October 13, 2026, 9:58 pm

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সুশীল সমাজের ক্ষতি করছে: দেবপ্রিয় 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সুশীল সমাজের ক্ষতি করছে: দেবপ্রিয় 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মতামত প্রকাশের জন্য সুশীল সমাজের ক্ষতি করছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
বুধবার মুজিব বর্ষ ও বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেন্টার পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত সম্মেলনের তৃতীয় দিনের দিনের ‘বাংলাদেশের সিভিল সোসাইটির উন্থান এবং চ্যালেজ্ঞ’ শীর্ষক প্রথম অধিবেশনে এই  দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য  মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে গড়ে ওঠা সমাজই সিভিল সোসাইটি। সমাজ ব্যবস্থায় সিভিল সোসাইটির ভ‚মিকা অনেক। । উদাহরণ সরূপ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন সিভিল সোসাইটির মাধ্যমে হয়েছিলো। পরবর্তী সময়ে যুক্ত ফ্রন্ট গঠন ও শিক্ষা আন্দোলন এমন কী আমাদের স্বাধীন্তার সংগ্রামের সিভিল সোসাইটর ভ‚মিকা ছিলো অনেক।  ১৯৭১ সাল থেকে ৭৫ সাল পর্যনদ বাংলাদেশে বৃহৎ সিভিল সোসাইটি গড়ে ওঠে যদিও বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর কিছু মানুষ থেমে যায়। এরশাদের পতন ঘটায় এই সিভিল সোসাইটি।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে  সুশীল সমাজের ভ‚মিকা উলে­খ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ২০০০ সালেও সুুশীল সমাজ , সমাজ গঠনের জন্য নানা মুখী পদক্ষেপ নিত। গণতন্ত্রের জন্য কথা বলতো। কিন্তু এখন তা খুব কম দেখা যায়। বাংলাদেশে নতুন গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করে ১৯৯০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর দেখা যায় এই নতুন গণতন্ত থেকে সুশীল সমাজ বিচ্ছিন্ন হয়। তিনি বলেন , আমরা বর্তমানে হাইব্রিড গণতন্ত্র নিয়ে বাসকরছি। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে পর্যন্ত রাজনৈতিক দণগুলো সুশীল সমাজের মতামত শুনতো কিন্তু এখন তারা তা শোনে না।
সম্মেলন ‘সামাজিক রূপান্তর’ শীর্ষক আজকের সেশনের অধিবেশনে সঞ্চালনা করেন ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে বিকাশ অর্থনীতি ও পরিবেশের অধ্যাপক বিনা আগরওয়াল। তিনি শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, আমি প্রথমে বাংলাদেশের পঞ্চাশ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই। আজকের সেশনে আলোচনা করবো ৫০ বছরে বাংলাদেশের অগ্রগতি, উন্নয়ন, এবং আগামীর সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে। আজকের সেশনের মোট তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। যেখানে আলোনা হবে জেন্ডার ইকুয়িটি, সিভিল সোসাইটির ভ‚মিকাসহ নান বিষয়।
‘বিতর্কিত ক্ষমতায়ন: নারী উন্নয়ন ও পরিবর্তন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন ইউনির্ভাসিটি অব সাকসেস এর গবেষণা ফেলো ড. সোহেলা নাজনীন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতিতে নারীর অনেক অবদান রয়েছে। নারী ক্ষমতায়ন বেড়েছে কিন্তু তা অসম গেিতত। এই অসম গতির জন্য তিনি নীতিনির্ধারনের অভাবকেই দায়ি করেছেন। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সমাজে নারীর অবদান ও নারীর সুযোগ ও ক্ষমতায়নের দিক দিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ গুলোর থেকে পিছিয়ে আছে।
তিনি বলেন, এখনও বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার অনেক বেশি। আর করোনার কারনে তা নতুন করে বৃদ্ধি পেপেয়েছে। লঙ্গিক বৈষম্য বেড়েছে। নারীদেরেকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হচ্ছে না। তবে একটি ক্ষেত্রে বৈল্ববিক পরিবর্তন এসেছে তা হলো তৈরি পোশাক শিল্পখাত। এইখাতে নারীর অংশগ্রহন আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে চিন্তার বিষয় যে নারীদের তাদের বেতনের জন্য রাস্তায় নামতে হচ্ছে। তাদের বেতন ঠিকমত বাড়ছে না।
তিনি বলেন, আমরা দেখছি এখনও নারীরা তাদের ঘরে নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে। দেশে আইন থাকলেও তারা সেই আইনে মাধ্যমে শতভাগ উপকৃত হতে পারছে না। বাড়িও তাদের জন্য নিরাপদ হচ্ছে না অনেক ক্ষেত্রে।’ নারীর ক্ষমতায়নে পেছনে একটি রাজনৈতীক উদ্দেশ্য আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি তার প্রবন্ধে উলে­খ করেন, বাংলাদেশে নারীরা এখনও অর্থনীতিতে অবদান সূচকে ১২০ এর উপন স্কোর। যেখানে ভারত ও পাকিস্থানের নারীরা ১৪০ এর উপরে সূচক স্কোরে অবস্থান করছে। এবং তিনি নারীর রাজনৈতীক ক্ষেত্রে অংশগ্রহনে বাংলাদেশের নারীদের করুন অবস্থা তুলে ধরেন।
একই বিষয়ে আরেকটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে গিয়ে জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন বিভাগের সাবেক পরিচালক ড. সেলিম জাহান বলেন, ৫০ বছরে আমাদের উন্নয়ন হয়েছে অনেক। আমরা এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নই। ৩৫ বিলিয়নের অর্থনীতি এখন ৩৩গ বিলিয়েনে পৌছে গেছে। আমরা দেশের উন্নয়নের জন্য গর্ব করি। তবে এই উন্নয়নে নারীর অবদান খুবই কম। তার একটি কারণ হতে পারে আমরা নারীদের উন্নয়ন কাজে যুক্ত করতে সেভাবে যুত্ত করতে পারি নি।
নারী পুরুষের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এখনও অনেক কম। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুরুষরা যেখানে ৮১ শতাংশ কর্মক্ষম, সেখানে নারীরা ৩০ শতাংশ কর্মক্ষেত্রে যুক্ত আছে। আবার শিক্ষাক্ষেত্রেও দেখা যায় বৈষম্য বরিশালে যেখানে ৭৫ শতাংশ নারী শিক্ষিত সেখানে সিলেটে ৬০ শতাংশ।
তিনি আরো বলেন, ‘ আমাদের সমাজে একেক জনের একেক রকম মতামত থাকতে পারে সেক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে সহনশীল হতে হবে একজনের কথা অন্য জনকে শুনতে হবে। তা না হলে সহিংসতা আমাদের ভাষা, এবং জঙ্গিবাদ আমাদের কালচার হয়ে যাবে।
সম্মেলেনরে প্রথম অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আরো যুক্ত ছিলেন, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো রওনাক জাহান, সেন্টার ফল পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com