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লি, ইসলামী ব্যাংক ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এবং প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এর প্রতিনিধিরা।

স্বাগত বক্তব্যে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম ফারুক বলেন, বাংলাদেশে বন্ড মার্কেট খুবই ছোট। বাংলাদেশের জিডিপিতে বন্ডের অবদান নামমাত্র। কোম্পানীগুলোর মূলধন সংগ্রহে ব্যাংক ঋনের উপর বেশী নির্ভরশীল হওয়ায় এই বাজারে গভীরতা বাড়েনি। বন্ডের কম সরবরাহ বন্ড বাজার বিকাশের জন্য অনুকূল নয়। একটি কার্যকরী বন্ড বাজার থাকলে, সরকার মেগা অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সহজেই তহবিল সংগ্রহ করতে পারত। বন্ডগুলি ইক্যুইটির জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং স্বল্পমেয়াদী অর্থায়নের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। বন্ডগুলি যদি ক্রমান্বয়ে শেয়ারবাজারে ট্রেডিং হওয়া শুরু হয়, তবে বন্ড মার্কেটের আকারও বৃদ্ধি পাবে একই সাথে শেয়ারবাজারে পণ্যের বৈচিত্রতা আসবে। আর সেক্ষেত্রে শেয়ারবাজার জিডিপি বৃদ্ধির ধারা ৮% ধরে রাখার পাশাপাশি এসজিডি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহযোগী খাত হিসাবে উন্মোচিত হবে।

ইস্যুয়ার এবং ইস্যু ব্যবস্থাপক এর প্রতিনিধিগণ তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, তারা বেশ আনন্দিত এবং এই কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হতে পেরে। তারা সিএসইকে সাথে নিয়ে বন্ড মাকেট প্রসারের বিভিন্ন প্রশিক্ষন ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে আগ্রহী।

সমাপনী বক্তব্যে সিএসইর পরিচালক স্থপতি সোহাইল মোহাম্মদ শাকুর বলেন, আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে অর্থনীতির বিকাশ, বেসরকারী খাতের উন্নয়ন, শেয়ারবাজারের অর্থাভাব দূর এবং ব্যাংক খাতের নির্ভরশীলতা কমাতে শক্তিশালী বন্ড মার্কেটের বিকল্প নেই। সেই উন্নয়নের ধারা বর্তমান কমিশনের নেতৃত্বেই আমরা সফল হতে চলেছি । আমাদের সরকার এবং বিএসইসি একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে আগ্রহী। আমরা এখন উন্নত দেশের আদলে Yield Based বন্ড মার্কেট উন্নয়নের জন্য কাজ করছি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, মোহাম্মদ নাদিম এফসিএ, সিএফও এবং ডিএমডি, আল-আরাফাহ ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড, সাদেক, এফসিএ, সিএফও, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মো. জেকিউএম হাবিবুল্লাহ, এফসিএস, ডিএমডি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ড. মো. তবারক হোসেইন ভূঁইয়া, এমডি এন্ড সিইও, প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টম্যান্ট লিমিটেড এবং তানজিম আলমগীর, সিইও, ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, মো. মনিরুল হক, মো. মর্তুজা আলম, চিফ রেগুলেটরি অফিসার (এ্যাক্টিং), ডিজিএম এন্ড হেড অব ক্লিয়ারিং এন্ড লিস্টিং এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত ৩১ অক্টোবর সিএসইতে লার্জ স্কেল পাইলটিং এর আওতায় বিএসইসির সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন মেয়াদে ০৪ টি সরকারী ট্রেজারী বন্ডের লেনদেন শুরু হয়েছে। যা শেয়ারবাজারের জন্য মাইলফলক।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com