October 15, 2026, 5:42 am
দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেই তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে সিন্ডিকেট ভেঙে দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন।
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আইন ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ড. সুফী সাগর সামস, বাংলাদেশ সংবাদপত্র (গণমাধ্যম) কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান তালুকদার, বাংলাদেশ পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান এম ইব্রাহিম পাটোয়ারি, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফেডারেশন সভাপতি বিদ্যুৎ বিশ্বাস, মানবাধিকারকর্মী এম ইদ্রিস, সাংবাদিক নেতা কালিমুল্লা ইকবালসহ আরও অনেকে। মানববন্ধন অনুষ্ঠানে মানবাধিকারকর্মী, ছাত্র-অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকসহ প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আজিম উদ্দিন, এমএ কাসেম, রেহানা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, বেনজীর আহমেদসহ বোর্ড অব ট্রাস্টির সিন্ডিকেটের দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে তাদের অব্যাহতি প্রদান, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
আইন ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ড. সুফী সাগর সামস বলেন, এত অনিয়ম-দুর্নীতি করার পরও বহাল তবিয়তে রয়েছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের এ সদস্যরা। এদের কেউ কেউ ব্যাংকেরও পরিচালক। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বাংলাদেশ ব্যাংককে উল্লিখিত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন-আইন ও সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের লিখিত অভিযোগ, পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরসহ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টিদের বিরুদ্ধে একগাদা অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে দুদক। এর অংশ হিসাবে এরই মধ্যে নর্থ সাউথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমে যেন কোনোমতেই কালক্ষেপণ করা না হয়-এমন দাবি জানিয়ে মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, অভিযুক্তরা অনেক বেশি শক্তিশালী। তারা অনেকটা প্রকাশ্যেই পেশির জোর দেখিয়ে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। অবৈধ অর্থের জোরে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানানো হয়। এর আগে একাধিকবার ইউজিসির তদন্ত দল নর্থ সাউথের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু কী এক অদৃশ্য খুঁটির জোরে নর্থ সাউথের দুর্নীতিবাজ ট্রাস্টিরা বারবার থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। নর্থ সাউথের মতো একটি প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের ভয়াল থাবা থেকে বাঁচাতে এবার যেন কোনোমতেই ছাড় দেওয়া না হয়, বক্তারা এমন দাবি তুলে ধরেন।
আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের এক লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় দুর্নীতির মূল হোতা আজিম-কাসেম সিন্ডিকেটের এমএ কাসেমের সঙ্গে তারেক রহমানের গোপন আঁতাতের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এর প্রমাণস্বরূপ তারেক রহমানের সঙ্গে এমএ কাসেমের ঘনিষ্ঠতার বিভিন্ন স্থিরচিত্র উপস্থাপন করা হয়। এই এমএ কাসেমসহ আজিম উদ্দিন, রেহানা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, বেনজীর আহমেদ সিন্ডিকেটের আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত দ্রুত শেষ করা ও তাদের বিচারের আওতায় এনে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান বক্তারা।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আজিম-কাসেম সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কম মূল্যের জমি বেশি দামে ক্রয়, ডেভেলপার্স কোম্পানি থেকে কমিশন নেওয়া, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয়, ১ লাখ টাকা করে সিটিং অ্যালাউন্স, অনলাইনে মিটিং করেও সমপরিমাণ অ্যালাউন্স গ্রহণ, নিয়ম ভেঙে ফান্ডের কোটি কোটি টাকা নিজেদের মালিকানাধীন ব্যাংকে এফডিআর, মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করে কয়েকগুণ শিক্ষার্থী ভর্তি, অতিরিক্ত বিভাগ খোলা, হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গি নাফিস ইমতিয়াজকে পুনরায় ভর্তি করে জঙ্গি আতঙ্ক তৈরিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।